📌 গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তির পুনর্লিখনে ১৯৭৭ সালের গ্যারান্টি ক্লজ পুনঃস্থাপন ও তথ্য অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবি তুলেছেন বিশেষজ্ঞরা। রাজধানীতে আয়োজিত এক সেমিনারে পানিসম্পদমন্ত্রীও চুক্তি পুনর্লিখনে বাংলাদেশের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আন্তর্জাতিক আইনের সহায়তা নেওয়ার কথা বলেন।
গঙ্গা নদীর পানিবণ্টন চুক্তির পুনর্লিখনে ১৯৭৭ সালের গ্যারান্টি ক্লজ পুনঃস্থাপন এবং তথ্য অধিকার প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। রাজধানীর একটি সেমিনারে তাঁরা জানান, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে নতুন চুক্তিতে বাংলাদেশের স্বার্থ সুরক্ষিত করতে হবে। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত ‘গঙ্গার পানিচুক্তি: পুনঃ আলোচনার বিষয়াবলি’ শীর্ষক সেমিনারে এসব মত উঠে আসে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তির পুনর্লিখনে ১৯৭৭ সালের গ্যারান্টি ক্লজ পুনঃস্থাপনের দাবি বিশেষজ্ঞদের
- 📌 ২০০৮-২০১৬ সাল পর্যন্ত ২৭টি সংকটকালে ১৫ বার বাংলাদেশ ন্যূনতম পানিপ্রবাহ পায়নি
- 📌 পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী জানান, প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘে গঙ্গা চুক্তির বিষয়ে জোরালো বক্তব্য তুলে ধরবেন
- 📌 আসিফ নজরুল উল্লেখ করেন, গঙ্গা অববাহিকার ৭০ শতাংশ ভারতের অংশে অবস্থিত
📰 বিস্তারিত
গঙ্গা নদীর পানিবণ্টন চুক্তির পুনর্লিখনে ১৯৭৭ সালের গ্যারান্টি ক্লজ পুনঃস্থাপনের দাবি তুলেছেন বিশেষজ্ঞরা। রাজধানীতে আয়োজিত এক সেমিনারে তাঁরা জানান, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে নতুন চুক্তিতে বাংলাদেশের স্বার্থ সুরক্ষিত করতে হবে। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর একটি হোটেলে ‘গঙ্গার পানিচুক্তি: পুনঃ আলোচনার বিষয়াবলি’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। গবেষণা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ল অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স (বিলিয়া) আয়োজিত এই সেমিনারে অংশ নেন বিভিন্ন খাতের বিশেষজ্ঞ ও নীতিনির্ধারকরা।
সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী বলেন, আগামী মাসে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘে যোগ দেবেন। সেখানে তিনি গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তির বিষয়ে বাংলাদেশের অধিকার ও স্বার্থ প্রতিষ্ঠায় জোরালো বক্তব্য তুলে ধরবেন। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক আইনের আশ্রয় নেওয়ার ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ প্রস্তুত। শহীদ উদ্দীন চৌধুরী উল্লেখ করেন, ২০০৮ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে ২৭টি সংকটকালে বাংলাদেশ ১৫ বারই ন্যূনতম পানিপ্রবাহ পায়নি।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আসিফ নজরুল। তিনি তাঁর প্রবন্ধে উল্লেখ করেন, গঙ্গা অববাহিকার প্রায় ৭০ শতাংশ ভারতের উত্তর প্রদেশ, বিহার ও পশ্চিমবঙ্গে অবস্থিত। ফলে বাংলাদেশ কাঠামোগতভাবে একটি নিম্ন-অববাহিকার দেশ। উজানে ভারতের ব্যাপক সেচ প্রকল্প সম্প্রসারণের ফলে শুষ্ক মৌসুমে পানিপ্রবাহে চরম তারতম্য দেখা দেয়।
আসিফ নজরুল বলেন, ১৯৭৭ সালের চুক্তিতে বাংলাদেশের স্বার্থ সুরক্ষিত ছিল। সেখানে গ্যারান্টি ক্লজ যুক্ত ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে ১৯৮২, ১৯৮৩, ১৯৮৪ ও ১৯৮৫ সালে সমঝোতা স্মারক সই হলেও তাতে গ্যারান্টি ক্লজ ছিল না। আবার ১৯৯৬ সালের চুক্তিতে গ্যারান্টি ক্লজ বাদ দেওয়া হয়। ফলে বাংলাদেশ বারবার বঞ্চিত হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, নতুন চুক্তিতে বাংলাদেশের হিস্যা প্রায় ৬ শতাংশ কমেছে।
সেমিনারের বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ দেশের ৫৪টি নদীর নাব্যতাহীনতার বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি ভবিষ্যতে জাতির পানি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান। আলোচনায় সমাপনী বক্তব্য দেন বিলিয়ার চেয়ারম্যান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক বোরহান উদ্দিন খান। তিনি বলেন, নতুন চুক্তিতে গ্যারান্টি ক্লজ, বিরোধ নিষ্পত্তি ক্লজ ও তথ্য অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবি জানানো হবে।
"আগামী মাসে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘে যাবেন, তখন ওই চুক্তির বিষয়ে বাংলাদেশের পক্ষে জোরালো বক্তব্য তুলে ধরবেন বলে আশা করি। সেখানে আমাদের অধিকার, স্বার্থের বিষয়ে দৃঢ় বক্তব্য তাঁকে তুলে ধরতেই হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রাজধানী, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: শহীদ উদ্দীন চৌধুরী (পানিসম্পদমন্ত্রী), আসিফ নজরুল (অধ্যাপক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩০ বছর, ২৭টি সংকটকাল, ১৫ বার, ৭০ শতাংশ, ৫৪টি নদী
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!