📌 হিমালয় অঞ্চলে ভয়াবহ ধস ও বন্যায় নেপালে নিহত ৯৩৯, নিখোঁজ ৪ হাজারের বেশি। প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় কার্যকর আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন
হিমালয় অঞ্চলে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ দুর্যোগকে জলবায়ু পরিবর্তনের ফল বলে উল্লেখ করেছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ। তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন। গত সপ্তাহে চীন-নেপাল সীমান্তে হিমবাহধসে সৃষ্ট কাদাপানি ও পাথরের ঢলে এখন পর্যন্ত ৯৩৯ জন নিহত এবং প্রায় সাড়ে ৪ হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে নেপাল সরকার।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 হিমালয় অঞ্চলে হিমবাহধসে সৃষ্ট ভয়াবহ দুর্যোগকে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বলে উল্লেখ করেছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ
- 📌 গত সপ্তাহে চীন-নেপাল সীমান্তে ঘটা ধসে নিহত ৯৩৯ জন এবং নিখোঁজ প্রায় সাড়ে ৪ হাজার মানুষ
- 📌 নেপাল সরকারের মতে, দুর্যোগ পরবর্তী পুনর্গঠনে কয়েক বিলিয়ন ডলার ব্যয় হতে পারে
- 📌 হিমালয় ও হিন্দুকুশ অঞ্চলের হিমবাহের ওপর নির্ভরশীল প্রায় ২৪ কোটি মানুষের জীবন-জীবিকা
📰 বিস্তারিত
হিমালয় অঞ্চলে গত সপ্তাহে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ দুর্যোগকে ‘সাধারণ কোনো ঘটনা নয়’, বরং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এটি ঘটেছে বলে মন্তব্য করেছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ। তিনি এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন। চীন-নেপাল সীমান্তে হিমবাহধসে কাদাপানি ও পাথরের ঢল নামে গত সপ্তাহে। এতে এখন পর্যন্ত অন্তত ৯৩৯ জন নিহত হন। নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় সাড়ে ৪ হাজার মানুষ।
নেপাল সরকার বলছে, এ দুর্যোগের পর পুনর্গঠনে কয়েক বিলিয়ন ডলার ব্যয় হতে পারে। প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, ‘রাসুয়ার ভোটেকোশি নদীতে আসা ঢল কোনো সাধারণ বন্যা ছিল না। হিমালয় অঞ্চলে তুষার ও বরফের বিশাল ধসের কারণে এটি ঘটেছে। এটি ছিল এ অঞ্চলের অন্যতম বড় দুর্যোগ।’
ধসের সঠিক কারণ এখনো স্পষ্টভাবে জানা যায়নি। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে হিমবাহ গলছে। এতে এ ধরনের দুর্যোগের ঝুঁকিও বাড়ছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বতমালা হিমালয়ের হিমবাহ দ্রুত গলছে। প্রায় তিন কোটি মানুষের দেশ নেপাল মূলত গ্রামীণ অর্থনীতিনির্ভর। বৈশ্বিক উষ্ণায়নের জন্য দায়ী গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনে দেশটির দায় খুব সামান্যই। অথচ জলবায়ু পরিবর্তনের বিপজ্জনক পরিণতি মোকাবিলা করতে হচ্ছে নেপালকে।
‘এ ঘটনা ইঙ্গিত দেয়, জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে হিমালয় অঞ্চলে আমরা যেসব ঝুঁকির মুখোমুখি হচ্ছি, সেগুলোও বাড়ছে। তাই এ অঞ্চলকে অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে।’ — বালেন্দ্র শাহ, নেপালের প্রধানমন্ত্রী
হিমালয় ও হিন্দুকুশ পর্বতমালার বিস্তীর্ণ অঞ্চলের হিমবাহ পার্বত্য এলাকায় বসবাসকারী প্রায় ২৪ কোটি মানুষের পানির গুরুত্বপূর্ণ উৎস। এ ছাড়া দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার নদী উপত্যকায় বসবাসকারী আরও প্রায় ১৬৫ কোটি মানুষ প্রত্যক্ষ–পরোক্ষভাবে এ হিমবাহের পানির ওপর নির্ভরশীল।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চীন-নেপাল সীমান্ত অঞ্চল
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: নিহত ৯৩৯ জন, নিখোঁজ প্রায় ৪ হাজার মানুষ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!