📌 দীর্ঘদিনের চিকিৎসা ও ফলোআপের মধ্য দিয়ে যাওয়ার পর সামিয়া আফরিন বলেছেন, আধুনিক জীবনের সহজতায় জীবন জটিল হয়ে পড়েছে। তিনি স্বাস্থ্য সচেতনতা, মানসিক স্বাস্থ্য এবং পরিবারের সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।
স্বাস্থ্য সচেতনতা ও মানসিক শান্তির পথে অগ্রসর হওয়া একজন ব্যক্তির জীবন কীভাবে পরিবর্তিত হয়, সে সম্পর্কে সামিয়া আফরিনের অভিজ্ঞতা আজকালের মানুষের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। দীর্ঘদিনের চিকিৎসা ও ফলোআপের মধ্য দিয়ে যাওয়ার পর তিনি বলেছেন, আধুনিক জীবনের সহজতায় জীবন জটিল হয়ে পড়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সামিয়া আফরিনের দৈনন্দিন জীবনে যোগব্যায়াম, শ্বাসপ্রশ্বাসের এক্সারসাইজ এবং ফ্রেশ ফুড খাওয়ার অভ্যাস গড়ে উঠেছে, যা আগের তুলনায় জীবনকে জটিল করেছে
- 📌 মানসিক স্বস্তি পেতে তিনি আল-কোরআনের বাংলা তরজমা পড়েন, গান শুনেন এবং পরিবারের সঙ্গে সময় কাটান
- 📌 পরিবারের সদস্যরা তার মানসিক অবস্থা বুঝতে পারেন এবং ছোটখাটো বিষয়গুলো সুন্দরভাবে সামলান
- 📌 দীর্ঘ চিকিৎসার পর তিনি টক্সিক মানুষ থেকে দূরে থাকার গুরুত্ব বুঝতে পারেছেন এবং নিজের মানসিক স্বাস্থ্য নিরাপদ রাখার চেষ্টা করছেন
- 📌 তিনি ‘পারপাস’ পডকাস্টের প্রচার ও ফাউন্ডেশনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন, কিন্তু শারীরিক অবস্থার কারণে গ্রামের মেডিক্যাল ক্যাম্পের পরিকল্পনা বাতিল করতে হয়েছে
📰 বিস্তারিত
সামিয়া আফরিনের দৈনন্দিন জীবনে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দিতে দেখা যায়। তিনি বলেছেন, “খুব সকালে উঠি। বাসার ছাদে হাঁটাহাঁটি করি। এরপর যোগব্যায়াম ও শ্বাসপ্রশ্বাসের এক্সারসাইজ করি। খেয়াল করলাম, একটা নির্দিষ্ট সময় পর হাঁপিয়ে উঠি, সেটাও ঠিক করার চেষ্টা করছি।” তিনি স্বাস্থ্যের প্রতি সচেতনতা বাড়ানোর জন্য নিজের শরীরের দিকে বেশি খেয়াল রাখেন।
স্বাস্থ্যের পাশাপাশি মানসিক স্বস্তি পেতে তিনি বিভিন্ন উপায় খুঁজছেন। তিনি বলেছেন, “আমার সঙ্গে মা–বাবা থাকেন, সন্তানেরা থাকে—ওদের সঙ্গে সময় কাটাই। টুকটাক বই পড়ার চেষ্টা করি। অনেক সময় আল–কোরআনের সুরার বাংলা তরজমা পড়ি। এগুলো সময় নিয়ে পড়ি। নিয়মিতই পড়ি। মানসিকভাবে আমাকে সবচেয়ে বেশি আনন্দ দেয় গান। গান শুনতে খুব পছন্দ করি, গাইতেও ভালোবাসি।” তিনি মুসাফির ক্যাফের গানগুলো বিশেষভাবে পছন্দ করেন এবং সারাদিন এসব গান শুনে সময় কাটান।
তিনি আরও বলেছেন, “বেশিরভাগ সময় নিজের মতো করে সময় কাটাতে ভালো লাগে। বারান্দায় বসে থাকি, গাছের সঙ্গে সময় কাটাই। আমার দুটি বিড়াল আছে, ওদের সঙ্গেও সময় কাটাতে বেশ ভালো লাগে।” পরিবারের সহযোগিতা সম্পর্কে তিনি বলেছেন, “বাসার সবার সহযোগিতা অবিশ্বাস্য। আমার হাজব্যান্ডের সাপোর্টের কথা আর কী বলব! মানুষ যখন ভালনারেবল থাকে, তখন কারও ছোট্ট কথাতেও অনেক বেশি আপসেট বা ইমোশনাল হওয়ার একটা বিষয় থাকে। আমার মনে হয়, এ ব্যাপারগুলো স্বামী–সন্তান ও মা–বাবা বেশ ভালোভাবেই বোঝে।”
দীর্ঘদিনের চিকিৎসা ও ফলোআপের অভিজ্ঞতা তাকে অনেক কিছু শিখিয়েছে। তিনি বলেছেন, “২০২২ থেকে ২০২৩—দুই বছর চিকিৎসা চলেছে। এরপর তিন বছর ফলোআপ। এই সময়ের মধ্য দিয়ে যেতে গিয়ে একটা পরিবর্তনের ভেতর দিয়ে যেতে হয়েছে। এখন আমি খুব বেশি স্ট্রেসফুল কথা সহ্য করতে পারি না। আগে যে বিষয়গুলো আমাকে খুব বেশি ইফেক্ট করত না, এখন সেগুলোও করে। সেই জায়গা থেকে, নিজের মানসিক স্বাস্থ্যের নিরাপত্তার কথা ভেবে, আবেগ ঠিক রাখতে টক্সিক মানুষ থেকে দূরে থাকি।”
তিনি তার কর্মজীবন সম্পর্কেও বলেছেন, “আমার ‘পারপাস’ নিয়ে পডকাস্ট করছি। অপারেশনে যাওয়ার আগে সব কটি পর্বের শুটিং শেষ করেছি। এখন সেগুলো নিয়েই কাজ চলছে, একটার পর একটা প্রচার হচ্ছে। ফাউন্ডেশনের কাজ করছি, এর ফেসবুক পেজটাকেও আপগ্রেড করার চেষ্টা করছি।” তিনি আরও বলেছেন, “অক্টোবর–নভেম্বর ও ডিসেম্বরের মধ্যে সচেতনতার জন্য আরও দুটি মেডিক্যাল ক্যাম্প করার পরিকল্পনা ছিল, কিন্তু শারীরিক অবস্থার কারণে এখন ট্রাভেল করাটাও মুশকিল। তবে আল্লাহ যদি চান, এগুলো করতে চাই।”
"আমরা কত ভাগ্যবান! সেরা চিকিৎসাসেবা পাচ্ছি, ভালো খাবার পাচ্ছি, অনেক ভালো আছি। অথচ আমাদের আশপাশে কত সুবিধাবঞ্চিত মানুষ, তাদের জন্য খারাপ লাগে। প্রতিদিন সকালে উঠে চিন্তা করি, ওদের জন্য যদি কিছু করে যাওয়া যায়।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাসার ছাদ, বারান্দা, রাজবাড়ী (গ্রামের বাড়ি)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সামিয়া আফরিন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০২২-২০২৩ (চিকিৎসা), ৩ বছর (ফলোআপ), ২টি (বিড়াল)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!