📌 ৭০ বছর বয়সেও সুস্থ ও কর্মক্ষম থাকতে তিরিশের দশকে জীবনযাত্রায় কিছু পরিবর্তন আনতে হবে। গবেষণা বলছে, পেশিশক্তি, হাড়ের ঘনত্ব ও মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য এই সময় থেকে রক্ষা করতে হয়
৭০ বছর বয়সেও সুস্থ ও কর্মক্ষম থাকতে তিরিশের দশকে জীবনযাত্রায় কিছু জরুরি পরিবর্তন আনতে হয়। বিবিসির প্রতিবেদন ও গবেষণায় দেখা গেছে, বার্ধক্যের কারণে শরীর দুর্বল হয়ে যাওয়া বা পরনির্ভরশীল হওয়া অবশ্যই অনিবার্য নয়। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া ভিত্তিক বাক ইনস্টিটিউট ফর রিসার্চ অন এজিং-এর প্রধান নির্বাহী এরিক ভার্দিন বলেছেন, সঠিক জীবনযাত্রার নিয়ন্ত্রণে থাকলে অধিকাংশ মানুষ ৯০ থেকে ৯৫ বছর বয়স পর্যন্ত পূর্ণ সুস্থতা বজায় রাখতে পারে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 তিরিশের দশক থেকে শুরু করুন শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন — এই সময়ে পেশিশক্তি, হাড়ের ঘনত্ব ও মেটাবলিজমে প্রথম বয়সজনিত পরিবর্তন শুরু হয়।
- 📌 পল মর্গান (ম্যানচেস্টার মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি) বলেছেন, ৭০ বছর বয়সের পর ভারসাম্য হারিয়ে পড়ার ঝুঁকি কমাতে দিনে অন্তত ১৫ মিনিটের দ্রুত হাঁটা বা ৫ মিনিটের মাঝারি ব্যায়াম করতে হবে।
- 📌 দাঁতের যত্ন ও অ্যালকোহল বর্জন মস্তিষ্কের প্রদাহ কমায় এবং ডিমেনশিয়া ঝুঁকি হ্রাস করে।
- 📌 প্রতিদিন একই সময়ে ঘুম ও ১২ ঘণ্টার ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং (রাতে ৮টা থেকে পরদিন সকাল ৮টা) শরীরের প্রদাহ কমায়।
- 📌 মিনেসোটার মেয়ো ক্লিনিকের অধ্যাপক জোয়াও পাসোস বলেছেন, তিরিশের দশকে গড়ে তোলা সুশৃঙ্খল খাদ্যাভ্যাস ও ব্যায়ামের অভ্যাস বৃদ্ধ বয়সে শরীর ও মস্তিষ্ককে স্বাবলম্বী রাখে।
📰 বিস্তারিত
বাক ইনস্টিটিউট ফর রিসার্চ অন এজিংর গবেষণা থেকে জানা যায়, মানবদেহে পেশিশক্তি, হাড়ের ঘনত্ব ও মেটাবলিজমে প্রথম বয়সজনিত পরিবর্তন তিরিশের দশকেই শুরু হয়। এই সময়ে যদি সঠিক পদক্ষেপ নেয়া যায়, তবে ৭০ থেকে ৯০ বছর বয়স পর্যন্ত সুস্থ ও কর্মক্ষম থাকা সম্ভব। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দাঁতের সুরক্ষা ও মিষ্টি খাবার কমানো মস্তিষ্কের প্রদাহ কমায় এবং ডিমেনশিয়া ঝুঁকি হ্রাস করে।
পল মর্গান (ম্যানচেস্টার মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির পুষ্টি ও বিপাক বিশেষজ্ঞ) বলেছেন, ৭০ বছর বয়সের পর ভারসাম্য হারিয়ে পড়ার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। তাই তিরিশের দশকে টেনিস, ব্যাডমিন্টন বা সাইক্লিংয়ের মতো খেলায় অংশ নেওয়া বা দিনে অন্তত ১৫ মিনিটের দ্রুত হাঁটা বা ৫ মিনিটের মাঝারি ব্যায়াম করা উচিত।
চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং ঘুম থেকে ওঠা মস্তিষ্কের সংকোচন রোধে ও কোষ মেরামতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এছাড়া, ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং (১২ ঘণ্টার খাদ্য বিরতি) শরীরের অভ্যন্তরীণ প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। পুষ্টিবিদরা মিষ্টি আলু, গাজর বা পাকা আমের মতো ক্যারোটিনয়েডসমৃদ্ধ খাদ্য গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন।
"মানুষ যদি নিজের জীবনযাত্রাকে সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, তবে বেশিরভাগ মানুষই ৯০ বা ৯৫ বছর বয়স পর্যন্ত পূর্ণ সুস্থতায় বেঁচে থাকার আশা করতে পারে।"
এরিক ভার্দিন (বাক ইনস্টিটিউট ফর রিসার্চ অন এজিং-এর প্রধান নির্বাহী)
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: যুক্তরাষ্ট্র (ক্যালিফোর্নিয়া)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: এরিক ভার্দিন, পল মর্গান, জোয়াও পাসোস
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭০ বছর, ৩০ বছর, ৯০ বছর, ৯৫ বছর, ১৫ মিনিট, ৫ মিনিট, ১২ ঘণ্টা, ৮টা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!