📌 মহাকাশে যাওয়া প্রথম জাপানি নাগরিক তোয়োহিরো আকিয়ামা ৮৪ বছর বয়সে রক্তক্ষরণে মৃত্যুবরণ করেছেন। তিনি ১৯৯০ সালে সোভিয়েত মহাকাশযানে যান এবং ৯ দিন মহাকাশে অবস্থান করেন। জীবনের শেষদিকে তিনি কৃষিকাজ ও শিক্ষকতা করে জাপানের ইতিহাসের সাথে যুক্ত ছিলেন
৮৪ বছর বয়সে রক্তক্ষরণের কারণে মারা যান মহাকাশে যাওয়া প্রথম জাপানি নাগরিক তোয়োহিরো আকিয়ামা। জাপানের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, তিনি ২০২৬ সালের ৫ সেপ্টেম্বর মৃত্যুবরণ করেছেন। আকিয়ামা ছিলেন টোকিও ব্রডকাস্টিং সিস্টেমের (টিবিএস) একজন সাংবাদিক এবং মহাকাশযাত্রার মাধ্যমে তিনি জাপানের ইতিহাসে প্রথম নাগরিক হিসেবে মহাকাশে পাড়ি দেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৮৪ বছর বয়সে রক্তক্ষরণে মারা যান মহাকাশের প্রথম জাপানি সফরকারী তোয়োহিরো আকিয়ামা
- 📌 ১৯৯০ সালে সোভিয়েত মহাকাশযানে ৯ দিন অবস্থান করে তিনি মহাকাশে যান
- 📌 মহাকাশযাত্রা থেকে ফিরে ১৯৯৫ সালে টিবিএসের চাকরি ছেড়ে ফুকুশিমা প্রিফেকচারে মাশরুম চাষ শুরু করেন
- 📌 ২০১১ সালের ভূমিকম্প ও সুনামির পর বিকিরণের কারণে কৃষিকাজ ত্যাগ করে শিক্ষকতা শুরু করেন
- 📌 জীবনের শেষদিকে তিনি তরুণ প্রজন্মকে স্বাধীন চিন্তা করার আহ্বান জানিয়েছিলেন
📰 বিস্তারিত
তোয়োহিরো আকিয়ামা ১৯৯০ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের সয়ুজ মহাকাশযানে চড়ে মহাকাশে যান। মহাকাশযানটি মির মহাকাশ স্টেশনের সাথে যুক্ত হয়ে যায় এবং তিনি সেখানে ৯ দিন অবস্থান করেন। এই সময়ে তিনি শূন্য মাধ্যাকর্ষণে অভিজ্ঞতা লাভ করেন এবং তার অভিজ্ঞতা সরাসরি টেলিভিশনে সম্প্রচারিত হয়। মহাকাশে বিভিন্ন পরীক্ষার বিষয়েও দর্শকদের জানান তিনি।
আকিয়ামা ছিলেন টিবিএসের সাংবাদিক। কিন্তু মহাকাশযাত্রার সুযোগ প্রথমে তাঁর পাওয়ার কথা ছিল না। ১৯৮৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের স্পেস শাটল চ্যালেঞ্জার দুর্ঘটনার কারণে তাঁর মহাকাশযাত্রা পিছিয়ে যায়। এর পাঁচ বছর পর ১৯৯০ সালে তিনি মহাকাশে যান। মহাকাশ থেকে ফিরে আসার পাঁচ বছর পর ১৯৯৫ সালে টিবিএসের চাকরি ছেড়ে দেন তিনি। এরপর তিনি ফুকুশিমা প্রিফেকচারের তাকিনে শহরে গিয়ে মাশরুম চাষ শুরু করেন।
কৃষিকাজের মাধ্যমে তিনি খাবার উৎপাদনের প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে চেয়েছিলেন। ২০১৩ সালে দ্য জাপান টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ‘মানুষের সবচেয়ে মৌলিক কাজ হল খাওয়া। কৃষকেরা যে খাবার উৎপাদন করেন, তা নিয়ে তাঁরা কী ভাবেন? আর জাপানের ইতিহাসে ধান চাষের ভূমিকা কী?’ এসব বিষয়ে তিনি প্রাথমিক জ্ঞান না নিয়ে মারা যেতে চাননি।
২০১১ সালের ১১ মার্চ জাপানে ভয়াবহ ভূমিকম্প ও সুনামি ঘটে এবং ফুকুশিমা দাইইচি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে দুর্ঘটনা ঘটে। বিকিরণের ঝুঁকির কারণে আকিয়ামাকে তাঁর বাড়ি ও কৃষিকাজ ছেড়ে দিতে হয়। এরপর তিনি কিয়োটো ইউনিভার্সিটি অব আর্ট অ্যান্ড ডিজাইনে (বর্তমানে কিয়োটো ইউনিভার্সিটি অব দ্য আর্টস) কৃষিবিষয়ক শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। সেখানে তিনি ২০২৩ সালের মার্চ পর্যন্ত পড়িয়েছেন।
জীবনের শেষ দিকে তিনি মূলধারার সংবাদমাধ্যমের প্রতি সমালোচনামুখর ছিলেন। তিনি তরুণ প্রজন্মকে বলেছিলেন, ‘অন্যকে দিয়ে চিন্তা করিয়ে নিলে সৃজনশীল হওয়া যায় না। কৃষিকাজের অভিজ্ঞতা প্রকৃতিকে নতুনভাবে অনুভব করার সুযোগ দেয়। বাতাস ও আলো অনুভব করা, মাটির গন্ধ নেওয়া কিংবা মাটিকে স্পর্শ করার মতো অভিজ্ঞতা শিক্ষার্থীদের চিন্তার ধরন বদলে দিতে পারে।’
"মানুষের সবচেয়ে মৌলিক কাজ কী? খাওয়া। কৃষকেরা যে খাবার উৎপাদন করেন, তা নিয়ে তাঁরা কী ভাবেন? আর জাপানের ইতিহাসে ধান চাষের ভূমিকা কী?"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: টোকিও (জাপান), ফুকুশিমা প্রিফেকচার, কিয়োটো ইউনিভার্সিটি অব দ্য আর্টস
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: তোয়োহিরো আকিয়ামা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮৪ বছর বয়স, ৯ দিন মহাকাশে অবস্থান, ২০১১ সালের ১১ মার্চ ভূমিকম্প
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!