📌 স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বলেছেন, হামের টিকাদান বন্ধের পেছনে প্রশাসনিক অবহেলা ও দায়িত্বহীনতা জড়িত। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে টিকাদান কর্মসূচি বাতিল ও জরুরি টিকা আমদানি না করার জন্য তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সরকার মাত্র এক-দুই মাসে ২ কোটি ২০ লাখ শিশুকে টিকা দিয়েছে
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত হামের টিকাদান বন্ধের পেছনে প্রশাসনিক অবহেলা ও দায়িত্বহীনতার দায়িত্বারোপ করেছেন। তিনি জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে হামের টিকাদান কর্মসূচি বাতিল করা হয় এবং জরুরি টিকা আমদানি করা হয়নি। এই ঘটনার তদন্তের জন্য একটি তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে, যারা পুরো প্রক্রিয়াটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখবে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 হামের টিকাদান বন্ধের কারণ: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বলেছেন, ২০২৪ সালের শেষ বা ২০২৫ সালের শুরুতে হামের টিকাদান কর্মসূচি বাতিল করা হয় এবং মন্ত্রণালয়ে কোনো আপাতকালীন মজুত রাখা হয়নি।
- 📌 তদন্ত কমিটি গঠন: দায়িত্বহীনতার জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, যেখানে একজন বিচারক ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
- 📌 টিকা সংকটের সমাধান: সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই জরুরি ভিত্তিতে ২ কোটি ২০ লাখ শিশুকে টিকা দিয়েছে।
- 📌 হৃদরোগের ঝুঁকি: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে, অতিরিক্ত মানসিক চাপ ও অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাসের কারণে তরুণদের হৃদরোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে।
- 📌 আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রকল্প: যুক্তরাজ্য, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের যৌথ উদ্যোগে ‘অ্যাক্রস-বিডি’ নামে পাঁচ বছরের গবেষণা প্রকল্প শুরু হয়েছে, যেখানে আটজন তরুণ চিকিৎসক ও গবেষক আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পিএইচডি করার সুযোগ পাবেন।
📰 বিস্তারিত
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ঢাকার শাহবাগে সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে অনুষ্ঠিত একটি আন্তর্জাতিক গবেষণা অনুষ্ঠানের শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বলেছেন, “দেশে হামের নজিরবিহীন প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ২০২৪ সালের শেষ বা ২০২৫ সালের শুরুতে যে জাতীয় টিকাদান ক্যাম্পেইন হওয়ার কথা ছিল, তৎকালীন সরকার তা পরিচালনা করেনি। এমনকি মন্ত্রণালয়ে কোনো আপাতকালীন টিকা মজুত রাখা হয়নি।”
মন্ত্রী বলেন, “কারা এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন সিদ্ধান্ত নিয়েছিল এবং কেন প্রয়োজনীয় টিকা আমদানি করা হলো না, তা দেশবাসীদের জানা জরুরি। আমরা কোনো রাজনৈতিক দোষারোপ করতে চাই না, তবে দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের অবহেলার কারণে কোনো শিশুর জীবন যেন অকালে ঝরে না যায়, সেজন্যই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।”
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জানান, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই জরুরি ভিত্তিতে দেশি-বিদেশি উৎস থেকে টিকা সংগ্রহ করে মাত্র এক থেকে দুই মাসের মধ্যে প্রায় ২ কোটি ২০ লাখ শিশুকে টিকার আওতায় আনা হয়েছে। এর ফলে টিকা সংকটের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে।
তিনি আরও বলেন, “অতিরিক্ত মানসিক চাপ, অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস, ধূমপান ও শরীরচর্চার অভাবে কম বয়সেই বহু মানুষ হার্ট অ্যাটাকের শিকার হচ্ছে। এটি একক ব্যক্তির চেয়ে পুরো পরিবারের ওপর বিপর্যয় ডেকে আনছে।”
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, “দূর-দূরান্তের হৃদরোগীরা যাতে নিজ বাড়িতে বসেই সাশ্রয়ী পুনর্বাসন ও মানসিক স্বাস্থ্য সেবা পেতে পারেন, সে লক্ষ্যে যুক্তরাজ্য, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের যৌথ উদ্যোগে ‘অ্যাক্রস-বিডি’ নামে পাঁচ বছরের গবেষণা প্রকল্প শুরু হয়েছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের আটজন তরুণ চিকিৎসক ও গবেষক আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পিএইচডি করার সুযোগ পাবেন।”
অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য তিনি গণমাধ্যমকে সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন।
"জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ১৫ দিনের মাথায় আমরা দেশে হামের নজিরবিহীন প্রাদুর্ভাব দেখতে পাই। অনুসন্ধানে দেখা যায়, ২০২৪ সালের শেষ বা ২০২৫ সালের শুরুতে যে জাতীয় টিকাদান ক্যাম্পেইন হওয়ার কথা ছিল, তৎকালীন সরকার তা পরিচালনা করেনি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা (শাহবাগে সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২ কোটি ২০ লাখ শিশু টিকা পেয়েছে, ৫ বছর মেয়াদি গবেষণা প্রকল্প
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!