📌 চীন বাংলাদেশের সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করতে চায়। চীনের কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইসিং বলেন, সরকারে থাকুক বা বাইরে, কোনো দলকে বন্ধুত্বের মাপকাঠি হিসেবে বিবেচনা করা হবে না। বাংলাদেশ-চীন সেন্টার ফর পার্টি অ্যান্ড স্টেট গভর্ন্যান্স স্টাডিজ উদ্বোধন করা হয়
চীন বাংলাদেশের সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করতে চায়। রাজনৈতিক দলগুলোর সরকারে থাকা বা বাইরে থাকা সেটিকে বন্ধুত্বের মাপকাঠি হিসেবে বিবেচনা করবে না বেইজিং। এই ঘোষণা দেন চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইসিং। তিনি বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ, অভিজ্ঞতা বিনিময় ও সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে চীন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 চীন বাংলাদেশের সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করতে চায় — সরকারে থাকুক বা বাইরে, কোনো দলকে বন্ধুত্বের মাপকাঠি হিসেবে বিবেচনা করবে না বেইজিং
- 📌 লিউ হাইসিং বলেন, বাংলাদেশ-চীন সেন্টার ফর পার্টি অ্যান্ড স্টেট গভর্ন্যান্স স্টাডিজ দুই দেশের শাসনব্যবস্থার অভিজ্ঞতা বিনিময় ও সহযোগিতা বাড়াবে
- 📌 বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী চীনা বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে উৎপাদন, অবকাঠামো ও জ্বালানি খাতে বিনিয়োগের সুযোগ তুলে ধরেন
- 📌 বাংলাদেশ-চীন বাণিজ্যের পরিমাণ ১৯৯০-এর দেড় কোটি ডলার থেকে বেড়ে এখন ২৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে
- 📌 লিউ হাইসিং জানান, চীনের ১৫তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সময় বাংলাদেশ রাজনৈতিক পরিবর্তনের নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করেছে
📰 বিস্তারিত
বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ, অভিজ্ঞতা বিনিময় ও সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে চীন। আজ বুধবার ঢাকার একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত গোলটেবিল বৈঠকে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনের সময় চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইসিং এ কথা বলেন। তিন দিনের সফরে গতকাল মঙ্গলবার রাতে তিনি ঢাকায় উপস্থিত হন। ঢাকায় চীন দূতাবাস আয়োজিত ‘যেখানে ইতিহাস পথ দেখায়: চীন-বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলের গণ্ডি ছাড়িয়ে উদ্যোগ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে অংশ নেন লিউ হাইসিং। এরপর বাংলাদেশ-চীন সেন্টার ফর পার্টি অ্যান্ড স্টেট গভর্ন্যান্স স্টাডিজের উদ্বোধন করা হয়।
লিউ হাইসিং বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ যোগাযোগের মাধ্যমে দুই দেশের সহযোগিতাকে আরও এগিয়ে নেওয়া হয়েছে। আমরা আদর্শিক বিভাজন তৈরি করি না। কোনো রাজনৈতিক দল সরকারে আছে, নাকি সরকারের বাইরে, তার ভিত্তিতে আমাদের বন্ধুত্ব নির্ধারণ করি না।’
বৈঠকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বিশ্বাস ও অংশীদারত্বের সম্পর্ক রয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে বিএনপি একটি স্বাধীন, ভারসাম্যপূর্ণ ও দূরদর্শী পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। চীনের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
রিজভী বলেন, বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগকারীদের জন্য উৎপাদন, অবকাঠামো, জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও বস্ত্র খাতে বিনিয়োগের বড় সুযোগ রয়েছে। তিনি চীনা বিনিয়োগকারীদের এসব সম্ভাবনা কাজে লাগাতে আহ্বান জানান। একই সঙ্গে চীনের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশাধিকার আরও বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, এই মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বাণিজ্যঘাটতি কমানো সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
লিউ হাইসিং বলেন, বর্তমানে দুই দেশই উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে রয়েছে। চীন তার ১৫তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু করেছে। অপর দিকে বাংলাদেশ রাজনৈতিক পরিবর্তনের নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। এ পরিস্থিতিতে দুই দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে শাসনব্যবস্থার অভিজ্ঞতা বিনিময় অত্যন্ত সময়োপযোগী। তিনি বলেন, নতুন উদ্বোধন করা বাংলাদেশ-চীন সেন্টার ফর পার্টি অ্যান্ড স্টেট গভর্ন্যান্স স্টাডিজ দুই দেশের শাসনব্যবস্থার ধারণা ও অভিজ্ঞতা নিয়ে গবেষণা, পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং সহযোগিতা বাড়াতে ভূমিকা রাখবে।
লিউ হাইসিং আরও বলেন, চীনের কমিউনিস্ট পার্টির অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বিনিময়ের আগ্রহও প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, চীনের কমিউনিস্ট পার্টির ২০তম কেন্দ্রীয় কমিটির পঞ্চম পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনের ফলাফল, বিশেষ করে সি চিন পিংয়ের পার্টি গঠনবিষয়ক চিন্তাধারা নিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দল ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে আলোচনা করতে প্রস্তুত চীন।
"বাংলাদেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ যোগাযোগের মাধ্যমে দুই দেশের সহযোগিতাকে আরও এগিয়ে নেওয়া হয়েছে। আমরা আদর্শিক বিভাজন তৈরি করি না। কোনো রাজনৈতিক দল সরকারে আছে, নাকি সরকারের বাইরে, তার ভিত্তিতে আমাদের বন্ধুত্ব নির্ধারণ করি না।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: লিউ হাইসিং (চীন), রুহুল কবির রিজভী (বিএনপি)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৩ বিলিয়ন ডলার (বাংলাদেশ-চীন বাণিজ্য), ১৫তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা, ২০তম কেন্দ্রীয় কমিটির পঞ্চম পূর্ণাঙ্গ অধিবেশন
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!