📌 গাজার যুদ্ধে আক্রান্ত চিকিৎসকরা নিজ পরিবারের সদস্যদের হারানোর মানসিক আঘাত, অতিরিক্ত কাজ ও মানসিক স্বাস্থ্য পরিষেবার অভাবের কারণে যুদ্ধক্ষেত্রে লড়াই করছেন। আল-আকসা শাহিদ হাসপাতালের একজন অ্যানেস্থেশিওলজিস্ট তার নিজের ভাইকে অপারেশন টেবিলে চিনে নিরাশ হয়ে পড়েন
গাজার যুদ্ধক্ষেত্রে চিকিৎসকদের মানসিক স্বাস্থ্য ভেঙ্গে পড়েছে। যুদ্ধের শুরু থেকে তাদের সামনে দাঁড়িয়েছে হতাহত পরিবারের সদস্য, অতিরিক্ত কাজ এবং মানসিক স্বাস্থ্য পরিষেবার অভাব। আল-আকসা শাহিদ হাসপাতালের অ্যানেস্থেশিওলজিস্ট মনার ফায়্যাদ (২৯) তার নিজের ভাই শাদিকে অপারেশন টেবিলে চিনে নিরাশ হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, “তিনি আমার অপারেশনের আগেই মারা গিয়েছিলেন। যখন আমি অপারেশন রুমে পৌঁছাই, তখন তার পোশাক চিনতে পেরেছিলাম। আমি তার দিকে গিয়ে মুখ উন্মোচন করলাম। আমার চোখে পড়লো, তিনি আমার ভাই শাদি, যিনি ৩৪ বছর বয়সী ছিলেন।”
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **মনার ফায়্যাদ (২৯)** তার নিজের ভাই শাদিকে অপারেশন টেবিলে চিনে মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েন এবং চিকিৎসা পেশা ত্যাগ করেন।
- 📌 **খালেদ রাফাত (২৯)** তার স্ত্রী, সন্তান, মা ও ভাইবোনের মৃত্যুতে মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েন এবং হাসপাতালে কাজ করতে পারছিলেন না।
- 📌 **গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়** জানায়, যুদ্ধে **১৭০০ জন চিকিৎসক** নিহত এবং **৮৩ জন** চিকিৎসক ইসরায়েলি বন্দী।
- 📌 **৪১% চিকিৎসক** তাদের পরিবারের সদস্যদের হারান এবং **৪৬%** তাদের পরিবার হারানোর সাথে সাথে কাজের জায়গা থেকে বিতাড়িত হন।
- 📌 **৭৮% চিকিৎসক** মানসিক স্বাস্থ্য পরিষেবার অভাবে আক্রান্ত।
📰 বিস্তারিত
গাজার আল-আকসা শাহিদ হাসপাতালের অ্যানেস্থেশিওলজিস্ট মনার ফায়্যাদ (২৯) তার নিজের ভাই শাদিকে অপারেশন টেবিলে চিনে মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েন। তিনি বলেন, “তিনি আমার অপারেশনের আগেই মারা গিয়েছিলেন। যখন আমি অপারেশন রুমে পৌঁছাই, তখন তার পোশাক চিনতে পেরেছিলাম। আমি তার দিকে গিয়ে মুখ উন্মোচন করলাম। আমার চোখে পড়লো, তিনি আমার ভাই শাদি, যিনি ৩৪ বছর বয়সী ছিলেন।” এই ঘটনা তার পেশাগত জীবনকে সমাপ্তি দিয়েছে এবং তিনি মানসিকভাবে একাকী লড়াই করছেন।
অন্যদিকে, হাসপাতালের ইমার্জেন্সি ডিপার্টমেন্টের নার্স খালেদ রাফাত (২৯) তার পরিবারের সদস্যদের মৃত্যুতে মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েন। তিনি বলেন, “আমার পরিবারের সদস্যদের মৃত্যু আমার জীবনে একটি ব্যথাদায়ক মাইলফলক হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমি আর আগের মতো কাজ করতে পারছিলাম না। হাসপাতাল আমার মানবতাবাদী দায়িত্বের সাথে জড়িয়ে ছিল, কিন্তু তা আমার ব্যক্তিগত ব্যথাকে বহন করতে পারছিল না।” তিনি বলেন, তিনি জীবন পুনরুদ্ধার করতে চেষ্টা করেছেন এবং নতুন পরিবার গড়ে তুলেছেন।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, যুদ্ধে **১৭০০ জন চিকিৎসক** নিহত এবং **৮৩ জন** চিকিৎসক ইসরায়েলি বন্দী। এছাড়াও, গাজার স্বাস্থ্য কর্মীদের উপর একটি গবেষণা প্রকাশ করে যে, **৪১% চিকিৎসক** তাদের পরিবারের সদস্যদের হারান এবং **৪৬%** তাদের পরিবার হারানোর সাথে সাথে কাজের জায়গা থেকে বিতাড়িত হন। এছাড়াও, **৭৮% চিকিৎসক** মানসিক স্বাস্থ্য পরিষেবার অভাবে আক্রান্ত।
"তিনি আমার অপারেশনের আগেই মারা গিয়েছিলেন। যখন আমি অপারেশন রুমে পৌঁছাই, তখন তার পোশাক চিনতে পেরেছিলাম। আমি তার দিকে গিয়ে মুখ উন্মোচন করলাম। আমার চোখে পড়লো, তিনি আমার ভাই শাদি, যিনি ৩৪ বছর বয়সী ছিলেন।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: গাজা, আল-আকসা শাহিদ হাসপাতাল
- 👥 মুখ্য ব্যক্তি: মনার ফায়্যাদ, খালেদ রাফাত, গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৭০০ জন নিহত চিকিৎসক, ৮৩ জন বন্দী চিকিৎসক, ৪১% পরিবার হারানো চিকিৎসক, ৪৬% পরিবার ও কাজ হারানো চিকিৎসক, ৭৮% মানসিক স্বাস্থ্য পরিষেবা থেকে বঞ্চিত চিকিৎসক
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!