📌 ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম দাসপ্রথার ইতিহাস স্বীকার করে কমনওয়েলথের সদস্য দেশগুলোর সাথে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, অতীতের অপরাধের জন্য আনুষ্ঠানিক ক্ষমা চাওয়ার বিষয়েও ব্রিটিশ সরকার উন্মুক্ত মানসিকতা রাখে
ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম দাসপ্রথার ইতিহাসের প্রতি গভীর অনুশোচনা প্রকাশ করে বলেছেন, কমনওয়েলথের সদস্য দেশগুলোর সাথে সৎ আলোচনার মাধ্যমে ঐতিহাসিক ক্ষতির সমাধান করা সম্ভব। তিনি দাসপ্রথার বর্বরতা এবং মানবিক অধিকার লঙ্ঘনের প্রতি স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন, যা আটলান্টিক মহাসাগরীয় দাস ব্যবসায়ের মাধ্যমে ঘটেছিল।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১৭৮৭ সালের ২৮ অক্টোবর ম্যানচেস্টার ক্যাথেড্রালে দাসপ্রথাবিরোধী প্রচারক থমাস ক্লার্কসন দাসদের ওপর বর্বরতার বিরুদ্ধে আকুল আবেদন জানান।
- 📌 ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম বলেছেন, দাসপ্রথায় ক্ষতিগ্রস্ত কমনওয়েলথ সদস্যরা ইতিহাসের প্রভাব নিয়ে আলোচনার দাবি জানিয়ে আসছে।
- 📌 ব্রিটিশ সরকার আনুষ্ঠানিক ক্ষমা চাওয়ার বিষয়েও উন্মুক্ত মানসিকতা প্রকাশ করেছে, তবে আর্থিক ক্ষতিপূরণের দাবি মেনে নেওয়ার কথা বলেননি।
- 📌 কমনওয়েলথ সরকারপ্রধানদের সম্মেলনে যোগ দেবার সময় তিনি বলেছেন, বিভক্ত বিশ্বে কমনওয়েলথের ঐক্য আমাদের স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তার প্রতীক।
- 📌 দাসপ্রথা বিলোপে নেতৃত্ব দিতে পারার জন্য ব্রিটেনের ঐতিহাসিক ভূমিকা স্মরণ করে তিনি বলেছেন, আজও ব্রিটেন সেই নেতৃত্ব দিতে পারে।
📰 বিস্তারিত
১৭৮৭ সালের ২৮ অক্টোবর ম্যানচেস্টার ক্যাথেড্রালে দাসপ্রথাবিরোধী প্রচারক থমাস ক্লার্কসন দাসদের ওপর চলা বর্বরতার বিরুদ্ধে আকুল আবেদন জানান। তিনি বলেছিলেন, ‘সে দুঃখের পেয়ালা পান করছে, আর সে পেয়ালা আমরাই তার হাতে তুলে দিচ্ছি’। এই বক্তব্যের পর হাজার হাজার মানুষ দাসপ্রথাবিরোধী আবেদনে স্বাক্ষর করেন। তবে ম্যানচেস্টারের তুলাশিল্পের পিছনে ছিল দাসদের শ্রমের ওপর ভর।
ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম বলেছেন, আমাদের ইতিহাসে দাসপ্রথা বিলোপে নেতৃত্ব দেওয়া বীরদের দেশের মতোই একসময় ব্রিটেন দাস ব্যবসায় অংশ নেয়। তিনি দাসপ্রথার বর্বরতা এবং মানবিক অধিকার লঙ্ঘনের প্রতি গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, আটলান্টিক মহাসাগরীয় দাস ব্যবসায় লাখ লাখ মানুষ যন্ত্রণা ও কষ্টের মধ্য দিয়ে গেছেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আমাদের বর্তমান বিশ্ব গঠনে দাসপ্রথার প্রভাব স্বীকার করা জরুরি। তিনি বলেছেন, কমনওয়েলথের সদস্য দেশগুলোর সাথে সৎ আলোচনার মাধ্যমে ঐতিহাসিক ক্ষতির সমাধান করা সম্ভব। তিনি দাবি করেছেন, অতীতের মুখোমুখি হয়ে এবং সবার জন্য সমতা নিশ্চিত করে ভবিষ্যত গড়ে তোলা যেতে পারে।
অ্যান্ডি বার্নহ্যাম বলেছেন, ব্রিটিশ জনগণকে দায়ী করা যায় না কারণ এসব অন্যায়ে বর্তমান প্রজন্মের কোনো ভূমিকা ছিল না। তিনি বলেছেন, আমার মূল লক্ষ্য হলো দেশে ও বিদেশে সব মানুষের জন্য শান্তি ও সমৃদ্ধির ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা।
"আমরা যেমন দাসপ্রথা বিলোপে নেতৃত্ব দেওয়া বীরদের দেশ, তেমনই একসময় মানুষ কেনাবেচার ব্যবসায় অংশ নেওয়া দেশও আমরাই। আটলান্টিক মহাসাগরীয় দাস ব্যবসা ছিল চরম নির্মম ও বর্বর একটি অপরাধ। এতে মানুষের মানবিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ম্যানচেস্টার ক্যাথেড্রাল (ব্রিটেন), কমনওয়েলথ সরকারপ্রধানদের সম্মেলন
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: অ্যান্ডি বার্নহ্যাম (ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী), থমাস ক্লার্কসন (দাসপ্রথাবিরোধী প্রচারক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৮ অক্টোবর, ১৭৮৭
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!