📌 এল নিনোর প্রভাবে বিশ্বজুড়ে খরা, বন্যা, দাবানল ও তীব্র তাপপ্রবাহের ঝুঁকি বাড়ছে। শ্রীলঙ্কায় ৭২ হাজার মানুষকে পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করেছে সরকার। ইন্দোনেশিয়ায় দাবানলে পুড়ছে দুই লাখ হেক্টরের বেশি বনভূমি। হন্ডুরাসে খরা সতর্কতা জারি হয়েছে
বিশ্বজুড়ে এল নিনোর প্রভাব ক্রমশ তীব্র হওয়ার প্রেক্ষিতে সরকারগুলো দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুতি নিচ্ছে। খরা, বন্যা, তীব্র তাপপ্রবাহ ও দাবানলের মতো চরম আবহাওয়ার ঘটনা বৃদ্ধির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। শ্রীলঙ্কায় সরকার দেশটির সাত জেলায় প্রায় ৭২ হাজার মানুষের জন্য পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করেছে বলে জানিয়েছেন এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 শ্রীলঙ্কায় এল নিনোর কারণে সৃষ্ট খরায় ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোয় প্রতি দুই থেকে তিন দিন অন্তর প্রায় ৭৫ লিটার পানি সরবরাহ করা হচ্ছে।
- 📌 শ্রীলঙ্কার সরকার খরাকবলিত এলাকায় পানি সরবরাহের জন্য বাজেট থেকে চার দশমিক আট বিলিয়ন রুপি বরাদ্দ করেছে।
- 📌 ইন্দোনেশিয়ায় চলতি বছরে দুই লাখ হেক্টরের বেশি বনভূমি দাবানলে পুড়ে গেছে, যা রাজধানী জাকার্তার প্রায় তিন গুণের সমান।
- 📌 হন্ডুরাসের সরকার দেশটির রাজধানীসহ ৮০ শতাংশ এলাকাকে খরা সতর্কতার আওতায় এনেছে।
- 📌 এল নিনো প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্য ও পূর্ব অঞ্চলের উষ্ণ পানির কারণে সৃষ্ট একটি স্বাভাবিক জলবায়ু পরPattern।
📰 বিস্তারিত
শ্রীলঙ্কার পরিবেশমন্ত্রী দম্মিকা পটাবেন্দি বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের জানান, এল নিনোর প্রভাব নভেম্বর মাসে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর কথা থাকলেও এখন তা আরও আগেই ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “আমরা প্রয়োজন অনুসারে প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থা পুনর্বিবেচনা ও সম্প্রসারণ করব।” সেপ্টেম্বরের পর বছরের শেষের দিকে ভারী বৃষ্টিপাত শুরু হলেও আগামী বছরের শুরুতে আবার খরা ফিরে আসতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন।
ইন্দোনেশিয়ায় চলতি বছরের শুরু থেকে দুই লাখ হেক্টরের বেশি বনভূমি দাবানলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জুলাই মাসেই নয় হাজার পঞ্চাশ হেক্টর জমি পুড়ে যায়। মধ্য কালিমান্তানের রাজধানী পালাংকারায় ঘন কুয়াশা ও ধোঁয়াশার কারণে বায়ুদূষণের মাত্রা মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। স্থানীয় মেয়র বাসিন্দাদের মাস্ক পরার পরামর্শ দিয়েছেন। ইন্দোনেশিয়ার বন ও পরিবেশমন্ত্রী রাজা জুলি আন্তোনি বলেন, মেঘবীজ বপনের জন্য উপযুক্ত অবস্থা তৈরি হলেই তারা আবহাওয়া পরিবর্তনের কার্যক্রম শুরু করবেন। তিনি বলেন, “এমনকি সামান্যতম উপযুক্ত মেঘের উপস্থিতি থাকলেও এবং প্রযুক্তিগতভাবে সম্ভব হলে আমরা আবহাওয়া পরিবর্তনের কার্যক্রম পরিচালনা করব।”
এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র আগামী বছর পেরুর উপকূলে সামরিক হাসপাতাল স্থাপনের পরিকল্পনা করেছে। মধ্য আমেরিকার দেশ হন্ডুরাসে এল নিনোর কারণে খরা পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে। দেশটির সরকার রাজধানীসহ ৮০ শতাংশ এলাকাকে খরা সতর্কতার আওতায় এনেছে। এল নিনো প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্য ও পূর্ব অঞ্চলের উষ্ণ পানির কারণে সৃষ্ট একটি স্বাভাবিক জলবায়ু পরPattern, যা বিশ্বজুড়ে আবহাওয়ার ধরন পরিবর্তন করে।
“আমরা প্রয়োজন অনুসারে প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থা পুনর্বিবেচনা ও সম্প্রসারণ করব।”
“এমনকি সামান্যতম উপযুক্ত মেঘের উপস্থিতি থাকলেও এবং প্রযুক্তিগতভাবে সম্ভব হলে আমরা আবহাওয়া পরিবর্তনের কার্যক্রম পরিচালনা করব।”
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: শ্রীলঙ্কা, ইন্দোনেশিয়া, হন্ডুরাস, পেরু
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: শ্রীলঙ্কার পরিবেশমন্ত্রী দম্মিকা পটাবেন্দি, ইন্দোনেশিয়ার বন ও পরিবেশমন্ত্রী রাজা জুলি আন্তোনি
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭২ হাজার মানুষ, দুই লাখ হেক্টর বনভূমি, চার দশমিক আট বিলিয়ন রুপি
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!