📌 গিনি-বিসাউতে আগামীকাল অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া গণভোটে দেশটির প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা হবে কি না তা নির্ধারণ করা হবে। সামরিক অভ্যুত্থানের নয় মাস পর এবং আগামী ডিসেম্বরে নির্বাচনের তিন মাস আগে এই ভোট দেশটির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে
পশ্চিম আফ্রিকার ক্ষুদ্র দেশ গিনি-বিসাউয়ের জনগণ আগামীকাল অর্থাৎ ৩০ আগস্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ গণভোটে অংশ নেবেন। এই ভোটে দেশটির সংবিধান সংশোধন করে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা হবে কি না তা নির্ধারণ করা হবে। দেশটির রাজনৈতিক ব্যবস্থায় এই পরিবর্তন দেশটির নির্বাচনী ব্যবস্থাকেও নতুন রূপ দেবে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 গণভোটের মাধ্যমে দেশটির সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাব অনুমোদিত হলে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।
- 📌 সামরিক অভ্যুত্থানের নয় মাস পর এবং আগামী ৬ ডিসেম্বরের নির্বাচনের তিন মাস আগে এই গণভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
- 📌 সামরিক অভ্যুত্থানের পর দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন জেনারেল হর্তা ইনতা-আ না মান।
- 📌 দেশটির জাতীয় অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদ (সিএনটি) গত ১৩ জানুয়ারি সংবিধান সংশোধনের খসড়া অনুমোদন করে।
- 📌 প্রস্তাবিত সংবিধানে প্রেসিডেন্টকে সরকার গঠন ও বাতিলের ক্ষমতা দেওয়া হবে এবং প্রধানমন্ত্রীর ভূমিকা হ্রাস করা হবে।
- 📌 সংসদের আসন সংখ্যা ১০২ থেকে কমিয়ে ৬৫ এবং নির্বাচনী এলাকা ২৯ থেকে কমিয়ে ১২ করা হবে।
- 📌 প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থীদের জন্য স্থায়ীভাবে দেশে বসবাসের পাঁচ বছরের শর্ত এবং ৫০ মিলিয়ন পশ্চিম আফ্রিকান সিএফএ ফ্রাঁ (প্রায় ৯০ হাজার মার্কিন ডলার) জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে।
- 📌 রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য প্রার্থীকে সমর্থন করার ক্ষেত্রে কমপক্ষে ৫ হাজার সদস্য এবং প্রতিটি অঞ্চলে কমপক্ষে ৩০০ সদস্য থাকার শর্ত আরোপ করা হয়েছে।
📰 বিস্তারিত
গিনি-বিসাউয়ের রাজনৈতিক ইতিহাস বারবার সামরিক অভ্যুত্থান ও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হয়েছে। দেশটি ১৯৭৪ সালে পর্তুগাল থেকে স্বাধীনতা লাভ করে। স্বাধীনতার পর থেকেই দেশটিতে বারবার সামরিক অভ্যুত্থান ও রাজনৈতিক সংকট দেখা দিয়েছে। বর্তমান সংবিধানের অধীনে দেশটি একটি অর্ধ-প্রেসিডেন্সিয়াল ব্যবস্থা অনুসরণ করে, যেখানে নির্বাহী ক্ষমতা প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ভাগ করা থাকে। প্রস্তাবিত সংবিধান এই ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
গণভোটের মাধ্যমে অনুমোদিত হলে প্রেসিডেন্টকে সরকার গঠন ও বাতিলের ক্ষমতা দেওয়া হবে, প্রধানমন্ত্রীর ভূমিকা হ্রাস করা হবে এবং মন্ত্রিসভার সভাপতিত্ব করার ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের হাতে থাকবে। এছাড়া নতুন মন্ত্রণালয় গঠন বা বিলুপ্ত করার ক্ষমতাও প্রেসিডেন্টকে দেওয়া হবে। প্রস্তাবিত সংবিধানে সংসদের আসন সংখ্যা ১০২ থেকে কমিয়ে ৬৫ এবং নির্বাচনী এলাকা ২৯ থেকে কমিয়ে ১২ করা হবে।
প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থীদের জন্য স্থায়ীভাবে দেশে বসবাসের পাঁচ বছরের শর্ত এবং ৫০ মিলিয়ন পশ্চিম আফ্রিকান সিএফএ ফ্রাঁ (প্রায় ৯০ হাজার মার্কিন ডলার) জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য প্রার্থীকে সমর্থন করার ক্ষেত্রে কমপক্ষে ৫ হাজার সদস্য এবং প্রতিটি অঞ্চলে কমপক্ষে ৩০০ সদস্য থাকার শর্ত আরোপ করা হয়েছে। প্রস্তাবিত সংবিধানে একটি সাংবিধানিক আদালত প্রতিষ্ঠারও প্রস্তাব করা হয়েছে।
"এই সংশোধনী দেশটির রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করবে এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে বিরোধ কমিয়ে আনবে।" — সংবিধান সংশোধনের সমর্থকরা
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: গিনি-বিসাউ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: জেনারেল হর্তা ইনতা-আ না মান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: আসন সংখ্যা ১০২ থেকে ৬৫, নির্বাচনী এলাকা ২৯ থেকে ১২, প্রার্থী জমা ৫০ মিলিয়ন সিএফএ ফ্রাঁ, দলের সদস্য ৫ হাজার, অঞ্চলভিত্তিক সদস্য ৩০০
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!