📌 দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় আগ্নেয়গিরির বিস্ফোরণ থেকে শুরু করে পারমাণবিক যুদ্ধ, সৌরঝড় ও খাদ্য বাণিজ্যের বিঘ্নের মতো বিপদগুলো বিশ্বব্যাপী খাদ্যসংকট সৃষ্টি করতে পারে। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এই শতাব্দীতে এসব বিপদের ঘটনার সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্য। আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ছাড়া কোনো দেশ একা বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে পারে না
বিশ্বব্যাপী খাদ্যসংকটের সম্ভাবনা নিয়ে বিজ্ঞানীরা সতর্কতা জানিয়েছেন। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় একটি বিশাল আগ্নেয়গিরির বিস্ফোরণে আকাশে ছাই ও উত্তপ্ত গ্যাস ছড়িয়ে পড়লে বিমান চলাচল বন্ধ হয়ে যেতে পারে। আশপাশের শহর ধ্বংসের মুখে পড়বে, ফসল নষ্ট হয়ে যাবে এবং সালফার ডাই-অক্সাইডের কুয়াশা পৃথিবীতে সূর্যের আলো আটকে দিলে তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে কমে যাবে। ফলে আমেরিকা থেকে এশিয়া পর্যন্ত চরম দুর্ভিক্ষ দেখা দিতে পারে। এমন মহাবিপর্যয়ের সম্ভাবনা রয়েছে, যা বিশ্বজুড়ে ভয়াবহ খাদ্যসংকট সৃষ্টি করতে পারে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় আগ্নেয়গিরির বিস্ফোরণে আকাশে ছাই ও উত্তপ্ত গ্যাস ছড়িয়ে পড়লে বিশ্বব্যাপী খাদ্যসংকটের সম্ভাবনা তৈরি হবে
- 📌 সালফার ডাই-অক্সাইডের কুয়াশা পৃথিবীতে সূর্যের আলো আটকে দিলে তাপমাত্রা কমে যাবে, ফলে আমেরিকা থেকে এশিয়া পর্যন্ত দুর্ভিক্ষ দেখা দিতে পারে
- 📌 বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এই শতাব্দীতে ইন্দোনেশিয়ার তাম্বোরা আগ্নেয়গিরির মতো বিস্ফোরণের সম্ভাবনা ছয় ভাগের এক ভাগ
- 📌 পারমাণবিক যুদ্ধের ফলে বিশ্বের প্রায় ৯০ শতাংশ খাবার উৎপাদন বন্ধ হতে পারে
- 📌 সৌরঝড়ের আশঙ্কা প্রতি দশকে ১ থেকে ১২ শতাংশ, যা বিদ্যুৎ ব্যবস্থা অচল করে দিতে পারে
- 📌 মধ্যপ্রাচ্যের হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে গেলে বিশ্বজুড়ে খাবার উৎপাদনে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটতে পারে
- 📌 জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা সতর্ক করেছে, হরমুজ প্রণালি বন্ধের কারণে ২০২৭ সাল পর্যন্ত ফসলের উৎপাদন কমে যেতে পারে
- 📌 যুক্তরাজ্য ঝুঁকির তালিকায় ৮৯টি বিপদের কথা বললেও, কোটি কোটি মানুষের মৃত্যু হতে পারে এমন বিপদগুলোকে উপেক্ষা করেছে
📰 বিস্তারিত
বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, বর্তমান বিশ্বের অস্থিরতা যেমন কোভিড মহামারি, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ ও ইরান-ইসরায়েলের সংঘাত, এসবই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, সামনে আরও বড় সংকট অপেক্ষা করছে। বিশেষত, মধ্যপ্রাচ্যের হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে গেলে বিশ্বজুড়ে খাবার উৎপাদনে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটতে পারে। কারণ, সার কেনাবেচার একটা বড় অংশ এই পথ দিয়েই হয়। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা সতর্ক করেছে যে, এই পথ বন্ধের কারণে ২০২৭ সাল পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে ফসলের উৎপাদন কমে যেতে পারে।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, বর্তমান শতাব্দীতে ইন্দোনেশিয়ার তাম্বোরা আগ্নেয়গিরির মতো ভয়াবহ বিস্ফোরণের সম্ভাবনা ছয় ভাগের এক ভাগ। ১৮১৫ সালের সেই বিস্ফোরণের কারণে পৃথিবীতে এক বছরের জন্য গ্রীষ্মকালই আসেনি। আবার, ১৮৫৯ সালের মতো ভয়াবহ সৌরঝড়ের আশঙ্কা প্রতি দশকে ১ থেকে ১২ শতাংশ। এমন সৌরঝড় হলে মহাদেশের পর মহাদেশজুড়ে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা অচল হয়ে যাবে। পারমাণবিক অস্ত্র থাকা দেশগুলোও সব সময় কোনো না কোনো যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ছে, যা পারমাণবিক যুদ্ধের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।
এসব বিপদের সবচেয়ে বড় সাধারণ দিক হলো, প্রতিটির প্রভাব সরাসরি এসে পড়বে আমাদের খাবারের ওপর। বড় আগ্নেয়গিরির বিস্ফোরণ, পারমাণবিক যুদ্ধ বা গ্রহাণুর আঘাতের কারণে বায়ুমণ্ডলে ধূলিকণা ছড়িয়ে পড়বে, যা সূর্যের আলো আটকে দেবে। এতে আবহাওয়া খুব ঠান্ডা ও শুষ্ক হয়ে যাবে এবং ফসল ফলানো বন্ধ হয়ে যাবে। পারমাণবিক যুদ্ধ হলে বিশ্বের প্রায় ৯০ শতাংশ খাবার উৎপাদন বন্ধ হয়ে যেতে পারে। আবার সৌরঝড় হলে সার, কীটনাশক ও জ্বালানির অভাব দেখা দেবে, ফলে খাদ্য উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।
বিশ্বের বেশিরভাগ দেশ এসব বিপদ নিয়ে চিন্তাভাবনা করছে না। যারা একটু কাজ করছে, তাদের প্রস্তুতিও যথেষ্ট নয়। যুক্তরাজ্যের ঝুঁকির তালিকায় ৮৯টি বিপদের কথা বলা আছে, কিন্তু সেখানে খুব বড়জোর ১ হাজার মানুষের মৃত্যু বা কয়েক হাজার কোটি টাকার ক্ষতির হিসাব করা হয়েছে। কোটি কোটি মানুষের মৃত্যু হতে পারে এমন বৈশ্বিক দুর্ভিক্ষ বা পারমাণবিক যুদ্ধের মতো বড় বিপদের কথা তারা তালিকায় রাখেইনি। সুইজারল্যান্ডের মতো দেশ ঝুঁকির তালিকায় নানা বিপদের কথা বললেও সেগুলোর মাত্রা খুব ছোট করে ধরে।
"এই শতাব্দীতে ইন্দোনেশিয়ার তাম্বোরা আগ্নেয়গিরির মতো ভয়াবহ বিস্ফোরণের সম্ভাবনা ছয় ভাগের এক ভাগ। ১৮১৫ সালের সেই বিস্ফোরণের কারণে পৃথিবীতে এক বছরের জন্য গ্রীষ্মকালই আসেনি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য (হরমুজ প্রণালি), ইউক্রেন, রাশিয়া, ইরান, আমেরিকা, এশিয়া
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: বিজ্ঞানীরা, জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৯০% (খাদ্য উৎপাদন বন্ধ), ৬/১০ (আগ্নেয়গিরি বিস্ফোরণ সম্ভাবনা), ১-১২% (সৌরঝড় আশঙ্কা), ৮৯টি (বিপদ তালিকা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!