📌 ২২টি দেশের ১১০টি বন্দর থেকে ডকওয়ার্কাররা ৩০ অক্টোবর বিশ্বব্যাপী হরতালের মাধ্যমে গাজার যুদ্ধবিরোধী আন্দোলনে অংশ নিচ্ছেন। তাদের দাবি হলো গাজার গণহত্যা বন্ধ এবং ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সমর্থন বন্ধ করা। ডকওয়ার্কাররা বলছেন, তাদের হরতালের মাধ্যমে হাজারো জীবন বাঁচানো সম্ভব
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ডকওয়ার্কাররা ৩০ অক্টোবর বিশ্বব্যাপী হরতালের মাধ্যমে গাজার গণহত্যা বন্ধের দাবিতে আন্দোলন করছেন। এই আন্দোলনকে "ডকওয়ার্কার্স ডু নট ওয়ার্ক ফর ওয়ার" নামে পরিচিত করা হয়েছে এবং এটি ইতিহাসে অন্যতম বৃহত্তম ডকওয়ার্কারদের সমন্বিত কর্মসূচি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ২২টি দেশের ১১০টি বন্দর এবং ২৫টি ট্রেড ইউনিয়ন এই হরতালে অংশ নিচ্ছে, যার মধ্যে রয়েছে ফ্রান্স, ইতালি, ভারত, গ্রিস এবং তুরস্কের বন্দরসমূহ।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **২২টি দেশের ১১০টি বন্দর** থেকে ডকওয়ার্কাররা ৩০ অক্টোবর বিশ্বব্যাপী হরতালের মাধ্যমে গাজার যুদ্ধবিরোধী আন্দোলনে অংশ নিচ্ছেন।
- 📌 **২৫টি ট্রেড ইউনিয়ন** এই হরতালের সমর্থনে জড়িত, যার মধ্যে রয়েছে গ্রিসের ইএনইডিপি, ইতালির ইউএসবি এবং জার্মানির ভেরডি।
- 📌 **গ্রিস, ইতালি, ভারত, ফ্রান্স এবং তুরস্কের** বন্দরসমূহে ২৪ ঘণ্টা হরতালের আহ্বান জানানো হয়েছে, অন্যদের ক্ষেত্রে ২ ঘণ্টা থেকে ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত হরতালের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।
- 📌 **ডকওয়ার্কারদের দাবি**: গাজার গণহত্যা বন্ধ, প্যালেস্টাইন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি, ইসরায়েল-আমেরিকান যুদ্ধবিরোধী অবস্থান এবং মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশের জনগণের প্রতি সমর্থন।
- 📌 **মার্কোস বেক্রিস**, গ্রিসের ইএনইডিপির নেতা বলেছেন, "শস্ত্রপাত্রের পরিবহন, অবকাঠামো এবং শ্রমিকদের হাতের মাধ্যমে তা গন্তব্যে পৌঁছায়। সেখানে আমাদের শক্তি রয়েছে।"
- 📌 **মোহাম্মদ আল-আত্তার**, যিনি ২০১৫ সালে গাজা ত্যাগ করে জার্মানির হামবুর্গে বসবাস করছেন, বলেছেন, "আমরা যদি মাত্র দুই দিনের জন্য কাজ বন্ধ করি, তাহলে হাজারো জীবন বাঁচানো সম্ভব।"
- 📌 **ফ্রান্সেস্কো স্টাচিওলি**, ইতালির ইউএসবি ট্রেড ইউনিয়নের জাতীয় সম্পাদক বলেছেন, "যুদ্ধ প্রত্যাখ্যান করা মানবতার জন্য জীবনযাপনের সুযোগ দেয়। এটাই আমি বিশ্বাস করি।"
- 📌 **ইস্তাম্বুল ঘোষণা**তে ৩৫টি বন্দরের ইউনিয়নরা ৩০ অক্টোবরকে তাদের কর্মসূচির দিন হিসেবে ঘোষণা করে। তারা দাবি করেছেন, প্যালেস্টাইন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি এবং পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া উচিত।
📰 বিস্তারিত
২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে মধ্যসাগরীয় অঞ্চলের ডকওয়ার্কাররা একত্রিত হয়ে গাজার গণহত্যা এবং শোষণ বিরোধী কর্মসূচি গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়। প্রথমে পাঁচটি দেশের ২০টি বন্দরের ইউনিয়ন অংশগ্রহণ করেছিল, কিন্তু পরবর্তীতে এই আন্দোলন বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে। ইউনিয়নরা প্রথমে এথেন্সে, পরে জেনোয়া এবং শেষে ইস্তাম্বুলে বৈঠক করে। ইস্তাম্বুলে এই ইউনিয়নরা ২০২৬ সালের মে মাসে "ইস্তাম্বুল ঘোষণা" প্রকাশ করে, যেখানে তারা ৩০ অক্টোবরকে তাদের কর্মসূচির দিন হিসেবে ঘোষণা করে।
এই কর্মসূচির মূল দাবি হলো গাজার গণহত্যা বন্ধ এবং প্যালেস্টাইন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি। ইউনিয়নরা দাবি করেছেন, প্যালেস্টাইন রাষ্ট্রের সীমানা ১৯৬৭ সালের সীমানা অনুসরণ করতে হবে এবং পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া উচিত। তারা আরও দাবি করেছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরোধী অবস্থান বন্ধ এবং কিউবা, ভেনেজুয়েলা এবং সুদানের জনগণের প্রতি সমর্থন প্রদান করা উচিত।
এই আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী ইউনিয়নরা বলেছেন, তাদের কর্মসূচি শুধুমাত্র ডকওয়ার্কারদের নয়, বরং অন্যান্য শ্রমিক শ্রেণীরও সমর্থন পেয়েছে। গ্রিসে অন্যান্য শ্রমিক শ্রেণীও এই হরতালে অংশ নিচ্ছে, আর ইতালিতে ইউনিয়নরা সাধারণ হরতালের আহ্বান জানিয়েছে।
"নো হারবর ফর জেনোসাইড" (No Harbour for Genocide) নামের একটি প্রচার সংগঠন এই কর্মসূচির সমর্থনে কাজ করছে। তারা বলেছেন, সমুদ্রপথের অবকাঠামো গাজায় যুদ্ধবিরোধী পদক্ষেপের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
"শস্ত্রপাত্রের পরিবহন, অবকাঠামো এবং শ্রমিকদের হাতের মাধ্যমে তা গন্তব্যে পৌঁছায়। সেখানে আমাদের শক্তি রয়েছে।"
মোহাম্মদ আল-আত্তার, যিনি গাজা ত্যাগ করে জার্মানিতে বসবাস করছেন, বলেছেন, "আমরা যদি মাত্র দুই দিনের জন্য কাজ বন্ধ করি, তাহলে হাজারো জীবন বাঁচানো সম্ভব।" তিনি আরও বলেছেন, তার ট্রেড ইউনিয়ন ভেরডি গাজার বিষয়ে "অবিশ্বাস্য নীরবতা" বজায় রেখেছে, যা তাকে গভীরভাবে হতাশ করেছে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বিশ্বের ২২টি দেশের ১১০টি বন্দর (গ্রিস, ইতালি, ভারত, ফ্রান্স, তুরস্ক সহ)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মার্কোস বেক্রিস (গ্রিসের ইএনইডিপি নেতা), ফ্রান্সেস্কো স্টাচিওলি (ইতালির ইউএসবি ট্রেড ইউনিয়ন সম্পাদক), মোহাম্মদ আল-আত্তার (গাজার ডকওয়ার্কার, জার্মানিতে বসবাসকারী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২২টি দেশ, ১১০টি বন্দর, ২৫টি ট্রেড ইউনিয়ন, ৩০ অক্টোবর (হরতালের তারিখ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!