📌 গাজায় ইসরায়েলি হামলার কারণে ৭১ হাজার শিশু এতিম হয়েছে, এর মধ্যে ৩ হাজার শিশুর কোনো অভিভাবক নেই। ৬৪ হাজার নারী স্বামীহারা হয়ে পড়েছেন। যুদ্ধের ধ্বংসস্তূপে শিশু ও নারীদের জীবন অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে
গাজায় ইসরায়েলি সামরিক হামলা ও গণহত্যার কারণে ৭১ হাজার শিশু এতিম হয়েছে এবং ৬৪ হাজার নারী স্বামীহারা হয়ে পড়েছেন। এর মধ্যে প্রায় ৩ হাজার শিশুর কোনো নিবন্ধিত অভিভাবক বা দেখাশোনা করার মতো কেউই নেই। যুদ্ধের ধ্বংসস্তূপ, দারিদ্র্য, বাস্তুচ্যুতি ও আশ্রয়সংকটের মধ্যে এসব শিশু ও নারীদের জীবন ক্রমেই অনিশ্চিত হয়ে উঠছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ৭১ হাজার শিশু এতিম হয়েছে, এর মধ্যে ৩ হাজার শিশুর কোনো অভিভাবক নেই
- 📌 ৬৪ হাজার নারী স্বামীহারা হয়ে পড়েছেন, তাদের মধ্যে অনেকেরই নিজস্ব সন্তানও রয়েছে
- 📌 ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ৫৪ হাজার ৪৬৮টি শিশু তাদের বাবা-মায়ের একজন বা দুজনকেই হারিয়েছে
- 📌 তিন ভাইবোন (১৬, ১৪ ও ১২ বছর বয়সি) তাদের মা ও খালাদের সহায়তায় বেঁচে আছে, কিন্তু স্থায়ী আশ্রয় নেই
- 📌 ১০ বছর বয়সী ওয়াফা আল-আত্তার একমাত্র জীবিত সদস্য হয়ে পড়েছেন, পরিবারের পাঁচ সদস্যকে একসাথে হারিয়েছেন
📰 বিস্তারিত
গাজার সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি গণহত্যায় ৫৪ হাজার ৪৬৮টি শিশু তাদের বাবা-মায়ের একজন বা দুজনকেই হারিয়েছে। এই সংখ্যা ৭১ হাজার এতিম শিশু ও ৬৪ হাজার স্বামীহারা নারীর সামগ্রিক হিসাবের মধ্যে আগের বছরগুলোর ঘটনাও অন্তর্ভুক্ত করে। যুদ্ধের ধ্বংসস্তূপে শিশুদের জীবন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
তিন ভাইবোন মারিয়াম (১৬), আয়া (১৪) ও জিবরিল (১২) প্রতি দুই দিন পরপর এক খালার তাঁবু থেকে অন্য খালার তাঁবুতে যায়। তাদের বাবা ২০১৪ সালে ইসরায়েলি হামলায় হারিয়েছিলেন। ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার ১৯ দিন পর ইসরায়েলের একটি বোমা তাদের মা ইসলামের তাঁবুতে আঘাত হানে। তিন ভাইবোনের চোখের সামনেই মা নিহত হন। শিশুদের দেখাশোনা করছেন তাদের মায়ের দিকের খালারা, যারা নিজেও স্বামীহারা।
স্বামীহারা খালা ওয়ারদা আল-মুজেইনি বলেন, ‘আমরা তাদের মানসিকভাবে সামলে ওঠার চেষ্টা করি, বিশেষ করে সবচেয়ে ছোট জিবরিলকে। সে নিজের চোখের সামনে মাকে মারা যেতে দেখেছে।’ তিনি বলেন, ‘আমি নিজের চার সন্তানকে নিয়ে সংগ্রাম করছি, কিন্তু বোনের সন্তানদেরও দেখাশোনা করতে হচ্ছে, কারণ তাদের আর কেউ নেই।’
গাজার সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আজিজা আল-খালুত বলেন, এতিম শিশুদের দুর্ভোগ শুধু মা-বাবাকে হারানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। তারা নিরাপত্তা, যত্ন, শিক্ষা ও স্বাভাবিক শৈশব থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে। দারিদ্র্য ও বাস্তুচ্যুতির কারণে শিশুশ্রম ও অল্প বয়সে বিয়ের ঝুঁকি বাড়ছে।
"এতিম শিশুদের স্কুলছুট হওয়া ও অল্প বয়সে বিয়ের ঝুঁকি বাড়ছে। তারা নিরাপত্তা, যত্ন, শিক্ষা ও স্বাভাবিক শৈশব থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে।"
১০ বছর বয়সী ওয়াফা আল-আত্তার ২০২৪ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি বাবা, মা ও চার ভাইবোনকে একসাথে হারিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘চোখের পলকেই আমি আমার পুরো পরিবারকে হারিয়ে ফেলেছিলাম।’ এখন তিনি একমাত্র জীবিত সদস্য হিসেবে বেঁচে আছে, কিন্তু শোক ভাগ করে নেওয়ার মতো কেউ নেই।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: গাজা, মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহ এলাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মারিয়াম (১৬), আয়া (১৪), জিবরিল (১২), ওয়াফা আল-আত্তার (১৩), ওয়ারদা আল-মুজেইনি, আজিজা আল-খালুত
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭১ হাজার এতিম শিশু, ৩ হাজার শিশুর কোনো অভিভাবক নেই, ৬৪ হাজার স্বামীহারা নারী, ৫৪ হাজার ৪৬৮টি শিশু হারিয়েছে
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!