📌 কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য আক্রমণে প্রস্তুতির কথা স্বীকার করেছেন। ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতি ও কানাডাকে '৫১তম অঙ্গরাজ্য' করার দাবির কারণে এই উদ্বেগ বৃদ্ধি পেয়েছে। সামরিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরাসরি আক্রমণের সম্ভাবনা কম, কিন্তু সাইবার যুদ্ধের মতো বিকল্প পদ্ধতির সম্ভাবনা নেই নয়
কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক আক্রমণে প্রস্তুতির কথা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সির সময় মার্কিন-কানাডা সম্পর্কের নতুন মাত্রা বিবেচনা করে তিনি এমন পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন, যা আগে অকল্পনীয় মনে হত। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, এই ঝুঁকি অত্যন্ত ক্ষীণ।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **মার্ক কার্নি** বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কানাডা আক্রমণের সম্ভাবনা বিবেচনা করা তার দায়িত্ব — বিশেষত ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতি ও কানাডাকে '৫১তম অঙ্গরাজ্য' করার দাবির কারণে।
- 📌 **৩০% কানাডিয়ান** মনে করেন যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণের সম্ভাবনা রয়েছে, যা তাদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
- 📌 **সাবেক লেফটেন্যান্ট-জেনারেল ক্রিস্টোফার কোটস** (৩৪ বছর সামরিক দায়িত্বে) বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি সামরিক আক্রমণের সম্ভাবনা অত্যন্ত কম — তবে সাইবার যুদ্ধ বা অন্যান্য পদ্ধতির মাধ্যমে আক্রমণ হতে পারে।
- 📌 **ন্যাটো ও নর্থ আমেরিকান অ্যারোস্পেস ডিফেন্স কমান্ড**ের মাধ্যমে কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ সামরিক সহযোগিতা এই সম্ভাবনাকে আরও কমিয়ে দিয়েছে।
- 📌 **১৮শ ও ১৯শ শতাব্দীতে** যুক্তরাষ্ট্রের সম্প্রসারণবাদী নীতির বিরোধিতা ছিল কানাডার জাতীয় পরিচয়ের একটি মূল অংশ।
📰 বিস্তারিত
মার্ক কার্নি নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সির সময় মার্কিন-কানাডা সম্পর্কের নতুন রূপ নেওয়ার কারণে তিনি এমন সম্ভাবনা বিবেচনা করছেন। তিনি বলেন, ‘এটা ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার অংশ’। ট্রাম্পের বৈশ্বিক শুল্কনীতি ও কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘৫১তম অঙ্গরাজ্য’ করার ইচ্ছা এই উদ্বেগকে বাড়িয়ে তুলেছে। তবে ট্রাম্প নিজে বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র কখনো কানাডার বিরুদ্ধে সামরিক শক্তি ব্যবহার করবে এমন সম্ভাবনা ‘নেই বললেই চলে’। বরং তিনি অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত রাখার কথা বলেছিলেন।
হোয়াইট হাউসের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কানাডার মহান জনগণের সুরক্ষায় অন্য যেকোনো ব্যক্তির চেয়ে বেশি করেছেন’। সামরিক বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে সরাসরি যুদ্ধের সম্ভাবনা অত্যন্ত কম। এর অন্যতম কারণ হলো, দুই দেশ ন্যাটোর সদস্য এবং নর্থ আমেরিকান অ্যারোস্পেস ডিফেন্স কমান্ডের অধীনে যৌথ প্রতিরক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে। তবে কানাডিয়ানদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। জানুয়ারিতে ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্র আটক করার পর, একটি জরিপে দেখা যায়, **৩০ শতাংশেরও বেশি কানাডিয়ান** যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণের সম্ভাবনা মনে করেন।
সাবেক লেফটেন্যান্ট-জেনারেল **ক্রিস্টোফার কোটস** (৩৪ বছর সামরিক দায়িত্বে) বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে যুদ্ধ হবে অত্যন্ত জটিল। তিনি বলেন, ‘আমি পুরো কর্মজীবন সামরিক অভিযানে যুক্ত ছিলাম, কিন্তু কখনোই এমন সম্ভাবনা বিবেচনা করিনি যে, যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড থেকে কানাডার ওপর সামরিক হামলা আসতে পারে’। কোটস ন্যাটোর বিভিন্ন মিশনে অংশ নিয়েছেন এবং মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি কখনো আক্রমণ করে, তাহলে সেটি সরাসরি সামরিক হামলা দিয়ে শুরু হবে না — বরং সাইবার যুদ্ধ বা অন্যান্য পদ্ধতির মাধ্যমে হতে পারে।
কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের ইতিহাসও এই উদ্বেগকে জটিল করেছে। **১৮শ ও ১৯শ শতাব্দীতে** যুক্তরাষ্ট্রের সম্প্রসারণবাদী নীতির বিরোধিতা ছিল কানাডার জাতীয় পরিচয়ের একটি মূল বৈশিষ্ট্য। কানাডিয়ান ওয়ার মিউজিয়ামের গবেষক **টিম ফোরান** বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রকে ভয় করার বিষয়টি কানাডার রাজনৈতিক প্রকল্পের ভিত্তিগত অংশ’। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের জবাবে কানাডা আবারো যুদ্ধের পরিকল্পনা বিবেচনা করেছিল। তবে বর্তমানে ন্যাটো ও যৌথ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কারণে এই সম্ভাবনা অত্যন্ত কমে গেছে।
"এটা আসলে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার অংশ। ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সির সময় মার্কিন-কানাডা সম্পর্কের নতুন রূপ নেওয়ার কারণে আমি এমন সম্ভাবনা বিবেচনা করছি।"
"আমি পুরো কর্মজীবন সামরিক অভিযানে যুক্ত ছিলাম, কিন্তু কখনোই এমন সম্ভাবনা বিবেচনা করিনি যে, যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড থেকে কানাডার ওপর সামরিক হামলা আসতে পারে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র, নিউইয়র্ক, ভেনিজুয়েলা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মার্ক কার্নি (কানাডার প্রধানমন্ত্রী), ডোনাল্ড ট্রাম্প (মার্কিন প্রেসিডেন্ট), ক্রিস্টোফার কোটস (সাবেক লেফটেন্যান্ট-জেনারেল), টিম ফোরান (কানাডিয়ান ওয়ার মিউজিয়াম গবেষক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫১তম (অঙ্গরাজ্য), ৩০% (কানাডিয়ানদের উদ্বেগ), ৩৪ বছর (ক্রিস্টোফার কোটসের সামরিক দায়িত্ব), ১৮শ ও ১৯শ শতাব্দী (যুক্তরাষ্ট্রের সম্প্রসারণবাদ বিরোধিতা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!