📌 বিশ্বজুড়ে বিভাজনের রাজনীতি ও জাতীয়তাবাদের বিপরীতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রতি মানুষের সমর্থন ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, ৫৫ শতাংশ মানুষ তাদের জাতীয় স্বার্থে সামান্য ছাড় দিয়ে হলেও বৈশ্বিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় সরকারকে সমর্থন করবেন
বিশ্ব রাজনীতিতে ক্রমবর্ধমান বিভাজন ও জাতীয়তাবাদের বিপরীতে মানুষের মধ্যে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রতি আগ্রহ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উঠে এসেছে যে, বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় মানুষ নিজেদের জাতীয় স্বার্থের কিছু অংশ বিসর্জন দিতে প্রস্তুত। রকফেলার ফাউন্ডেশনের পক্ষে পরিচালিত জরিপে অংশ নেওয়া ৩৬ হাজারের বেশি মানুষের মধ্যে ৫৫ শতাংশ জানিয়েছেন, তারা আন্তর্জাতিক সহযোগিতার জন্য জাতীয় স্বার্থে সামান্য ছাড় দিতে রাজি। বিপরীতে মাত্র ২০ শতাংশ মানুষ এই ধারণার বিরোধিতা করেছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ব্রিটেনের নতুন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামকে পারমাণবিক হামলার পরিণতি নিয়ে সামরিক বাহিনীকে নির্দেশনা দিতে হবে
- 📌 ইউরোপের মানুষের মধ্যে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে
- 📌 জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, সৌদি আরবসহ ৭টি দেশ নিজেদের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পরিকল্পনা করছে
- 📌 বিশ্বের ৭০ শতাংশ মানুষ চায় তাদের সরকার মানবাধিকার, জলবায়ু সংকট ও সাইবার নিরাপত্তায় পদক্ষেপ নিক
- 📌 যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও রাশিয়ার প্রতি মানুষের আস্থা কমছে, বরং কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও জাপানকে নেতৃত্বের সম্ভাব্য কেন্দ্র হিসেবে দেখা হচ্ছে
📰 বিস্তারিত
বিশ্ব রাজনীতিতে বিভাজনের রাজনীতি ক্রমেই প্রকট হয়ে উঠছে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধা হারিয়ে ফেলেছেন, আর চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং তাইওয়ানকে কেন্দ্র করে পুনরেকত্রীকরণের বিষয়টিকে অনিবার্য বলে ঘোষণা করেছেন। একইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান ও ওমানের বিরুদ্ধে গণহত্যার হুমকি দিয়েছেন। এসব ঘটনা বিশ্ববাসীকে নতুন করে বিভক্তির দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
তবে এই অন্ধকারাচ্ছন্ন সময়েও আশার আলো দেখা যাচ্ছে। রকফেলার ফাউন্ডেশনের জরিপে অংশ নেওয়া মানুষের মধ্যে ৫৫ শতাংশ জানিয়েছেন, তারা আন্তর্জাতিক সহযোগিতার জন্য জাতীয় স্বার্থে সামান্য ছাড় দিতে রাজি। বিপরীতে মাত্র ২০ শতাংশ মানুষ এই ধারণার বিরোধিতা করেছেন। অর্থাৎ, বিশ্ববাসী ক্রমেই জাতীয়তাবাদী নেতাদের বিরোধিতা করছে, যারা নিজেদের দেশকে গুটিয়ে রাখতে চায়।
জরিপে আরও উঠে এসেছে যে, বিশ্বের ৭০ শতাংশ মানুষ চায় তাদের সরকার মানবাধিকার রক্ষা করুক, জলবায়ু সংকট মোকাবিলা করুক এবং সাইবার নিরাপত্তায় পদক্ষেপ নিক। এছাড়া, ৮০ শতাংশ মানুষ এমন একটি বৈশ্বিক ব্যবস্থা চায়, যা শান্তি ও স্থিতিশীলতার পাশাপাশি মানুষের মর্যাদা রক্ষা করবে।
গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিজেদের সমাজে সক্রিয় এবং জাতিগত ও ধর্মীয় বিভাজন পেরিয়ে অন্যদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলে, তারা আন্তর্জাতিক সহযোগিতার পক্ষে ৫০ শতাংশ বেশি। তাই সীমান্তের ওপারে সহযোগিতা বাড়াতে হলে আগে নিজের দেশের সমাজ ও মানুষের মধ্যে সম্পর্ক শক্তিশালী করতে হবে।
"আমেরিকা সবার আগে", "রাশিয়া সবার আগে", "চীন সবার আগে"—এই চিন্তাধারা মানুষ ক্রমেই প্রত্যাখ্যান করছেন। মানুষ এখন বিশ্বাস করে যে, এক দেশ ভালো করতে হলে অন্য দেশকে খারাপ অবস্থায় যেতে হবে না।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বিশ্বব্যাপী
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: অ্যান্ডি বার্নহাম, ভ্লাদিমির পুতিন, সি চিন পিং, ডোনাল্ড ট্রাম্প
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫৫ শতাংশ, ২০ শতাংশ, ৭০ শতাংশ, ৮০ শতাংশ, ৫০ শতাংশ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!