📌 ভারতের বিজেপি এমপি নিশিকান্ত দুবে দাবি করেছেন, দেশভাগের সময় ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর সিদ্ধান্তে বাংলাদেশের নোয়াখালী, সিলেট ও চট্টগ্রাম বন্দর পাকিস্তানের হাতে চলে যায়। তিনি এই তিনটি অঞ্চল 'পুনরুদ্ধার' করার সময় এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন।
ভারতের বিজেপির সংসদ সদস্য নিশিকান্ত দুবে দাবি করেছেন, দেশভাগের সময় ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর সিদ্ধান্তে বাংলাদেশের নোয়াখালী, সিলেট ও চট্টগ্রাম বন্দর পাকিস্তানের হাতে চলে যায়। তিনি বলেছেন, এই তিনটি অঞ্চল 'পুনরুদ্ধার' করার সময় এসেছে। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) ভারতীয় বার্তা সংস্থা এএনআইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এই দাবি করেছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 নিশিকান্ত দুবে দাবি করেছেন, নোয়াখালী, সিলেট ও চট্টগ্রাম বন্দর ত্রিপুরা রাজ্যের অংশ ছিল এবং নেহরু এসব অঞ্চল পাকিস্তানের হাতে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
- 📌 তিনি বলেছেন, তৎকালীন ত্রিপুরার রাজা জওহরলাল নেহরুকে প্রশ্ন করেছিলেন যে, কী অধিকারে তিনি তার রাজ্যের ভূখণ্ড নিয়ে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।
- 📌 ১৯৪৮ সালের অক্টোবরে ত্রিপুরা আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের অন্তর্ভুক্ত হয়, কিন্তু নোয়াখালী, সিলেট ও চট্টগ্রাম বন্দর পাকিস্তানের হাতে চলে যায়।
- 📌 নিশিকান্ত দাবি করেছেন, ১৯৪৬ সালের নোয়াখালীর সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় ১০ হাজার হিন্দু নিহত হয়েছিলেন, কিন্তু নেহরু সেখানে যাননি।
- 📌 তিনি বলেছেন, চট্টগ্রাম বন্দর ভারতের হাতে থাকলে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হতো না।
- 📌 নিশিকান্ত দাবি করেছেন, সিলেটের গণভোট পরিচালনাকারী বাহারুল ইসলাম মুসলিম লীগ রেড আর্মির সদস্য ছিলেন।
📰 বিস্তারিত
নিশিকান্ত দুবে বলেছেন, নোয়াখালী, সিলেট ও চট্টগ্রাম বন্দর একসময় ত্রিপুরা রাজ্যের অংশ ছিল। তিনি দাবি করেছেন, দেশভাগের সময় তৎকালীন ত্রিপুরার রাজা বীর বিক্রম সিং নেহরুকে প্রশ্ন করেছিলেন যে, কী অধিকারে তিনি তার রাজ্যের ভূখণ্ড নিয়ে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। রাজা বলেছিলেন, ‘আমিই ঠিক করব, ভারতের সঙ্গে থাকব, পাকিস্তানে যাব নাকি স্বাধীন থাকব’।
তিনি আরও বলেছেন, ১৯৪৮ সালের অক্টোবরে ত্রিপুরা আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের অন্তর্ভুক্ত হয়। তৎকালীন মহারানি কাঞ্চনপ্রভা দেবী ভারত অন্তর্ভুক্তির চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিলেন। কিন্তু নোয়াখালী, সিলেট ও চট্টগ্রাম বন্দর পাকিস্তানের হাতে চলে যায়।
১৯৪৬ সালের নোয়াখালীর সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার প্রসঙ্গে নিশিকান্ত দুবে বলেছেন, ওই সময় নেহরু নোয়াখালীর পরিস্থিতির দিকে যথাযথ নজর না দিয়ে মুসলিম লীগকে সরকারে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে বেশি আগ্রহী ছিলেন। তিনি দাবি করেছেন, ১৫ অক্টোবর এক দিনেই নোয়াখালীতে ১০ হাজার হিন্দুকে হত্যা করা হয়েছিল। তবে প্রধানমন্ত্রী হওয়া সত্ত্বেও নেহরু সেখানে যাননি বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
চট্টগ্রাম বন্দরের নিয়ন্ত্রণ না থাকার কারণে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করেছেন নিশিকান্ত দুবে। তিনি বলেছেন, ‘আজ উত্তর-পূর্বাঞ্চল যে পিছিয়ে রয়েছে, সেখানকার খনিজ সম্পদ এবং মজুত গ্যাসের সদ্ব্যবহার করা যাচ্ছে না, ওই তল্লাটে এখনো যদি বিচ্ছিন্নতাবোধ টিকে থাকে, তাহলে তার একমাত্র কারণ হলো চট্টগ্রাম বন্দর হাতে না থাকা’।
তিনি আরও দাবি করেছেন, সিলেটের গণভোট পরিচালনাকারী বাহারুল ইসলাম মুসলিম লীগ রেড আর্মির সদস্য ছিলেন এবং নোয়াখালীর হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরবর্তী সময়ে কংগ্রেস তাকে পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে রাজ্যসভার সদস্য এবং হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি বানিয়েছিল বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
"নোয়াখালী, সিলেট ও চট্টগ্রাম বন্দর তিনটিই ছিল ত্রিপুরা রাজ্যের অংশ। নেহরুকে রাজা প্রশ্ন করেছিলেন, কীভাবে তিনি নোয়াখালী পাকিস্তানকে দিতে পারেন কিংবা সিলেট ও চট্টগ্রামে গণভোট করাতে পারেন? তিনি বলেছিলেন, এটা আমার রাজ্য। আমিই ঠিক করব ভারতের সঙ্গে থাকব, পাকিস্তানে যাব নাকি স্বাধীন থাকব।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঝাড়খন্ড (গোড্ডা আসন), ভারত
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: নিশিকান্ত দুবে (বিজেপি এমপি)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০ হাজার (নিহত হিন্দু), ১৫ অক্টোবর (দাঙ্গা), ৬ নভেম্বর (সাক্ষাৎকার)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!