📌 তালেবানের ক্ষমতায় ফেরার পাঁচ বছরে আফগানিস্তানের শাসনব্যবস্থা, নারীর অধিকার ও প্রশাসনিক বিধিনিষেধ নিয়ে বিবিসির প্রতিবেদনে উঠে এসেছে বিরল তথ্য। বিবিসির সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে ক্ষমতাসীনদের অতীত কর্মকাণ্ড, বর্তমান নীতি ও সাধারণ মানুষের অসন্তোষ।
আফগানিস্তানে তালেবান ক্ষমতায় ফেরার পাঁচ বছরে দেশটির শাসনব্যবস্থা, নারীর অধিকার ও প্রশাসনিক বিধিনিষেধ নিয়ে বিবিসির প্রতিবেদনে উঠে এসেছে বিরল তথ্য। দুই বছরের গবেষণায় তালেবানের নেতা, সাবেক যোদ্ধা ও সাধারণ মানুষের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে তৈরি প্রতিবেদনে ক্ষমতাসীনদের অতীত কর্মকাণ্ড, বর্তমান নীতি ও সাধারণ মানুষের অসন্তোষের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 উত্তর আফগানিস্তানের এক গভর্নরের কার্যালয়ে স্বামীর নির্যাতনের শিকার এক ১৮ বছর বয়সী তরুণী বিচ্ছেদ চেয়ে আবেদন জানান
- 📌 গভর্নর আবদুল্লাহ সারহাদি তরুণীকে সংসার টিকিয়ে রাখার পরামর্শ দেন এবং নারীদের ‘বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে দুর্বল’ বলে মন্তব্য করেন
- 📌 বিবিসির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, তালেবান শাসনে স্বামীর সম্মতি ছাড়া নারীর জন্য বিবাহবিচ্ছেদ পাওয়া অত্যন্ত কঠিন
- 📌 গভর্নর আবদুল্লাহ সারহাদি স্বীকার করেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের গুয়ানতানামো কারাগারে বন্দী ছিলেন এবং বামিয়ানের বুদ্ধমূর্তি ধ্বংসে অংশ নিয়েছিলেন
- 📌 কর্মকর্তাদের স্মার্টফোন ব্যবহারে সাম্প্রতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে প্রশাসনিক কাজের গতি কমে গেছে বলে জানান গভর্নর সারহাদি
📰 বিস্তারিত
উত্তর আফগানিস্তানের এক গভর্নরের কার্যালয়ে স্বামীর নির্যাতনের শিকার এক ১৮ বছর বয়সী তরুণী নিজের বিচ্ছেদের আবেদন নিয়ে উপস্থিত হন। মুখ পুরোপুরি আবৃত থাকলেও তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে নিজের সিদ্ধান্ত জানান। গভর্নর আবদুল্লাহ সারহাদি তাঁকে সংসার টিকিয়ে রাখার পরামর্শ দেন এবং নারীদের ‘বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে দুর্বল’ বলে মন্তব্য করেন। উপস্থিত পুরুষ কর্মকর্তাদের মধ্যে হাসির রোল ওঠে। তরুণীর অভিযোগ ছিল, স্বামী দীর্ঘদিন ধরে তাঁকে মারধর করেছেন। বিচ্ছেদের বিনিময়ে স্বামী বিয়ের সময় দেওয়া অর্থের চার গুণ দাবি করেন। পরিবারের পক্ষ থেকে তা প্রত্যাখ্যান করা হয়। গভর্নর স্ত্রীকে মারধর না করতে স্বামীকে সতর্ক করলেও তরুণী ও তাঁর পরিবার আদালতের মাধ্যমে বিচ্ছেদের সিদ্ধান্তে অটল থাকে।
তালেবান শাসনব্যবস্থায় স্বামীর সম্মতি ছাড়া নারীর জন্য বিবাহবিচ্ছেদ পাওয়া অত্যন্ত কঠিন বলে বিবিসির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। গভর্নর আবদুল্লাহ সারহাদি তালেবানের প্রথম শাসনামলের একজন সামরিক কমান্ডার ছিলেন। তিনি স্বীকার করেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের গুয়ানতানামো কারাগারে বন্দী ছিলেন এবং বামিয়ানের ঐতিহাসিক বুদ্ধমূর্তি ধ্বংসে অংশ নিয়েছিলেন। এ বিষয়ে তাঁর কোনো অনুশোচনা নেই বলেও জানান তিনি।
গভর্নর সারহাদির কাছ থেকেই জানা গেছে, কর্মকর্তাদের স্মার্টফোন ব্যবহারে সাম্প্রতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে প্রশাসনিক কাজের গতি কমে গেছে। আগে দ্রুত বার্তা আদান-প্রদান ও নথি হস্তান্তর করা সহজ ছিল। তবে এই নিষেধাজ্ঞা নিয়ে বিস্তারিত কথা বলতে তিনি রাজি হননি। তিনি বলেন, এ বিষয়ে বেশি কিছু বললে ‘সমস্যা হতে পারে’।
রাজধানী কাবুলে বিবিসির সঙ্গে কথা বলেন আরেক তালেবান কর্মকর্তা হাবিবুল্লাহ বদর। তিনি দাবি করেন, অতীতে কাবুলে আত্মঘাতী হামলাকারীদের কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন তিনি। তবে বেসামরিক মানুষের মৃত্যুর বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি নির্দিষ্ট হামলার প্রসঙ্গ এড়িয়ে যান।
তালেবানবিরোধী মত প্রকাশের ক্ষেত্রেও কঠোরতার চিত্র উঠে এসেছে প্রতিবেদনে। এক অনুষ্ঠানে মেয়েদের জন্য স্কুল ও শিক্ষা উন্মুক্ত করার দাবি জানান দাতব্য সংস্থার এক কর্মকর্তা। বক্তব্যের মাঝেই তাঁর মাইক্রোফোন সরিয়ে নেওয়া হয়। পরে তিনি বলেন, ইসলাম নারী-পুরুষ উভয়ের জন্য জ্ঞান অর্জনকে বাধ্যতামূলক করেছে।
"ইসলাম নারী-পুরুষ উভয়ের জন্য জ্ঞান অর্জনকে বাধ্যতামূলক করেছে।"
তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ বিবিসিকে বলেন, নারীর অধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ‘শরিয়তের কাঠামোর মধ্যেই’ নিশ্চিত করা হবে। তবে সরকারি অফিসে নারীদের কাজ করার অনুমতি দিলে ‘অনৈতিকতা’ সৃষ্টি হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। নারীদের শিক্ষার বিষয়ে এখনো ‘শরিয়াভিত্তিক সমাধান’ খোঁজা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
২০২১ সালে ক্ষমতায় ফেরার পর তালেবান মেয়েদের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা থেকে বঞ্চিত করেছে, অধিকাংশ কর্মক্ষেত্র থেকে নারীদের সরিয়ে দিয়েছে এবং তাদের চলাচলের ওপর নানা বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। কান্দাহারে পুরুষদের দাড়ি রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে; রেডিওতে গান ও নারীকণ্ঠ সম্প্রচারেও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
জাতিসংঘের হিসাবে, আফগানিস্তানের প্রতি চারজনের তিনজন মৌলিক চাহিদা পূরণ করতে পারেন না। তবে অনেক আফগান নাগরিক মনে করেন, দেশের সবচেয়ে বড় সংকটই তালেবান শাসন। এক নারী অধিকারকর্মী বিবিসিকে বলেন, শিক্ষিত নারীদের ভয় পায় তালেবান। কারণ শিক্ষিত নারীই ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সচেতন করে তুলতে পারেন। তাঁর মতে, তালেবান হয়তো আরও বিধিনিষেধ আরোপ করবে, কিন্তু এই পরিস্থিতি চিরকাল থাকবে না।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: আফগানিস্তান
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আবদুল্লাহ সারহাদি, হাবিবুল্লাহ বদর, জাবিউল্লাহ মুজাহিদ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৮ বছর, ৩৫ বছর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!