📌 ব্রিকস সম্মেলনে ভারত নিরামিষ খাবার পরিবেশন করে পুতিনসহ বিশ্বনেতাদের পাতে চাপিয়ে দেওয়ার অভিযোগে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। কংগ্রেস নেতারা ভারতের খাদ্য সংস্কৃতিকে একমাত্র নিরামিষভোজন হিসেবে চাপিয়ে দেওয়ার বিরুদ্ধে সতর্কতা জানিয়েছেন
ব্রিকস সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক নৈশভোজে ভারত নিরামিষ খাবার পরিবেশন করে বিশ্বনেতাদের পাতে চাপিয়ে দেওয়ার অভিযোগে রাজনৈতিক বিতর্কের জ্বালা বাড়ছে। নয়া দিল্লিতে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনসহ ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানসহ বিভিন্ন দেশের নেতারা অংশ নেন। এতে ১০টি নিরামিষ পদ পরিবেশন করা হয়, যা ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ব্রিকস সম্মেলনে ভারত নিরামিষ খাবার পরিবেশন করে বিশ্বনেতাদের পাতে চাপিয়ে দেওয়ার অভিযোগে বিরোধী দলের নেতারা সতর্কতা জানিয়েছেন।
- 📌 কংগ্রেসের নেতা ওয়ারিস পাঠান বলেছেন, ভারতের ৮০ শতাংশ মানুষ আমিষভোজী এবং মাংস, মুরগি ও মাছ তাদের খাদ্যবৈচিত্র্যের অপরিহার্য অংশ।
- 📌 পবন খেরা অভিযোগ করেছেন, ভারত সরকার ব্রাহ্মণ্যবাদী ও হিন্দু-পরিচয়সম্পর্কিত নিরামিষ খাদ্যাভ্যাসকে জাতীয় খাদ্যসংস্কৃতির মানদণ্ড হিসেবে চাপিয়ে দিচ্ছে।
- 📌 বিজেপি শাসিত রাজ্যে মাংস বিক্রি ও কসাইখানার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ফলে মুসলিম, দলিত ও খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের খাদ্যাভ্যাসে প্রভাব পড়ছে।
- 📌 ২০২৩ সালের জি-২০ সম্মেলনেও ভারত নিরামিষ খাবার পরিবেশন করেছিল, কিন্তু ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট মাখোঁ পরে মাংসের খাবার অর্ডার করেছিলেন।
- 📌 যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে ২.৮ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র প্যাকেজ দিচ্ছে, যার মধ্যে ২ হাজার পাউন্ড ওজনের বোমাও রয়েছে।
📰 বিস্তারিত
ব্রিকস সম্মেলনের নৈশভোজে ভারতের নিরামিষ খাবার পরিবেশন নিয়ে বিরোধী দল কংগ্রেসের নেতারা তীব্র সমালোচনা করেছেন। কংগ্রেসের নেতা ওয়ারিস পাঠান বলেছেন, ‘ভারতের ৮০ শতাংশ মানুষ আমিষভোজী। আমাদের খাদ্যবৈচিত্র্যে ছাগলের মাংস, মুরগি ও মাছের গুরুত্ব অপরিহার্য।’ তিনি আরও বলেছেন, ‘আপনি নিরামিষভোজন প্রচার করতে পারেন, কিন্তু ভারতের খাদ্য সংস্কৃতিকে শুধু নিরামিষ মেন্যুতে সীমাবদ্ধ করবেন না।’
পবন খেরা অভিযোগ করেছেন, ভারত সরকার ব্রাহ্মণ্যবাদী ও হিন্দু-পরিচয়সম্পর্কিত নিরামিষ খাদ্যাভ্যাসকে জাতীয় খাদ্যসংস্কৃতির স্বাভাবিক মানদণ্ড হিসেবে তুলে ধরছে। তিনি বলেছেন, ‘বিজেপির এই অভ্যাস গভীরভাবে সমস্যাজনক। তারা বিশ্বনেতাদের ওপরও নিজেদের পছন্দ চাপিয়ে দিচ্ছে।’
ভারতের কেন্দ্রীয় সংসদবিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজ্জু কংগ্রেসের বিরুদ্ধে রাজনীতি করার অভিযোগ করেছেন। তিনি এক্সে লেখেন, ‘ব্রিকস নেতাদের খাবারের মেনু নিয়ে কংগ্রেস রাজনীতি করছে, এটা বিশ্বাসই করতে পারছি না।’
ব্রিকসের এই নৈশভোজে ১০টি নিরামিষ পদ পরিবেশন করা হয়েছিল, যার মধ্যে ছিল উত্তর ভারতের পনিরের তরকারি পনির লাবাবদার, কাশ্মীরের মোরেল মাশরুম দিয়ে তৈরি গুচ্ছি মারমিক এবং বিটরুট রায়তা। তবে এই ঘটনা নতুন নয়। ২০২৩ সালের জি-২০ সম্মেলনেও ভারত নিরামিষ খাবার পরিবেশন করেছিল। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট মাখোঁ পরে মাংসের খাবার অর্ডার করেছিলেন বলে জানা গেছে।
"রেকর্ডের জন্য বলছি—ভারতের ৮০ শতাংশ মানুষ আমিষভোজী। ভারতীয় আমিষ খাবার সুস্বাদু।"
"আপনি নিরামিষভোজন প্রচার করতে চান, করুন—এতে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু ভারতের খাদ্যসংস্কৃতিকে শুধু একটি নিরামিষ মেন্যুর মধ্যে সীমাবদ্ধ করবেন না।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নয়া দিল্লি, ভারত
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ভ্লাদিমির পুতিন, মাসুদ পেজেশকিয়ান, ওয়ারিস পাঠান, পবন খেরা, কিরেন রিজ্জু, ইমানুয়েল মাখোঁ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০টি নিরামিষ পদ, ৮০ শতাংশ আমিষভোজী, ২.৮ বিলিয়ন ডলার, ২ হাজার পাউন্ড ওজনের বোমা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!