📌 ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের নেতা মহাত্মা গান্ধীর নিজ হাতে লেখা ৬৮৮টি ভাবনা ও চিঠির বিরল সংগ্রহটি নিলামে বিক্রি হয়েছে প্রায় ২০ কোটি টাকায়। ব্যক্তিগত শোক ও একাকিত্বের কথা উঠে এসেছে এই লেখাগুলোয়
ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম নেতা মহাত্মা গান্ধীর নিজ হাতে লেখা ৬৮৮টি ভাবনা ও চিঠির বিরল সংগ্রহটি নিলামে বিক্রি হয়েছে প্রায় ২০ কোটি টাকায়। ভারতীয় ঐতিহাসিক কোনো নথির ক্ষেত্রে এটি নতুন বিশ্বরেকর্ড বলে দাবি করেছে নিলাম প্রতিষ্ঠান স্যাফরনআর্ট।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 গান্ধীর নিজ হাতে লেখা ৬৮৮টি ভাবনা ও চিঠির সংগ্রহ বিক্রি হয়েছে প্রায় ২০ কোটি টাকায়
- 📌 সংগ্রহটি ছিল আনন্দ টি হিঙ্গোরানির জন্য লেখা ব্যক্তিগত ভাবনার দলিল
- 📌 হিঙ্গোরানির স্ত্রী বিদ্যার মৃত্যুর পর তাঁর একাকিত্ব ও শোকের কথা উঠে এসেছে লেখাগুলোয়
- 📌 ১৯৪৪ সালের ২০ নভেম্বর থেকে ১৯৪৬ সালের ১০ অক্টোবর পর্যন্ত প্রায় দুই বছর ধরে লেখা হয়েছিল এই ভাবনাগুলো
- 📌 নিলাম প্রতিষ্ঠান স্যাফরনআর্ট জানিয়েছে, এটি ভারতীয় ঐতিহাসিক নথির ক্ষেত্রে নতুন বিশ্বরেকর্ড
📰 বিস্তারিত
ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের নেতা মহাত্মা গান্ধীর নিজ হাতে লেখা ৬৮৮টি ভাবনা ও চিঠির বিরল সংগ্রহটি নিলামে বিক্রি হয়েছে প্রায় ১২ লাখ পাউন্ডে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২০ কোটি টাকার সমান। ভারতীয় ঐতিহাসিক কোনো নথির ক্ষেত্রে এটি নতুন বিশ্বরেকর্ড বলে দাবি করেছে লন্ডনভিত্তিক নিলাম প্রতিষ্ঠান স্যাফরনআর্ট।
গান্ধীর এই হাতে লেখা চিঠিগুলো তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী আনন্দ টি হিঙ্গোরানিকে উদ্দেশ্য করে লেখা হয়েছিল। ১৯৪৪ সালের ২০ নভেম্বর থেকে ১৯৪৬ সালের ১০ অক্টোবর পর্যন্ত প্রায় দুই বছর ধরে লেখা এই ভাবনাগুলো পরে ‘এ থট ফর দ্য ডে’ নামে একটি বইয়ে সংকলিত হয়। এই লেখাগুলোর পেছনে ছিল গভীর ব্যক্তিগত বেদনার গল্প। হিঙ্গোরানির স্ত্রী বিদ্যার মৃত্যুর পর তিনি একাকিত্ব ও শোকে ভেঙে পড়েন। শ্রবণ সমস্যার চিকিৎসার জন্য প্রকৃতি-নির্ভর চিকিৎসা নেওয়ার সময় তিনি নিজের দুঃখ ও নিঃসঙ্গতার কথা গান্ধীর সঙ্গে ভাগ করে নিতেন। এর জবাবে গান্ধী প্রতিদিন তাঁর জন্য একটি করে ভাবনা লিখতে শুরু করেন।
স্যাফরনআর্টের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রেসিডেন্ট মিনাল ভাজিরানি জানান, গান্ধী প্রতিদিন সময় বের করে হিঙ্গোরানির জন্য ব্যক্তিগত একটি ভাবনা লিখতেন। গান্ধী প্রতিটি ভাবনার লেখক হলেও হিঙ্গোরানি সেগুলোর প্রাপক, সংগঠক ও প্রতিলিপিকার হিসেবে কাজ করেন এবং শেষ পর্যন্ত প্রকাশনার জন্য প্রস্তুত করেন।
৬৮৮টি লেখায় গান্ধীর আজীবন ভাবনার নানা বিষয় উঠে এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে সত্য, অহিংসা, ব্রহ্মচর্য, সম্পদ-অনাসক্তি, নির্ভীকতা, ধর্মীয় সমতা, প্রার্থনা, সেবা, শ্রম, কর্তব্য, নীরবতা, বিবেক, আত্মোপলব্ধি এবং ঈশ্বরের অনুসন্ধান। এ ছাড়া ১৯৩০ ও ১৯৩১ সালে লেখা নয়টি চিঠিতে আনন্দ ও বিদ্যা হিঙ্গোরানির বিয়ে, পারিবারিক আপত্তি, আর্থিক স্বাধীনতা, পারিবারিক পুনর্মিলন এবং দাম্পত্য দায়িত্ব ও আত্মসংযম নিয়ে গান্ধীর মতামত উঠে এসেছে।
হিঙ্গোরানি পরিবার প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে সংগ্রহটি সংরক্ষণ করে আসছিল। ‘গান্ধী: ফ্রম দ্য কালেকশন অব আনন্দ টি হিঙ্গোরানি’ শিরোনামে ৮৬টি লটে এসব সামগ্রী নিলামে তোলা হয়। এর মধ্যে প্রধান আকর্ষণ ছিল হাতে লেখা ৬৮৮টি ভাবনার সংগ্রহটি। এর আনুমানিক মূল্য ধরা হয়েছিল ১৫ থেকে ২৫ কোটি রুপি; শেষ পর্যন্ত এটি বিক্রি হয় ১৬ কোটি ২০ লাখ রুপিতে, যা প্রায় ১২ লাখ পাউন্ডের সমান।
"গান্ধী প্রতিদিন সময় বের করে হিঙ্গোরানির জন্য ব্যক্তিগত একটি ভাবনা লিখতেন। প্রতিটি ভাবনার লেখক হলেও হিঙ্গোরানি সেগুলোর প্রাপক, সংগঠক ও প্রতিলিপিকার হিসেবে কাজ করেন।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ভারত
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মহাত্মা গান্ধী, আনন্দ টি হিঙ্গোরানি
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬৮৮টি, ২০ কোটি টাকা, ১২ লাখ পাউন্ড
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!