📌 মাগুরা সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে শয্যাসংকটের কারণে ২০০ জনের বেশি শিশু মেঝেতে বিছানা পেয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে। লোডশেডিংয়ের কারণে অসুস্থ শিশুদের অবস্থা আরও জটিল হচ্ছে বলে অভিযোগ করছেন রোগীরা
মাগুরা সদর হাসপাতালের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট শিশু ওয়ার্ডে শয্যাসংকটের কারণে অসুস্থ শিশুদের চিকিৎসা পরিবেশ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। শিশু ওয়ার্ডে নির্ধারিত ধারণক্ষমতা ৪৫ জন হলেও বর্তমানে সেখানে ২০০ জনের বেশি শিশু চিকিৎসা নিচ্ছে। লোডশেডিংয়ের কারণে বিদ্যুৎ বিভ্রাটে শিশুদের অবস্থা আরও কষ্টদায়ক হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন রোগীরা।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মাগুরা সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে শয্যাসংকটের কারণে ২০০ জনের বেশি শিশু মেঝেতে বিছানা পেয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে
- 📌 গত ২৪ ঘণ্টায় ১৩৭ এবং গত তিন দিনে প্রায় ৩০০ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে
- 📌 লোডশেডিংয়ে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে শিশু ওয়ার্ডে তাপমাত্রা বেড়ে গেছে, অসুস্থ শিশুদের অবস্থা আরও জটিল হচ্ছে
- 📌 শিশু ওয়ার্ডে মাত্র তিনজন চিকিৎসক রোগীদের সেবা দিচ্ছেন, যা ধারণক্ষমতার অনেক বেশি রোগীর চাপে পরিণত হয়েছে
- 📌 শিশুরা ঘামলে পানিশূন্যতার ঝুঁকিতে পড়তে পারে, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী স্যালাইন ও খাবার দেওয়া জরুরি
📰 বিস্তারিত
মাগুরা সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে শিশু রোগীদের চাপ এতটাই বেড়েছে যে, নির্ধারিত শয্যা পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় অনেক শিশুকে মেঝেতে বিছানা পেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গতকাল বুধবার ২৪ ঘণ্টায় ১৩৭ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। গত তিন দিনে প্রায় ৩০০ শিশু চিকিৎসা নিয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। শিশু ওয়ার্ড সূত্রে জানা গেছে, শিশুদের মধ্যে ঠান্ডা, জ্বর, কাশি, নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়া সহ বিভিন্ন রোগের কারণে চাপ বেড়েছে।
লোডশেডিংয়ের কারণে বিদ্যুৎ বিভ্রাটে শিশু ওয়ার্ডে তাপমাত্রা বেড়ে গেছে। অসুস্থ শিশুদের ঘেমে অস্বস্তিতে পড়ার কারণে তাদের অবস্থা আরও জটিল হয়ে পড়েছে। রোগীর স্বজনরা অভিযোগ করেছেন, বিদ্যুৎ না থাকায় শিশুদের নিয়ে হাসপাতালে আসা কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাদিয়া আক্তার বলেছেন, ‘বিদ্যুৎ ঠিকমতো না থাকায় শিশুরা ঘেমে যাচ্ছে। পরে ঠান্ডা ও জ্বর হচ্ছে। হাসপাতালে এসে বিদ্যুৎ না থাকলে শিশুদের নিয়ে খুব সমস্যায় পড়তে হয়।’
হাসপাতালের আরএমও মো. মামুন উর রশীদ জানান, ‘লোডশেডিংয়ের কারণে হাসপাতালে চিকিৎসক, রোগী ও স্বজন সবাইকে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। শিশু ওয়ার্ডে রোগীর ধারণক্ষমতা ৪৫ জন হলেও বর্তমানে সেখানে সব সময় ২০০ জনের বেশি রোগী ভর্তি থাকছে। এত বিপুলসংখ্যক রোগীর চিকিৎসাসেবা দিতে মাত্র তিনজন চিকিৎসককে দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।’
চিকিৎসকরা বলছেন, শিশুদের অসুস্থতার কারণ হিসেবে শুধু গরম বা বিদ্যুৎ বিভ্রাটকে দায়ী করা যায় না। শিশুর শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। শিশু ওয়ার্ডে দায়িত্বরত চিকিৎসক সাজিয়া আক্তার বলেছেন, ‘শিশু বেশি ঘামলে পানিশূন্যতার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজন অনুযায়ী স্যালাইন খাওয়াতে হবে। গরু বা ছাগলের দুধসহ কিছু খাবার দেওয়ার ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকতে হবে এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।’
"বিদ্যুৎ ঠিকমতো না থাকায় গরমে শিশুরা ঘেমে যাচ্ছে। পরে ঠান্ডা ও জ্বর হচ্ছে। হাসপাতালে এসে বিদ্যুৎ না থাকলে শিশুদের নিয়ে খুব সমস্যায় পড়তে হয়।"
"লোডশেডিংয়ের কারণে হাসপাতালে চিকিৎসক, রোগী ও স্বজন সবাইকে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। শিশু ওয়ার্ডে রোগীর ধারণক্ষমতা ৪৫ জন হলেও বর্তমানে সেখানে সব সময় ২০০ জনের বেশি রোগী ভর্তি থাকছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মাগুরা সদর হাসপাতাল, শিশু ওয়ার্ড
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মো. মামুন উর রশীদ (আরএমও), সাজিয়া আক্তার (চিকিৎসক), সাদিয়া আক্তার (রোগীর স্বজন), তৌহিদুল ইসলাম তৌহিদ (রোগীর স্বজন)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৫০ শয্যা, ১৩৭ শিশু (২৪ ঘণ্টায়), ৩০০ শিশু (৩ দিনে), ৪৫ জন (ধারণক্ষমতা), ২০০ জন (বর্তমান রোগী)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!