📌 অরুণাচল প্রদেশের কংগ্রেস নেতা বসিরাম সিরাম দাবি করেছেন, চীনা সেনারা ভারতের ভূখণ্ডে ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার অভ্যন্তরে প্রবেশ করেছে। তবে মুখ্যমন্ত্রী পেমা খান্ডু ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু এই দাবিকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। স্থানীয় বাসিন্দা ও সংগঠনও চীনা সেনাদের উপস্থিতি বাড়ানোর অভিযোগ তুলেছেন
অরুণাচল প্রদেশের রাজনৈতিক নেতা ও কংগ্রেসের সভাপতি বসিরাম সিরাম দাবি করেছেন, চীনা সেনাবাহিনী ভারতের ভূখণ্ডে ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার অভ্যন্তরে প্রবেশ করেছে। সোমবার (২৬ অক্টোবর) এই দাবি জানান তিনি। তবে অরুণাচলের মুখ্যমন্ত্রী পেমা খান্ডু এই অভিযোগকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 অরুণাচলের কংগ্রেস নেতা বসিরাম সিরাম দাবি করেছেন, চীনা সেনারা ভারতের ভূখণ্ডে ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার অভ্যন্তরে প্রবেশ করেছে।
- 📌 সিরামের নেতৃত্বে কংগ্রেসের প্রতিনিধিদল আগস্ট মাসে সীমান্ত এলাকা পরিদর্শন করে, স্থানীয় বাসিন্দাদের কথা শুনে এই দাবি তুলেছেন।
- 📌 মুখ্যমন্ত্রী পেমা খান্ডু বলেছেন, সীমান্তে চীনা সেনাদের কোনো অনুপ্রবেশ ঘটছে না।
- 📌 কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজুও ৫০ কিলোমিটার অনুপ্রবেশের দাবিকে অস্বীকার করেছেন, তবে স্বীকার করেছেন সীমান্তের উঁচু এলাকাগুলোতে চীনা তৎপরতা বেড়েছে।
- 📌 গত জুনে স্থানীয় সংগঠন নাহ ওয়েলফেয়ার সোসাইটি অভিযোগ করেছিল, তাকসিং এলাকায় চীনা সেনাদের উপস্থিতি বাড়িয়েছে।
- 📌 সিরাম দাবি করেছেন, আসাফিলা ও কৌশলগত এলাকাগুলো চীনের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে।
📰 বিস্তারিত
বসিরাম সিরামের দাবি, গত ২৬ থেকে ২৯ আগস্ট তার নেতৃত্বে কংগ্রেসের একটি প্রতিনিধিদল অরুণাচল প্রদেশের আপার সুবানসিরি জেলার বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করে। ইটানগর থেকে নাচো হয়ে লাইমেকিং ও তাকসিং এলাকায় যান তারা। স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলার সময় তারা চীনা সেনাদের উপস্থিতি সম্পর্কে জানতে পারেন। সিরাম বলেছেন, ‘চীনা সেনারা ইতোমধ্যে ভারতের ভূখণ্ডের ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার ভেতরে অগ্রসর হয়েছে। পাহাড়ের চূড়ায় তাদের অবস্থান রয়েছে। আমরা নিচে থেকে তাদের দেখতে পাচ্ছি।’
সিরাম আরও দাবি করেছেন, আসাফিলা ও অন্যান্য কৌশলগত এলাকাগুলো চীনের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। অনলাইন মানচিত্র থেকেও কিছু এলাকা অদৃশ্য হয়ে গেছে বলে তিনি অভিযোগ করেছেন। তবে প্রতিবেদনে স্বাধীনভাবে এই দাবির নিশ্চয়তা দেওয়া হয়নি।
গত জুনে নাহ ওয়েলফেয়ার সোসাইটি নামের একটি স্থানীয় সংগঠন অভিযোগ করেছিল, তাকসিং এলাকায় চীনা সেনাবাহিনীর উপস্থিতি বাড়িয়েছে। তবে ভারতীয় সেনাবাহিনী এই অভিযোগকে ‘ভুল ও ভিত্তিহীন’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছিল। আগস্টে অরুণাচল প্রদেশের পিপলস পার্টির প্রতিনিধিদলও দাবি করেছিল, গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ভারতীয় টহল দলকে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না।
"সীমান্তে কোনো অনুপ্রবেশ বা আগ্রাসী তৎপরতা না ঘটলে স্থানীয় বাসিন্দারা বারবার এমন অভিযোগ তুলছেন কেন? এসবকে গুজব বলে উড়িয়ে না দিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত করা প্রয়োজন।"
মুখ্যমন্ত্রী পেমা খান্ডু সিরামের দাবিকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেছেন, সীমান্তে চীনা সেনাদের কোনো অনুপ্রবেশ ঘটছে না। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজুও ৫০ কিলোমিটার অনুপ্রবেশের দাবিকে অস্বীকার করেছেন। তবে তিনি স্বীকার করেছেন, সীমান্তের উঁচু এলাকাগুলোতে চীনা তৎপরতা বেড়েছে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: অরুণাচল প্রদেশ (ভারত), আপার সুবানসিরি জেলা, ইটানগর, নাচো, লাইমেকিং, তাকসিং, আসাফিলা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: বসিরাম সিরাম (কংগ্রেস সভাপতি), পেমা খান্ডু (মুখ্যমন্ত্রী), কিরেন রিজিজু (কেন্দ্রীয় মন্ত্রী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫০ কিলোমিটার (চীনা সেনাদের অনুপ্রবেশ), ৪০ কিলোমিটার (চীনা সেনাদের অবস্থান), ২৬ অক্টোবর (দাবি জানানো তারিখ), ২৬-২৯ আগস্ট (প্রতিনিধিদল পরিদর্শন)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!