📌 'যৌনাঙ্গ চুরির' ভুয়া গুজব আফ্রিকার ছয় দেশে ১০ মাসে ৮০ জনেরও বেশি মানুষকে হত্যা করেছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো এই ভয়ঙ্কর গুজবের কারণে ৫৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।
আফ্রিকার ছয়টি দেশে 'যৌনাঙ্গ চুরির' ভুয়া গুজবের কারণে গত ১০ মাসে ৮০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের পিছনে রয়েছে সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো ভয়ঙ্কর গুজব, যেখানে দাবি করা হয় যে হাত দিয়ে পিঠে সামান্য টোকা দিলে পুরুষের যৌনাঙ্গ ছোট হয়ে যায় বা অদৃশ্য হয়ে যায়। বিবিসি গ্লোবাল ডিসইনফরমেশন ইউনিটের তথ্য অনুযায়ী, এই গুজবের কারণে ৫৫ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও অনেকের জীবন বিপদে পড়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 আফ্রিকার ছয়টি দেশে (তানজানিয়া, কঙ্গো, জাম্বিয়া, মোজাম্বিক, অ্যাঙ্গোলা, মালাউই) 'যৌনাঙ্গ চুরির' ভুয়া গুজবে ১০ মাসে ৮০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে, যার মধ্যে ৫৫ জনের মৃত্যু হয়েছে
- 📌 গুজবের মূলে রয়েছে জাদুটোনা ও কুসংস্কার, যেখানে দাবি করা হয় যে হাত দিয়ে পিঠে টোকা দিলে পুরুষের যৌনাঙ্গ ছোট বা অদৃশ্য হয়ে যায়
- 📌 তানজানিয়ার মেকানিক বনিফাস এমগালা নির্যাতনের শিকার হন এবং তার বন্ধু মারা যান, তিনি এখনও আহত অবস্থায় বাড়িতে আটকা পড়েছেন
- 📌 সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো ভিডিওগুলো গুজবকে আরও তীব্র করেছে, যেখানে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের মারধর ও হত্যা করা হয়েছে
- 📌 ফটোগ্রাফার মাইকেল সিলাভওয়ে বলেছেন, এক ব্যক্তিকে আগুনে পুড়িয়ে মারা হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়, কিন্তু সবাই ছত্রভঙ্গ হয়ে পালিয়ে যায়
📰 বিস্তারিত
গত বছরের অক্টোবর থেকে চলতি বছরের জুলাই মাসের মধ্যে আফ্রিকার ছয়টি দেশে 'যৌনাঙ্গ চুরির' ভুয়া গুজবের কারণে ৮০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের পিছনে রয়েছে সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো ভয়ঙ্কর গুজব, যেখানে দাবি করা হয় যে হাত দিয়ে পিঠে সামান্য টোকা দিলে পুরুষের যৌনাঙ্গ ছোট হয়ে যায় বা অদৃশ্য হয়ে যায়। বিবিসি গ্লোবাল ডিসইনফরমেশন ইউনিটের তথ্য অনুযায়ী, এই গুজবের কারণে ৫৫ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও অনেকের জীবন বিপদে পড়েছে।
তানজানিয়ার মেকানিক বনিফাস এমগালা এপ্রিল মাসে তার ওপর ঘটে যাওয়া নির্যাতনের বর্ণনা দিয়ে বিবিসিকে বলেন, "তারা চিৎকার করে বলছিল যে আমরা কারও যৌনাঙ্গ চুরি করেছি এবং সেখান থেকে পালানোর কোনো উপায় ছিল না, কারণ সেখানে বিশাল ভিড় জমে গিয়েছিল।" তিনি আরও বলেন, "সেদিন যে মৃত্যুর কত কাছাকাছি চলে গিয়েছিলাম তা যদি আগে জানতাম, তবে আমি ওই রেস্তোরাঁয় খেতে যেতাম না। আমাদের আসলে ধারণা নেই যে মৃত্যু কতটা কাছাকাছি।"
এমগালা ও তার বন্ধু দুপুরের খাবার খাওয়ার জন্য রেস্তোরাঁতে গিয়েছিলেন। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই একদল উন্মত্ত মানুষ তাদের টেনেহিঁচড়ে বাইরে বের করে আনে। মারধরের একপর্যায়ে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। দুই দিন পর হাসপাতালে যখন জ্ঞান ফেরে, তখন তিনি জানতে পারেন যে তার বন্ধু মারা গেছেন। এমগালা এখনও খুঁড়িয়ে হাঁটেন, কাজেও ফিরতে পারেননি। তিনি স্ত্রী ও চার সন্তানকে নিয়ে বাড়িতেই থাকেন। প্রতিবেশী ও বন্ধুরা তার প্রয়োজনীয় কিছু ওষুধের খরচ জোগাতে সাহায্য করেছেন।
ফটোগ্রাফার ও ব্যবসায়ী মাইকেল সিলাভওয়ে বলেন, "তারা তাকে আগুন দেওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং সবাই ছত্রভঙ্গ হয়ে পালিয়ে যায়।" তিনি আরও বলেন, "ওই ঘটনাগুলো বাড়তে থাকে এবং অনেক ব্যক্তিকেই মারধর করা হয়।" টিকটক ও ফেসবুকে এক লাখের বেশি মানুষের দেখা একটি ভিডিও যাচাই করেছে বিবিসি গ্লোবাল ডিসইনফরমেশন ইউনিট, যেখানে একদল লোক একজনকে মারধর করছে এবং এক ব্যক্তির চুরি যাওয়া যৌনাঙ্গ ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানাচ্ছে।
"আমি বুঝতে পেরেছি যে এটি সত্যি ছিল না। যদিও এতে তার আতঙ্ক দূর হচ্ছে না—বিশেষ করে তার স্ব"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: আফ্রিকার ছয়টি দেশ (তানজানিয়া, গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, জাম্বিয়া, মোজাম্বিক, অ্যাঙ্গোলা, মালাউই)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: বনিফাস এমগালা, মাইকেল সিলাভওয়ে, আলফ্রেড লাস্টেক (বিবিসি আফ্রিকা)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮০ জনেরও বেশি নিহত, ৫৫ জন মৃত্যু, ১০ মাস, ৬টি দেশ, ২৩ বছর বয়সী সিলাভওয়ে, ৫০ বছর বয়সী ফ্যাশন ডিজাইনার
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!