📌 চীন একসময় দরিদ্র দেশ হলেও এখন বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি এবং ১৫১টি দেশের প্রধান বাণিজ্য অংশীদার। ১৯৭৮ সালে দেং জিয়াওপিংয়ের নেতৃত্বে শুরু হওয়া অর্থনৈতিক সংস্কারের ফলে চীনের উত্থান ঘটে। তবে বিশ্ববাণিজ্যে চীনের এই প্রভাব কতদিন স্থায়ী হবে তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
বিশ্ব অর্থনীতিতে চীনের প্রভাব ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। একসময় দরিদ্র ও কৃষিনির্ভর দেশ হিসেবে পরিচিত চীন এখন বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের ১৫১টি দেশের প্রধান বাণিজ্য অংশীদার হিসেবে চীন নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। একসময় সাংহাই শহর ছিল দরিদ্র ও অবহেলিত। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় চীন এখন বৈশ্বিক বাণিজ্যের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি চীনের প্রধান বাণিজ্য অংশীদার হিসেবে স্বীকৃত ১৫১টি দেশ
- 📌 ১৯৭৮ সালে দেং জিয়াওপিংয়ের নেতৃত্বে শুরু হওয়া অর্থনৈতিক সংস্কারের ফলে চীনের উত্থান
- 📌 চীনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ভিত্তি স্থাপিত হয়েছিল মাওয়ের আমলের শিল্পভিত্তি ও রাষ্ট্রীয় সক্ষমতার ওপর
- 📌 বিশ্ববাণিজ্যে চীনের প্রভাব বৃদ্ধির ক্ষেত্রে ২০০১ সালে ডব্লিউটিওতে যোগদান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে
📰 বিস্তারিত
একসময় চীন ছিল দরিদ্র ও কৃষিনির্ভর দেশ। বিপুলসংখ্যক মানুষ আফিমের নেশায় আসক্ত ছিল। বিদেশি শক্তির আধিপত্যের কারণে দেশটির অবস্থা ছিল শোচনীয়। সাংহাই শহরও তখন বৈশ্বিক বাণিজ্যনগরী হিসেবে পরিচিত ছিল না। ১৯৩৯ সালে সাংহাই শহরের অবস্থা ছিল এমন যে, বাইরে যতটা ঝকঝকে, ভেতরে ততটা নয়। তবে সেই দিন আর নেই। চীন এখন বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি। বিশ্বের ১৫১টি দেশের প্রধান বাণিজ্য অংশীদার হিসেবে চীন নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
১৯৪৯ সালে গণপ্রজাতন্ত্রী চীন প্রতিষ্ঠার সময় দেশটি ছিল মূলত কৃষিনির্ভর ও দরিদ্র। এরপর তারা শিল্পায়নে গুরুত্ব দেয়। সোভিয়েত ইউনিয়নের ধাঁচে পরিকল্পিত অর্থনৈতিক মডেল অনুসরণ করে তারা। বাঁকবদল ঘটে আরও প্রায় ৩০ বছর পর। ১৯৭৮ সালে দেং জিয়াওপিংয়ের নেতৃত্বে শুরু হওয়া বাজারমুখী সংস্কার, কৃষিতে উৎপাদনব্যবস্থার পরিবর্তন, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ ও রপ্তানিমুখী শিল্পায়ন—সব মিলিয়ে চীনের অর্থনীতির গতিপথ বদলে যায়। এর আগে মাওয়ের আমলে শিল্পভিত্তি, রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা ও অবকাঠামোর যে ভিত্তি তৈরি হয়েছিল, পরবর্তী সংস্কার তার ওপর ভিত্তি করেই দাঁড়ায়।
বাস্তবতা হলো, বিশ্বের অনেক দেশের শিল্প ও সরবরাহব্যবস্থা চীনের কাঁচামাল, মধ্যবর্তী পণ্য, যন্ত্রপাতি ও উপকরণের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। চীন থেকে প্রয়োজনীয় উপকরণ না পেলে তাদের উৎপাদন বন্ধ হওয়ার উপক্রম হবে। সব দেশ যে চীনের ওপর একইভাবে নির্ভরশীল, বিষয়টি সে রকম নয়। কিছু দেশ চীন থেকে প্রধানত ভোগ্যপণ্য আমদানি করে। আবার কিছু দেশের শিল্প উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় মধ্যবর্তী পণ্য ও যন্ত্রপাতির বড় অংশ আসে চীন থেকে।
বিশ্ববাণিজ্যে চীনের প্রভাব গত দুই দশকে কতটা বেড়েছে, বিভিন্ন দেশের বাণিজ্যিক অংশীদারের তালিকার দিকে তাকালে এর চিত্র পাওয়া যায়। বিশ্বের অধিকাংশ দেশের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার এখন চীন। একসময় যেসব দেশের প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার ছিল যুক্তরাষ্ট্র, অনেক ক্ষেত্রেই সে জায়গা নিয়েছে চীন। ২০২৫ সালের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের তথ্য বিশ্লেষণ করে এ চিত্র হাজির করেছে ভিজ্যুয়াল ক্যাপিটালিস্ট। সে জন্য তারা তথ্য নিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ডিরেকশন অব ট্রেড স্ট্যাটিস্টিকস থেকে।
"বিশ্ববাণিজ্যে চীনের প্রভাব কোথায় কতটা বিস্তৃত হয়েছে এবং কোন কোন দেশে এখনো যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান শক্তিশালী, তা বোঝা যায়। চীনের এই বাণিজ্যিক উত্থানের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাঁক আসে ২০০১ সালে। সে বছর বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় (ডব্লিউটিও) যোগ দেয় চীন। এরপর দ্রুত শিল্পায়ন, রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ও বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থার সঙ্গে আরও বেশি যুক্ত হয় তারা। এর মধ্য দিয়ে দেশটি বিশ্বের অন্যতম প্রধান উৎপাদনকেন্দ্রে পরিণত হয়।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বৈশ্বিক অর্থনীতি
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: দেং জিয়াওপিংয়ের, তারা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৫১টি দেশ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!