📌 ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ব্ল্যাক ব্লক নামে পরিচিত একটি অশৃঙ্খল প্রতিবাদী গোষ্ঠী সশস্ত্রভাবে সরকারি ও ব্যক্তিগত সম্পত্তি ধ্বংস করে আসছে। তারা ১৯৮০-এর দশকে জার্মানির ‘অটোনোমিয়া’ আন্দোলনের উত্তরসূরি এবং তাদের মূল লক্ষ্য হলো রাষ্ট্র, রাজনৈতিক দল ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা প্রতিরোধ করা
ইউরোপের বিভিন্ন দেশে — ফ্রান্স, ইতালি, স্পেন ও আলবানিয়া থেকে শুরু করে — প্রতিবাদ আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী একটি বিশেষ গোষ্ঠী দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। এই গোষ্ঠীকে ‘ব্ল্যাক ব্লক’ নামে পরিচিত। তারা সম্পূর্ণ কালো পোশাক পরিধান করে, প্রায়শই আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে সহিংসতা প্রদর্শন করে। তাদের লক্ষ্য সরকারি ও ব্যক্তিগত সম্পত্তি ধ্বংস করা, গাড়ি ও ভবন জ্বালিয়ে দেওয়া, চুরি করা এবং খাদ্য থেকে জুয়েল পর্যন্ত বিভিন্ন সামগ্রী চুরি করা।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **ব্ল্যাক ব্লক** নামের এই গোষ্ঠী ১৯৮০-এর দশকে জার্মানির ‘অটোনোমিয়া’ আন্দোলন থেকে উদ্ভূত, যারা রাষ্ট্র, রাজনৈতিক দল, অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ও ইউনিয়নকে প্রতিরোধ করে আসছে। তারা ‘অ্যানার্কিস্ট’ হিসেবে পরিচিত এবং বিশ্বাস করে যে, তারা ব্যবস্থার বাইরে জীবনযাপন করতে পারে।
- 📌 **ফ্রান্স ও ইতালিতে** ব্ল্যাক ব্লক প্রতিবাদীরা সরকারি ও ব্যক্তিগত সম্পত্তি ধ্বংসের ঘটনা ঘটিয়েছে। ফ্রান্সে সরকার এই ঘটনাগুলোকে আন্দোলনের বিরুদ্ধে ব্যবহার করে, যখন ইতালির পাঁচ তারকা আন্দোলনের সদস্যরা এই ঘটনাগুলোকে ‘কপি ক্যাট’ বা ‘খারাপ উদাহরণ’ হিসেবে দেখছেন।
- 📌 **ব্ল্যাক ব্লক** কোনো নির্দিষ্ট নেতৃত্ব, হায়ারার্কি বা স্পিকার ছাড়াই কাজ করে। তারা কালো পোশাক, হেলমেট, চশমা ও ব্যান্ডানা পরিধান করে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে চেনা থেকে বাঁচতে চায়।
- 📌 **ব্ল্যাক ব্লক** কোনো একক রাজনৈতিক দল বা আদর্শের সাথে যুক্ত নয়, যদিও কিছু সময়ে ডানপন্থী জাতীয়তাবাদী ও নিও-নাজি গোষ্ঠীও তাদের পোশাক ও পদ্ধতি ব্যবহার করেছে।
📰 বিস্তারিত
ব্ল্যাক ব্লক আন্দোলনটি ১৯৮০-এর দশকে জার্মানির ‘অটোনোমিয়া’ আন্দোলন থেকে উদ্ভূত। এই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিলো রাষ্ট্র, রাজনৈতিক দল, অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ও ইউনিয়নকে প্রতিরোধ করা। তারা ‘অ্যানার্কিস্ট’ হিসেবে পরিচিত এবং বিশ্বাস করে যে, তারা ব্যবস্থার বাইরে জীবনযাপন করতে পারে। কানাডার কুইবেক বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক বিজ্ঞান অধ্যাপক ফ্রান্সিস ডুপুইস-ডেরি আল জাজীরার সাথে কথা বলেন, “তারা রাষ্ট্র, রাজনৈতিক দল, অর্থনৈতিক ব্যবস্থা, এমনকি কমিউনিস্ট ও ইউনিয়নকে প্রতিরোধ করে। তারা মূলত অ্যানার্কিস্ট। তারা বিশ্বাস করে যে, তারা ব্যবস্থার বাইরে জীবনযাপন করতে পারে।”
ব্ল্যাক ব্লক গোষ্ঠীর সদস্যরা কালো পোশাক, হেলমেট, চশমা ও ব্যান্ডানা পরিধান করে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে চেনা থেকে বাঁচতে চায়। তারা কোনো নেতৃত্ব, হায়ারার্কি বা স্পিকার ছাড়াই কাজ করে। ডুপুইস-ডেরি বলেন, “তারা কোনো নেতৃত্ব, হায়ারার্কি বা স্পিকার ছাড়াই কাজ করে। তাদের কোনো প্রেস স্টেটমেন্ট নেই, কোনো সুপারস্টার নেই, কোনো স্পিকার নেই।”
ফ্রান্সে বর্তমানে শিক্ষা খরচ কাটাতে সরকারের বিরুদ্ধে ছাত্র ও ইউনিয়ন আন্দোলন চলছে। এই আন্দোলনে ব্ল্যাক ব্লক গোষ্ঠীর সদস্যরা সরকারি ও ব্যক্তিগত সম্পত্তি ধ্বংসের ঘটনা ঘটিয়েছে। ফ্রান্সের একটি বামপন্থী ইউরোপীয় সংসদ সদস্য (এমইপি) বলেন, “আমরা এই বিষয়ে আলোচনা করতে চাই না, কারণ সরকার এই ঘটনাগুলোকে আমাদের আন্দোলন ও দলকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করতে ব্যবহার করে।”
ইতালিতে রোম, মিলান ও টুরিনে ব্ল্যাক ব্লক গোষ্ঠীর সদস্যরা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছে। তারা বিন, গাড়ি জ্বালিয়ে দিয়েছে এবং কিছু ক্ষেত্রে ব্যাপক সম্পত্তি ক্ষতির ঘটনা ঘটিয়েছে। পাঁচ তারকা আন্দোলনের ইউরোপীয় সংসদ সদস্য মারিও ফুরোরে বলেন, “আমি কোনো আন্দোলন দেখিনি যা ব্ল্যাক ব্লকের দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়েছে। মিলানে লুটতরাজ ও ভাঙ্গচুরের ঘটনা ঘটেছে, এবং এগুলোর দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা বেশিরভাগই যুবক, অনেকেই মাইনর। আমার মতে, এগুলো ‘কপি ক্যাট’ বা ‘খারাপ উদাহরণ’ এর ফল। তবে বিচারিক কর্তৃপক্ষ এই ঘটনাগুলোর তদন্ত করে সত্যিকারের তথ্য প্রতিষ্ঠা করবে।”
"ব্ল্যাক ব্লক" গোষ্ঠী কোনো নির্দিষ্ট নেতৃত্ব, হায়ারার্কি বা স্পিকার ছাড়াই কাজ করে। তারা কালো পোশাক, হেলমেট, চশমা ও ব্যান্ডানা পরিধান করে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে চেনা থেকে বাঁচতে চায়।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ফ্রান্স, ইতালি, স্পেন, আলবানিয়া
- 👥 মুখ্য ব্যক্তি: ফ্রান্সিস ডুপুইস-ডেরি, মারিও ফুরোরে
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৯৮০ (ব্ল্যাক ব্লকের উদ্ভবের বছর)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!