📌 রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে ইউক্রেনের বন্দরে পচছে লাখ লাখ টন শস্য। কৃষ্ণসাগর ও হরমুজ প্রণালির নৌব্যবস্থা বিঘ্নিত হলে মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার খাদ্যসংকট তীব্র হবে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গমের দাম বেড়েছে ৬.৩ শতাংশ এবং মিসর, ইয়েমেন, লেবানন ও গাজায় খাদ্যসংকটের আশঙ্কা বাড়ছে
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বিশ্বের খাদ্য নিরাপত্তা বিপন্ন হচ্ছে। ইউক্রেনের বন্দরে পচছে লাখ লাখ টন শস্য এবং কৃষ্ণসাগরীয় বাণিজ্যিক নৌপথের অব্যাহত হামলা মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার খাদ্যসংকটকে তীব্র করছে। সংরক্ষণাগারের অভাব এবং পরিবহন সংকটের কারণে খাদ্য সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে, যা বিশ্ববাজারে মূল্যবৃদ্ধি সৃষ্টি করেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে ২০২৬ সালের মে থেকে অক্টোবর পর্যন্ত মোট ৩১৭টি জাহাজে হামলা** — আগের ছয় মাসের তুলনায় চারগুণ বেড়েছে।
- 📌 **ইউক্রেনের শস্য রপ্তানি ২০২৬-২৭ মৌসুমে ২৯ শতাংশ কমেছে** — আগের মৌসুমে ৩ কোটি ৭৫ লাখ টন শস্য রপ্তানি করা হয়েছিল।
- 📌 **মধ্যপ্রাচ্যে খাদ্যসংকটের ঝুঁকি বাড়ছে** — মিসর, ইয়েমেন, লেবানন ও গাজায় খাদ্যসংকটের আশঙ্কা রয়েছে।
- 📌 **গমের দাম বেড়েছে ৬.৩ শতাংশ** — তিন বছরের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ।
- 📌 **হরমুজ প্রণালির নৌব্যবস্থা বিঘ্নিত হলে ২০২৬ সালের দ্বিতীয়ার্ধে কৃষি উৎপাদন কমে যেতে পারে** — বিশেষ করে আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের আমদানিনির্ভর দেশগুলো।
📰 বিস্তারিত
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে ইউক্রেনের কৃষ্ণসাগরীয় বন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। এই অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। অ্যামব্রে অ্যানালিটিকসের তথ্য অনুযায়ী, মে থেকে অক্টোবর পর্যন্ত দুই পক্ষ মোট ৩১৭টি জাহাজে হামলা চালিয়েছে। আগের ছয় মাসের তুলনায় এই সংখ্যা চারগুণ বেড়েছে।
ইউক্রেনের কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত দেশটির শস্য রপ্তানি আগের মৌসুমের একই সময়ের তুলনায় ২৯ শতাংশ কমেছে। ২০২৫-২৬ মৌসুমে দেশটি ৩ কোটি ৭৫ লাখ টন শস্য ও ডালজাতীয় পণ্য রপ্তানি করেছিল। মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা ছিল এসব পণ্যের অন্যতম প্রধান বাজার।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সংযুক্ত আরব আমিরাতবিষয়ক রাষ্ট্রদূত লুসি বার্জার সতর্ক করেছেন, নভেম্বরের মধ্যে ইউক্রেনের ৯০ লাখ টনের বেশি শস্য, তৈলবীজ ও সংশ্লিষ্ট পণ্য সংরক্ষণের জায়গা না পাওয়া যেতে পারে। তিনি বলেছেন, খাদ্য উৎপাদন করাই যথেষ্ট নয়; তা সংরক্ষণ, পরিবহন এবং প্রয়োজনীয় দেশগুলোতে পৌঁছে দেওয়াও জরুরি।
জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) জানিয়েছে, গত সেপ্টেম্বরে বিশ্ববাজারে খাদ্যপণ্যের দাম বেড়েছে। এর মধ্যে গমের দাম বেড়েছে ৬.৩ শতাংশ, যা তিন বছরের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ। কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চলে পরিবহন সংকট এবং হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল নিয়ে অনিশ্চয়তা এ মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম কারণ।
মধ্যপ্রাচ্যে বাড়তি চাপ সংকটের বড় প্রভাব পড়তে পারে মিসরে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় গম আমদানিকারক দেশটি তুলনামূলক কম দামে গম পাওয়ার জন্য কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চলের ওপর নির্ভরশীল। ২০২৬ সালে দেশটির অভ্যন্তরীণ গম উৎপাদন প্রায় এক কোটি টন হলেও ২০২৬-২৭ মৌসুমে আরও ১ কোটি ৩৫ লাখ টন গম এবং ১ কোটি ৫৫ লাখ টন ভুট্টা আমদানির প্রয়োজন হতে পারে বলে জানিয়েছে এফএও।
ইয়েমেন, লেবানন ও গাজায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ইয়েমেনের সরকারি নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকাতেই ৪৭ শতাংশ মানুষ তীব্র খাদ্যনিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে। অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে দেশটির ১৮ লাখ মানুষের জরুরি পর্যায়ের খাদ্যসংকটে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। লেবাননে এক মাসে সবজির দাম ২০ শতাংশের বেশি এবং রুটির দাম ১৭ শতাংশ বেড়েছে। অন্যদিকে, গাজায় ১৪ লাখের বেশি মানুষের খাদ্যসংকটে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
"বিশ্বে গম বাণিজ্যের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ রাশিয়া ও ইউক্রেনের ওপর নির্ভরশীল। কৃষ্ণসাগরে অস্থিরতার কারণে ইউক্রেনের কৃষকেরা উৎপাদিত শস্য বিক্রি করতে পারছেন না। ফলে তাঁদের গুদামে অতিরিক্ত মজুত জমছে এবং বাজারে দামও কমে যাচ্ছে।" — **জ্যঁ-মার্তিন বাউয়ার**, বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) পরিচালক
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কৃষ্ণসাগর, হরমুজ প্রণালি, ইউক্রেন, রাশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য, মিসর, ইয়েমেন, লেবানন, গাজা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: জ্যঁ-মার্তিন বাউয়ার, লুসি বার্জার, ইউক্রেনের কৃষকেরা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩১৭টি জাহাজে হামলা, ২৯ শতাংশ কম শস্য রপ্তানি, ৯০ লাখ টন শস্য সংরক্ষণ সংকট, ৬.৩ শতাংশ গমের দাম বৃদ্ধি, ১৮ লাখ মানুষের খাদ্যসংকটের আশঙ্কা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!