📌 গাজার নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরে ক্ষুদ্র কৃষি প্রকল্পের মাধ্যমে জীবিকা পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছেন কৃষক মুহাম্মদ আল-হালাবি। যুদ্ধের কারণে ধ্বংস হয়ে যাওয়া কৃষিজমি পুনরুদ্ধারে ক্ষুদ্র উদ্যোগগুলোই হয়ে উঠছে তাদের ভরসা
গাজা উপত্যকার নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত ৩০০ বর্গমিটার জমিতে টমেটো ও বেগুন চাষ করছেন ৫০ বছর বয়সী কৃষক মুহাম্মদ আল-হালাবি। তাঁর পূর্বপুরুষদের মতো কৃষিকাজে ফিরে যাওয়ার প্রচেষ্টা হিসেবে তিনি এই ক্ষুদ্র জমিতে কাজ করছেন। আল-হালাবি জানান, তাঁর পরিবার উত্তর গাজার জাবালিয়া অঞ্চলে প্রায় ৪০ হাজার বর্গমিটার জমিতে কৃষিকাজ করতেন। সেখানে তাঁরা স্ট্রবেরি, টমেটো, ফুল, আলু ও বেগুন চাষ করতেন। তাঁর চার সন্তান—মাহমুদ (৩০), রেহাম (২৭), ঈসা (২৪) ও ওমর (২০)—এই কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 গাজার নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরে ক্ষুদ্র কৃষি প্রকল্পের মাধ্যমে জীবিকা পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছেন মুহাম্মদ আল-হালাবি
- 📌 আল-হালাবির উত্তর গাজার জাবালিয়া অঞ্চলের প্রায় ৪০ হাজার বর্গমিটার কৃষিজমি ইসরায়েলি বাহিনীর ধ্বংসযজ্ঞে ক্ষতিগ্রস্ত হয়
- 📌 যুদ্ধের কারণে গাজার প্রায় ৮৭ শতাংশ কৃষিজমি ধ্বংস হয়েছে, ৮ হাজার ৭০০ কৃষি কূপ অকেজো হয়ে পড়েছে
- 📌 গাজার কৃষি মন্ত্রণালয়ের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক নাসের দীব জানান, ক্ষতিগ্রস্ত জমি পুনরুদ্ধারে দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন প্রয়োজন
📰 বিস্তারিত
গাজা উপত্যকার নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরে ক্ষুদ্র কৃষি প্রকল্পের মাধ্যমে জীবিকা পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছেন মুহাম্মদ আল-হালাবি। যুদ্ধের কারণে তাঁর উত্তর গাজার জাবালিয়া অঞ্চলের প্রায় ৪০ হাজার বর্গমিটার কৃষিজমি ধ্বংস হয়ে যায়। আল-হালাবির পরিবার সেখানে স্ট্রবেরি, টমেটো, ফুল, আলু ও বেগুন চাষ করতেন। তাঁর চার সন্তানও এই কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
আল-হালাবি জানান, "আমি ছোটবেলা থেকেই কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত। জমিই আমার জীবন, আমি আমার পুরো জীবন জমিতে কৃষিকাজ করেছি।" যুদ্ধের কারণে তাঁর পরিবারের জীবিকা হারিয়ে যায়। তিনি বলেন, "কৃষিকাজই আমার পেশা। বাস্তুচ্যুত হওয়ার পরও আমি এটা ছাড়তে পারিনি। যুদ্ধ শুরুর পর নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরে একটি ক্ষুদ্র জমি ভাড়া নিয়ে চাষ শুরু করি। যতটুকু বীজ সংগ্রহ করতে পেরেছি, তাই চাষ করেছি।"
গাজার সরকারি মিডিয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধের কারণে গাজার প্রায় ৮৭ শতাংশ কৃষিজমি ধ্বংস হয়েছে। প্রায় ৮ হাজার ৭০০ কৃষি কূপ অকেজো হয়ে পড়েছে, ৭ হাজার ৭৪৮টি গবাদিপশুর খামার ধ্বংস হয়েছে। প্রায় ৮৭ শতাংশ গ্রিনহাউস ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে বার্ষিক সবজি ও ফল উৎপাদন প্রায় ৫ লাখ ২৪ হাজার টন থেকে কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২০ হাজার টনে।
গাজার কৃষি মন্ত্রণালয়ের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক নাসের দীব জানান, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষিজমি পুনরুদ্ধারে দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন প্রয়োজন। তিনি বলেন, "কৃষকরা একাধিক সমস্যার মুখোমুখি। এমনকি কৃষক তাঁর জমিতে ফিরলেও জমি চাষের উপযোগী নাও হতে পারে। মাটি পুনর্বাসন, পানি সরবরাহ ব্যবস্থা মেরামত, বীজ, সার ও সরঞ্জাম সরবরাহ প্রয়োজন।"
"যখন আমি গাছের বৃদ্ধি দেখি এবং ফল ধরতে দেখি, তখন মনে হয় আমি এখনও কৃষক। জমিটি ছোট হলেও এর সম্ভাবনা রয়েছে, এবং আশা করি এটি ফসল উৎপাদন করবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: গাজা উপত্যকা, নুসেইরাত শরণার্থী শিবির
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মুহাম্মদ আল-হালাবি
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩০০ বর্গমিটার, ৪০ হাজার বর্গমিটার, ৮৭ শতাংশ, ৮ হাজার ৭০০, ৭ হাজার ৭৪৮
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!