📌 ব্রিটিশ ভারতের পাঞ্জাবের সাহিত্যিক অমৃতা প্রীতম দেশভাগের যন্ত্রণা ও সামাজিক অসঙ্গতির বিরুদ্ধে কলম ধরেছিলেন। তাঁর সাহিত্যকর্মে উঠে এসেছে দুর্ভিক্ষ, যুদ্ধবিধ্বস্ত অর্থনীতি ও নারীর অধিকার নিয়ে প্রতিবাদ। সাহিত্য একাডেমি পুরস্কারসহ একাধিক রাষ্ট্রীয় সম্মাননা পেয়েছিলেন তিনি
ব্রিটিশ ভারতের অবিভক্ত পাঞ্জাবের গুজরানওয়ালা এলাকায় ১৯১৯ সালের ৩১ আগস্ট এক মধ্যবিত্ত পরিবারে অমৃতা প্রীতমের জন্ম হয়। সাহিত্যের প্রায় সব শাখায় সমান দক্ষতা থাকলেও তাঁকে প্রতিষ্ঠা দিয়েছিল কবিতাই। মাত্র ১১ বছর বয়সে মাকে হারিয়ে তাঁকে লাহোরে চলে যেতে হয় বাবার সঙ্গে। পরবর্তীতে দেশভাগের পর তিনি ভারতে চলে আসেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সাহিত্যের সব শাখায় বিচরণ করলেও কবিতাই তাঁকে প্রতিষ্ঠিত করেছিল
- 📌 ১৯৩৬ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম কবিতা সংকলন ‘অমৃত তরঙ্গ’
- 📌 দেশভাগের পর ভারতে চলে আসেন এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় সাধারণ মানুষের অধিকার নিয়ে কলম ধরেন
- 📌 ১৯৪৪ সালে প্রকাশিত ‘গণরোষ’ কাব্যগ্রন্থে তুলে ধরেন ১৯৪৩ সালের বাংলার দুর্ভিক্ষ ও যুদ্ধবিধ্বস্ত অর্থনীতির চিত্র
- 📌 ১৯৫০ সালে প্রকাশিত উপন্যাস ‘পিঞ্জর’ অবলম্বনে ২০০৩ সালে বলিউডে নির্মিত হয় চলচ্চিত্র
- 📌 সাহিত্য একাডেমি পুরস্কার লাভকারী প্রথম নারী ছিলেন তিনি
- 📌 ভারতের সর্বোচ্চ সাহিত্য পুরস্কার জ্ঞানপীঠ, পদ্মশ্রী ও পদ্মবিভূষণ উপাধিতে ভূষিত হন
- 📌 দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়, জবলপুর বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিশ্বভারতী তাঁকে ডি-লিট ডিগ্রি প্রদান করে
- 📌 ৮৬ বছর বয়সে ২০০৫ সালের ৩১ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন
📰 বিস্তারিত
অমৃতা প্রীতম ছিলেন এমন এক সাহিত্যিক যিনি নিজের কলমের মাধ্যমে সমাজের অসঙ্গতি ও রাজনৈতিক অস্থিরতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। তাঁর সাহিত্যকর্মে বারবার উঠে এসেছে দেশভাগের যন্ত্রণা, দুর্ভিক্ষের নির্মমতা এবং সাধারণ মানুষের অধিকারহীনতার চিত্র। ১৯৪৩ সালের বাংলার দুর্ভিক্ষ নিয়ে লেখা তাঁর ‘গণরোষ’ কাব্যগ্রন্থটি ছিল সেই সময়ের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটের এক প্রতিবাদী দলিল।
তাঁর উপন্যাস ‘পিঞ্জর’ পরবর্তীতে চলচ্চিত্রে রূপান্তরিত হয়, যা তাঁর সাহিত্যকর্মের জনপ্রিয়তাকে আরও বৃদ্ধি করে। সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় অবদানের জন্য তিনি একাধিক রাষ্ট্রীয় পুরস্কারে ভূষিত হন। ভারত সরকার তাঁকে পদ্মশ্রী ও পদ্মবিভূষণ উপাধিতে সম্মানিত করে। এছাড়া দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়, জবলপুর বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিশ্বভারতী তাঁকে ডি-লিট ডিগ্রি প্রদান করে।
তাঁর সাহিত্যকর্মের মাধ্যমে তিনি শুধু সাহিত্যিক হিসেবে নয়, একজন সমাজ সংস্কারক হিসেবেও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। তাঁর লেখনীতে বারবার ফুটে উঠেছে নারীর অধিকার ও সামাজিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ। তাঁর মৃত্যু হয় ২০০৫ সালের ৩১ অক্টোবর, ৮৬ বছর বয়সে।
"তাঁর কলম ছিল বিদ্রোহের প্রতীক, যা সমাজের অসঙ্গতি ও রাজনৈতিক অস্থিরতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছিল।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: অবিভক্ত পাঞ্জাবের গুজরানওয়ালা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: অমৃতা প্রীতম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩১ আগস্ট ১৯১৯ (জন্ম তারিখ), ১১ বছর (মায়ের মৃত্যুর সময়), ৮৬ বছর (মৃত্যুকালীন বয়স), ৩১ অক্টোবর ২০০৫ (মৃত্যু তারিখ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!