📌 প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে ঢাকায় আসা হামে আক্রান্ত শিশুদের নিউমোনিয়া ও অপুষ্টির জটিলতা বাড়ছে। বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৯৭ জন শিশুর মধ্যে ৯৭-৯৮টি মৃত্যু হয়েছে। আইসিইউ শয্যা সংকট ও চিকিৎসক সংকটের কারণে শিশুদের জীবন ঝুঁকিতে পড়ছে
প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে ঢাকায় আসা হামে আক্রান্ত শিশুদের নিউমোনিয়া ও অপুষ্টির জটিলতা দেশের শিশু হাসপাতালের চিকিৎসকদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। যশোরের ঝিকরগাছা থেকে ২ মাস ২৭ দিন বয়সী নবজাতক আয়মান সাদিককে নিয়ে মা সানজিদা খাতুন ঢাকায় এসেছেন। স্থানীয় হাসপাতালে ১৬ দিন আইসিইউতে চিকিৎসা নেওয়ার পরেও তার অবস্থা উন্নত হয়নি। হামের পর নিউমোনিয়ার জটিলতা আরও বাড়ায়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 যশোরের ২ মাস ২৭ দিন বয়সী আয়মান সাদিককে নিয়ে মা সানজিদা খাতুন ঢাকায় এসেছেন, নিউমোনিয়া ও হামের জটিলতা থেকে মুক্তি পাচ্ছেন না
- 📌 নোয়াখালীর প্রত্যন্ত এলাকা থেকে আসা ২ বছরের মেয়ে হামিদা ও সাত মাসের রাইজান — দু’জনেই হাম ও নিউমোনিয়ার জটিলতা থেকে ভুগছেন
- 📌 বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালে ৯৭ জন শিশু চিকিৎসাধীন, তাদের মধ্যে ৯৭-৯৮টি মৃত্যু হয়েছে; বর্তমানে নতুন করে ২৫ জন ভর্তি হয়েছে
- 📌 হাসপাতালে মোট ৭০০টি শয্যা হলেও আইসিইউ শয্যা মাত্র ১৪টি — জটিল রোগীদের চিকিৎসা সংকটে পড়ছে
- 📌 শিশুদের ৯০% অপুষ্টিতে ভুগছে, যা তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভেঙে দিচ্ছে
📰 বিস্তারিত
ঢাকার বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালে হাম ও নিউমোনিয়ার জটিলতা থেকে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা চলছে। হাসপাতাল পরিচালক অধ্যাপক মির্জা মো. জিয়াউল ইসলাম বলেছেন, প্রত্যন্ত অঞ্চলে হাম সঠিকভাবে শনাক্ত না হওয়া এবং নিউমোনিয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলেও চিকিৎসা শুরুতে দেরি হওয়ায় শিশুদের অবস্থা দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেছেন, হামের সবচেয়ে বড় জটিলতা নিউমোনিয়া, যা অপুষ্টির সাথে মিলিত হয়ে শিশুদের জীবন সংকটে ফেলছে।
নুরজাহান বেগমের মেয়ে হামিদা নোয়াখালীর হাতিয়ার জাহাজমারা এলাকার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে এসেছেন। তিনি জানান, মেয়ের জ্বর ও ফুসকুড়ি ছিল ১৫ থেকে ২০ দিন ধরে। পরে রক্ত পরীক্ষায় ম্যালেরিয়া ধরা পড়লেও শ্বাসকষ্ট শুরু হলে ঢাকায় এসেছেন। কিন্তু হাসপাতালে অক্সিজেন পাওয়ার জন্য সংকটের মুখোমুখি হয়েছেন। একই জেলার কোম্পানীগঞ্জ থেকে আসা সাত মাসের রাইজানও নিউমোনিয়ার পর হামে আক্রান্ত হন। সাত দিন আইসিইউতে চিকিৎসা নেওয়ার পরেও তার শ্বাসকষ্ট পুরোপুরি কাটেনি।
হাসপাতালের মেডিক্যাল অফিসার মার্জিয়া আফরোজ বলেছেন, নবজাতক থেকে দুই বছর বয়সী শিশুরা হামে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে। বিশেষ করে টিকা পাননি এমন শিশুদের হামের জটিলতা মারাত্মক হয়ে দাঁড়ায়। ডায়রিয়া, বমি, খিঁচুনি বা নিউমোনিয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে সাধারণ অক্সিজেনে শ্বাসকষ্ট সামাল দেওয়া যায় না। তখন আইসিইউ বা ভেন্টিলেশন ছাড়া রোগীকে বাঁচানো কঠিন হয়ে পড়ে।
"যে পরিমাণ জটিল রোগী আসছে, সেই অনুপাতে মাথাপিছু চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য জনবল অনেক কম। সেবাদানকারী জনবলের সংকটের কারণে চিকিৎসা প্রদানে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে।"
হাসপাতালে বর্তমানে প্রায় ৩০০ চিকিৎসক কর্মরত আছেন। তবে আইসিইউ শয্যা মাত্র ১৪টি থাকায়, জটিল রোগীদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে। বর্তমানে ৯৭ জন শিশু চিকিৎসাধীন, তাদের মধ্যে ৯৭-৯৮টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আগামী মাসের মধ্যে আরও ৫০ জন চিকিৎসক নিয়োগের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা (বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল), যশোরের ঝিকরগাছা, নোয়াখালীর হাতিয়ার জাহাজমারা, কোম্পানীগঞ্জ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: অধ্যাপক মির্জা মো. জিয়াউল ইসলাম, ডা. মার্জিয়া আফরোজ, সানজিদা খাতুন, নুরজাহান বেগম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২ মাস ২৭ দিন (আয়মানের বয়স), ১৬ দিন (আইসিইউতে চিকিৎসা), ১৫-২০ দিন (হামিদার জ্বর ও ফুসকুড়ি), ৯০% (অপুষ্টিতে ভুগছেন), ৯৭-৯৮টি (মৃত্যু), ৯৭টি (চিকিৎসাধীন), ২৫ জন (নতুন ভর্তি)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!