📌 টুথব্রাশে জীবাণু জমে যাওয়ার ঝুঁকি সম্পর্কে জানতে পারবেন। দাঁত মাজার পর যত্নসহকারে ব্রাশ ধুয়ে শুকিয়ে রাখলে জীবাণু নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী ব্রাশের যত্ন নেওয়ার নিয়মগুলো জানুন
প্রতিদিনের প্রথম কাজ হিসেবে দাঁত মাজা হলেও অনেকেই জানেন না যে, টুথব্রাশে জীবাণু জমে থাকতে পারে। দাঁত মাজার পর যত্নসহকারে ব্রাশ পরিষ্কার না রাখলে সেই জীবাণু মুখের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। দাঁতের চিকিৎসকদের মতে, ঠিকমতো ব্রাশের যত্ন নিলে এই ঝুঁকি কমে যায়। তবে জীবাণু থেকে নিজেকে রক্ষা করার উপায় জানতে হবে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ব্রাশের আঁশের ফাঁকে প্লাক, লালা ও খাবারের কণা জমে জীবাণু বাড়ায়
- 📌 ব্রাশ ব্যবহার করার পর ভালোভাবে ধুয়ে শুকিয়ে রাখতে হবে, না হলে জীবাণু বাড়ে
- 📌 ব্রাশ সোজা করে খোলা জায়গায় শুকাতে দিতে হবে, ঢাকনা বা বক্সে রাখা ঠিক নয়
- 📌 তিন থেকে চার মাস পরপর ব্রাশ বদলাতে হবে, কারণ ব্রিস্টল ছড়িয়ে গেলে পরিষ্কার করতে পারে না
- 📌 অসুস্থ হলে পুরোনো ব্রাশ ফেলে নতুন ব্রাশ ব্যবহার করাই নিরাপদ
- 📌 টয়লেটের কাছে ব্রাশ রাখা ঝুঁকিপূর্ণ, সম্ভব হলে শুকনা ও বাতাস চলাচলকারী জায়গায় রাখুন
- 📌 দাঁত মাজার আগে হাত ধুয়ে ব্রাশ ধরতে হবে, নোংরা হাতে ব্রাশ ধরলে জীবাণু চলে আসে
- 📌 দাঁত মাজার সময় নরম ব্রিস্টলের ব্রাশ ব্যবহার করুন এবং প্রতিবার দুই মিনিট সময় নিয়ে ৪৫ ডিগ্রি কোণে ব্রাশ করুন
📰 বিস্তারিত
দাঁত মাজার সময় ব্রাশের আঁশের ফাঁকে প্লাক, লালা, খাবারের কণা এবং টুথপেস্টের অবশিষ্টাংশ জমে যায়। বাথরুমের স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ এবং ব্রাশের ভেজা অবস্থা জীবাণুর জন্য আদর্শ পরিবেশ সৃষ্টি করে। ফলে ব্রাশ পুরোপুরি জীবাণুশূন্য থাকে না। তবে দাঁতের চিকিৎসকদের মতে, সুস্থ মানুষ এই জীবাণু দিয়ে অসুস্থ হয় না। তবে ব্রাশের যত্ন নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ব্রাশ ব্যবহার করার পর ভালোভাবে ধুয়ে ফেলতে হবে। ব্রিস্টলের ফাঁকে লেগে থাকা পেস্ট এবং ময়লা পুরোপুরি ধুয়ে ফেলতে হবে। শুধু একবার ঝাঁকিয়ে ফেলা যথেষ্ট নয়। ব্রাশের হাতলটাও ধুয়ে নিতে হবে। ধোয়ার পর অতিরিক্ত পানি ঝরিয়ে দিতে হবে। ব্রাশকে সোজা করে খোলা জায়গায় শুকাতে দিতে হবে। জীবাণুর বাড়ার প্রধান কারণ হলো আর্দ্রতা। তাই ব্রাশ ঢাকনা দিয়ে ঢেকে বা বন্ধ বক্সে রাখা ঠিক নয়। প্রতিদিনের ব্যবহারের জন্য ব্রাশ সোজা করে দাঁড় করিয়ে খোলা হোল্ডারে রাখতে হবে, যেন বাতাসে শুকাতে পারে।
ঘরে একাধিক ব্রাশ থাকলে একটির মাথা অন্যটির সঙ্গে লাগিয়ে রাখা ঠিক নয়। এতে একজনের জীবাণু অন্যটিতে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। ভ্রমণের সময় কভার ব্যবহার করতে হতে পারে। তখন ব্যবহারের পর ব্রাশ ভালো করে শুকিয়ে তবেই ঢেকে রাখতে হবে। বাসায় ফিরেই ব্রাশটাকে খোলা জায়গায় রেখে দিতে হবে।
ব্রিস্টল ছড়িয়ে গেলে বা বাঁকা হয়ে গেলে ব্রাশ আর ভালোভাবে দাঁত পরিষ্কার করতে পারে না। তাই তিন থেকে চার মাস পরপর নতুন ব্রাশ নিতে হবে। ব্রিস্টল নষ্ট দেখলে এর আগেই বদলে ফেলতে হবে। অসুস্থ হলে, বিশেষ করে গলাব্যথা, ফ্লু বা মুখের সংক্রমণ হলে সুস্থ হওয়ার পর পুরোনো ব্রাশ ফেলে নতুন ব্রাশ ব্যবহার করাই নিরাপদ। শিশুদের ব্রাশ তাড়াতাড়ি নষ্ট হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
বাথরুমে ব্রাশ কোথায় রাখবেন সে বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। অনেক বাসায় টুথব্রাশ টয়লেটের খুব কাছে থাকে। ফ্লাশ করলে পানির কণা বাতাসে ছড়াতে পারে। ঢাকনা বন্ধ করে ফ্লাশ করা ভালো অভ্যাস। তবে এতেও সব ঝুঁকি দূর হয়ে যায় না। সম্ভব হলে ব্রাশ টয়লেট থেকে একটু দূরে, শুকনা ও বাতাস চলাচল করা জায়গায় রাখতে হবে। হোল্ডারটাও সময় সময় ধুয়ে শুকিয়ে নিতে হবে।
দাঁত মাজার আগে হাত ধুয়ে ব্রাশ ধরতে হবে। নোংরা হাতে ব্রাশ ধরলে বাইরের জীবাণু ব্রাশে চলে আসে। ব্রাশ পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি দাঁত মাজার নিয়মও গুরুত্বপূর্ণ। নরম ব্রিস্টলের ব্রাশ ব্যবহার করুন এবং প্রতিবার দুই মিনিট সময় নিয়ে মাড়ির সঙ্গে ৪৫ ডিগ্রি কোণে আলতো করে ব্রাশ করুন। জোরে ঘষলে মাড়ি ও দাঁতের ওপরের স্তর ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দাঁতের ফাঁকা জায়গা পরিষ্কার করতে ফ্লস ব্যবহার করুন। জিভও পরিষ্কার রাখুন। ফ্লোরাইডযুক্ত টুথপেস্ট ব্যবহার করলে দাঁতের ক্ষয় কম হয়। মিষ্টি ও কার্বোনেটেড পানীয় কম খেয়ে ফল-সবজি চিবিয়ে খেলে মুখের স্বাস্থ্য ভালো থাকে।
"ব্রাশের যত্ন নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঠিকমতো ব্রাশের যত্ন নিলে জীবাণু থেকে নিজেকে রক্ষা করা যায়।" — দাঁতের চিকিৎসক
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাথরুম, টয়লেটের কাছে
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: দাঁতের চিকিৎসক
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪৫ ডিগ্রি, ২ মিনিট, ৩-৪ মাস
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!