📌 ফ্রান্সে জ্বালানির দাম কমানোর দাবিতে ২০১৮ সালে শুরু হওয়া ইয়েলো ভেস্ট আন্দোলন এখন শিক্ষা ও মজুরি নিশ্চিতকরণের জন্য নতুন প্রজন্মকে নিয়ে আবার রাস্তায় নামছে। প্যারিসসহ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাঁদানে গ্যাস ছুঁড়ে ১ হাজারাধিক বিক্ষোভকারীকে আটক করেছে
ফ্রান্সের ইয়েলো ভেস্ট আন্দোলন ২০১৮ সালে জ্বালানির দাম কমানোর অনলাইন দাবি থেকে শুরু হয়ে এখন শিক্ষা, মজুরি ও জনসেবার দাবিতে নতুন প্রজন্মকে নিয়ে আবার রাস্তায় নামছে। ১৭ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে প্যারিসের প্রজাতন্ত্র চত্বরে হলুদ জ্যাকেট পরিহিত বিক্ষোভকারীদের বিশাল ভিড়ের দৃশ্য রয়টার্সের ভিডিওতে ধরা পড়েছে। সাধারণ নিরাপত্তা পোশাকটি এখন প্রতিবাদের প্রতীক হয়ে উঠেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১৭ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে ফ্রান্সের প্যারিসসহ বিভিন্ন শহরে শিক্ষার্থী ও শ্রমিকদের নেতৃত্বে বিক্ষোভে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাঁদানে গ্যাস ছুঁড়ে ১ হাজারাধিক বিক্ষোভকারীকে আটক করেছে।
- 📌 ইয়েলো ভেস্ট আন্দোলন ২০১৮ সালের ১৭ নভেম্বর থেকে শুরু হয়ে ২০১৯ সাল পর্যন্ত প্রতিবার শনিবার বিক্ষোভের নিয়মিত দিন হয়ে উঠেছিল।
- 📌 ২০২০ সালে করোনা বিধিনিষেধের কারণে বিক্ষোভের ধারা প্রায় ১৬ মাসের জন্য ছেড়ে যায়।
- 📌 ২৯ নভেম্বর ২০১৮ তারিখে অনলাইন আবেদনে স্বাক্ষরকারীর সংখ্যা ১০ লাখের বেশি হয়।
- 📌 ১৯ বছর বয়সী শিক্ষার্থী লোলা এবং ট্রাকচালক এরিক দ্রুয়েসহ নতুন প্রজন্মের বিক্ষোভকারীরা হলুদ জ্যাকেটের পাশাপাশি জীবনযাত্রার খরচ ও শিক্ষা নিয়ে দাবি তুলছে।
📰 বিস্তারিত
ফ্রান্সের ইয়েলো ভেস্ট আন্দোলন একটি বিকেন্দ্রীভূত নাগরিক আন্দোলন। কোনো রাজনৈতিক দল বা শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃত্বে নয়, সাধারণ মানুষ নিজস্ব উদ্যোগে এই প্রতিবাদ গড়ে তুলেছে। হলুদ জ্যাকেটের নামকরণ হয়েছে গাড়িচালকদের নিরাপত্তার জন্য ব্যবহৃত এই পোশাক থেকে। ২০১৮ সালের মে মাসে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা প্রিসিলিয়া লুদোস্কি জ্বালানির দাম কমানোর অনলাইন আবেদন শুরু করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই আবেদনে মানুষ নিজের নাম লিখে সমর্থন জানাতেন।
২০১৮ সালের ১৭ নভেম্বর প্রথমবারের মতো ফ্রান্সব্যাপী বিক্ষোভ হয়। এরপর প্রতিবার শনিবার বিক্ষোভের নিয়মিত দিন হয়ে ওঠে। বিক্ষোভের নামকরণ করা হয় ‘অ্যাক্ট’। করোনা মহামারীতে ২০২০ সালের মার্চে বিক্ষোভের ধারা প্রায় ১৬ মাসের জন্য ছেড়ে যায়। তবে এবার ২০২৬ সালের ১৭ অক্টোবর প্যারিসসহ ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে আবার বিক্ষোভ শুরু হয়।
বিক্ষোভে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাঁদানে গ্যাস ছুঁড়ে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে চেষ্টা করলেও ১ হাজারাধিক বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়। বিক্ষোভকারীদের মধ্যে শিক্ষার্থী ও শ্রমিকদের নেতৃত্বে নতুন প্রজন্মের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। তাদের দাবি হলুদ জ্যাকেটের পাশাপাশি ন্যায্য মজুরি, ভালো শিক্ষা ও জনসেবা নিশ্চিতকরণ।
প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁর সরকার সতর্ক অবস্থানে থাকলেও বিক্ষোভ ঠেকাতে পারেননি। প্যারিসসহ ফ্রান্সের বিভিন্ন এলাকায় রাতে কারফিউ চলছে। লিওঁ ও মার্সেইয়ে বিক্ষোভ নিষিদ্ধ ছিল, তবে পরে শ্রমিক সংগঠনের মিছিল অনুমোদন দেওয়া হয়।
"একটি সাধারণ পোশাক থেকে শুরু করে আজ এটি একটি আন্দোলনের প্রতীক হয়ে উঠেছে। হলুদ জ্যাকেটের মাধ্যমে আমরা নিজেদের জীবনের কথা বলতে চাই এবং তা রাষ্ট্রকে শোনাতে চাই।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ফ্রান্স (প্যারিস, লিওঁ, মার্সেই)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: প্রিসিলিয়া লুদোস্কি, এমানুয়েল মাখোঁর, লোলা (১৯), এরিক দ্রুয়েস
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ নভেম্বর ২০১৮, ২৯ নভেম্বর ২০১৮, ১০ লাখ, ১৬ মাস, ১ হাজারাধিক
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!