📌 যুক্তরাষ্ট্রের চাপ সত্ত্বেও ইরানের অর্থনীতি ধরে রাখতে চীনের ভূমিকা সীমিত। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ইরান সফরের সময় ঘোষণা আসে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সরাসরি সংঘাতে না যাওয়ার।
যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক চাপ বৃদ্ধির মুখেও ইরানের অর্থনীতিকে টিকিয়ে রাখতে চীনের ভূমিকা সীমিতই রয়ে গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, চীন ইরানের প্রতি সমর্থন জানালেও তা যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সরাসরি সংঘাতে যাওয়ার মতো নয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 চীন ইরানের প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার হলেও ইরানের তেল রপ্তানির ৯০ শতাংশই গ্রহণ করলেও তা চীনের মোট জ্বালানি মিশ্রণের মাত্র ২ শতাংশ
- 📌 চীনের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তেল কোম্পানিগুলো ইরানি তেল ক্রয় থেকে বিরত থাকলেও স্বাধীন 'টিপট' রিফাইনারিগুলো ইরানি তেল ক্রয়ে সক্রিয়
- 📌 যুক্তরাষ্ট্রের 'অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট' অভিযানের আওতায় চীনের কিছু ব্যাংক ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের সম্ভাবনা থাকলেও তা এখনো কার্যকর হয়নি
- 📌 চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সাথে 'সংক্ষিপ্ত বৈঠক' করেছেন বলে ইরানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে
📰 বিস্তারিত
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন প্রশাসন ইরানের ওপর সামরিক হামলা ও নিষেধাজ্ঞা আরোপের মাধ্যমে দেশটির অর্থনীতিকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে। তবে চীন ইরানের প্রতি সমর্থন জানালেও তা যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সরাসরি সংঘাতে যাওয়ার মতো নয় বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। চীনের মধ্য প্রাচ্য বিষয়ক কেন্দ্রের পরিচালক হংদা ফ্যান বলেন, "চীন বিশ্বব্যাপী বিস্তৃত স্বার্থের কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে পারে, তবে ইরানের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে তীব্র সংঘাতে যাবে না।"
চীন ও ইরানের মধ্যে শক্তিশালী বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে, বিশেষ করে জ্বালানি খাতে। তবে এই সম্পর্ক অনেকটাই একপেশে, যেখানে ইরান চীনের ওপর অনেক বেশি নির্ভরশীল। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সম্প্রতি কিরগিজস্তানের বিশকেকে অনুষ্ঠিত 'শাংহাই সহযোগিতা সংস্থা'র বার্ষিক সম্মেলনে যোগ দেন। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও এই সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন। ইরানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, পেজেশকিয়ান ও শি জিনপিংয়ের মধ্যে 'সংক্ষিপ্ত বৈঠক' হয়েছে। তবে চীনের গণমাধ্যমে এই বৈঠকের কোনো উল্লেখ পাওয়া যায়নি।
সম্মেলন শেষে শি জিনপিং মিশর সফরে যান, যেখানে তিনি মধ্য প্রাচ্যের দেশগুলোর প্রতি 'বাহ্যিক হস্তক্ষেপ' বিরোধিতা করার আহ্বান জানান এবং ইরান যুদ্ধের কূটনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দেন। ইরানের শীর্ষ বাণিজ্যিক অংশীদার হিসেবে চীন গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে যুদ্ধ শুরু করার পর থেকে ইরানি তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশ গ্রহণ করেছে। তবে ইরানি অপরিশোধিত তেল চীনের মোট জ্বালানি মিশ্রণের মাত্র ২ শতাংশ।
"চীন, বিশ্বব্যাপী বিস্তৃত স্বার্থের কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে পারে, তবে ইরানের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে তীব্র সংঘাতে যাবে না।"
"সবশেষে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দ্বন্দ্ব অবশ্যই দুই দেশকেই নিজেদের সমাধান করতে হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বিশকেক, কিরগিজস্তান ও কায়রো, মিশর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৯০ শতাংশ, ২ শতাংশ, ১০ সদস্য
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!