📅 ১৯ আগস্ট ২০২৬, ৯:০৫ পূর্বাহ্ণ এআই প্রযুক্তিতে যাচাই করা সর্বশেষ সঠিক বাংলা সংবাদ।
⚡ শেষ মুহূর্ত

লোকসানের অজুহাতে ৪৪ রাষ্ট্রীয় শিল্প ইজারা দেওয়া চলবে না: জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের বিক্ষোভ

লোকসানের অজুহাতে ৪৪ রাষ্ট্রীয় শিল্প ইজারা দেওয়া চলবে না: জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের বিক্ষোভ

📷 ছবি: দেশজোগ

📡 নিউজ সোর্সগুলি:
🔗 প্রথম আলো ↗ ⚠ একক সোর্স
ℹ️ এই প্রতিবেদনটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) দ্বারা একাধিক সংবাদমাধ্যমের তথ্যের ভিত্তিতে পুনর্লিখিত। মূল নিউজ সোর্সগুলি নিচে উল্লেখ করা হয়েছে।

📌 জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ। কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী ফয়জুল হাকিম, নেতা হেমন্ত দাশ (ইউনূস সরকারের যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যচুক্তি বাতিলের দাবি), দীপা মল্লিক (২০২০-এ ২৫ পাটকল + ৬ চিনিকল বন্ধ), সাইফুর রুদ্র (২০০২ আদমজী জুট মিল গোল্ডেন হ্যান্ডশেক)। একই দিনে সরকারি সভা—আমলা ও ব্যবসায়ীদের নিয়ে নীতিমালা নির্ধারণ।

লোকসানের অজুহাত দেখিয়ে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ৪৪টি শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ব্যক্তিমালিকানায় ইজারা বা বিক্রির উদ্যোগের প্রতিবাদ জানিয়েছে জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল। মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী ফয়জুল হাকিম বলেছেন—জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার সরকারের পতন হলেও দেশ এখনো লুণ্ঠনভিত্তিক ব্যবসায়ী শ্রেণির শোষণ থেকে মুক্ত হয়নি। নেতা দীপা মল্লিক অভিযোগ করেছেন—২০২০ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ২৫টি পাটকল ও ৬টি চিনিকল বন্ধ করে লাখো শ্রমিককে বেকার করেছিল। সাইফুর রুদ্র মনে করিয়েছেন—২০০২ সালে বিএনপি সরকার গোল্ডেন হ্যান্ডশেক কর্মসূচির মাধ্যমে আদমজী জুট মিল বন্ধ করেছিল।

🔴 মূল পয়েন্ট

  • ৪৪টি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ব্যক্তিমালিকানায় ইজারা বা বিক্রির উদ্যোগের বিরোধিতা জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের।
  • মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ—একই দিন সকালে সরকার আমলা ও ব্যবসায়ীদের নিয়ে ৪৪ প্রতিষ্ঠান ইজারা/বিক্রির নীতিমালা নির্ধারণে সভা করেছে বলে অভিযোগ।
  • কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী ফয়জুল হাকিম: জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে হাসিনার পতন হলেও দেশ লুণ্ঠনভিত্তিক ব্যবসায়ী শ্রেণির শোষণ থেকে মুক্ত হয়নি।
  • নেতা হেমন্ত দাশ: অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস সরকারের সময়ে সম্পাদিত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারস্পরিক বাণিজ্যচুক্তি বাতিল করার দাবি।
  • নেতা দীপা মল্লিক: ২০২০ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ২৫টি পাটকল ও ৬টি চিনিকল বন্ধ করে লাখো শ্রমিককে বেকার করেছিল; কোনো সরকার নিরপেক্ষ তদন্ত কমিশন গঠন করেনি।
  • নেতা সাইফুর রুদ্র: ২০০২ সালে বিএনপি সরকার গোল্ডেন হ্যান্ডশেক কর্মসূচির মাধ্যমে আদমজী জুট মিল বন্ধ করেছিল; তখন আওয়ামী লীগ বিরোধিতা করেনি।
  • দাবি: রাষ্ট্রীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠান আধুনিকায়ন ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় পরিচালনা করা—বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়া নয়।
  • অভিযোগ: এই উদ্যোগ জনস্বার্থে নয়, বরং লুটেরা ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষার জন্য নেওয়া হচ্ছে।

জাতীয় প্রেসক্লাবে বিক্ষোভ: একই দিনে সরকারি সভা

আজ মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে এসব দাবি জানিয়েছে জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল। এর আগে একই দিন সকালে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ৪৪টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান ইজারা বা বিক্রির নীতিমালা নির্ধারণে সরকার আমলা ও ব্যবসায়ীদের নিয়ে সভা করেছে বলে অভিযোগ করে সংগঠনটি। এই সময়োপযোগী প্রতিবাদ দেখায় যে মুক্তি কাউন্সিল সরকারের পদক্ষেপের বিরুদ্ধে দ্রুত রাস্তায় নেমে এসেছে—যা সংগঠনটির সাংগঠনিক সক্ষমতা এবং এই ইস্যুতে তাদের অবস্থানের গুরুত্ব প্রমাণ করে।

সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী ফয়জুল হাকিম বলেছেন—জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার সরকারের পতন হলেও দেশ এখনো লুণ্ঠনভিত্তিক ব্যবসায়ী শ্রেণির শোষণ থেকে মুক্ত হয়নি। তাঁর অভিযোগ, সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের কারণে বাজারব্যবস্থা বিপর্যস্ত এবং কর্মসংস্থানের অভাবে তরুণদের ভবিষ্যৎ সংকটের মুখে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে ভারী শিল্প ও শিল্পের জাতীয় ভিত্তি গড়ে তোলার প্রয়োজন থাকলেও সরকার উল্টো রাষ্ট্রীয় শিল্প ব্যক্তিমালিকানায় দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে।

ফয়জুল হাকিম: 'লুটেরা ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষা'

ফয়জুল হাকিম বলেছেন, চিনিকল, পাটকলসহ জনগণের মালিকানাধীন ৪৪টি শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান সরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালনার পরিবর্তে বেসরকারি খাতে হস্তান্তরের চেষ্টা করা হচ্ছে। এটি জনগণের নয়, ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষার উদ্যোগ বলে দাবি করেছেন তিনি। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে শ্রমিক, কৃষক, ছাত্র ও সাধারণ মানুষকে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

ফয়জুল হাকিমের এই আহ্বান তাৎপর্যপূর্ণ—কারণ এটি কেবল একটি রাজনৈতিক সংগঠনের প্রতিবাদ নয়, বরং সামাজিক প্রতিরোধের গড়ে তোলার আহ্বান। মুক্তি কাউন্সিল মনে করে যে এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত কেবল রাজনৈতিক নেতৃত্বের মাধ্যমে নয়, বরং সাধারণ মানুষের সরাসরি প্রতিরোধের মাধ্যমেই থামানো সম্ভব।

হেমন্ত দাশ: যুক্তরাষ্ট্র-বাণিজ্যচুক্তি বাতিলের দাবি

জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের নেতা হেমন্ত দাশ বলেছেন, 'দেশের শিল্প ও কৃষি বিকাশের স্বার্থে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস সরকারের সময়ে সম্পাদিত পারস্পরিক বাণিজ্যচুক্তি বাতিল করতে হবে।' তিনি বলেছেন, দেশের অর্থনৈতিক নীতি বিদেশি নির্দেশনায় পরিচালিত হতে পারে না।

এই দাবি ইউনূস সরকারের সময়ে সম্পাদিত একটি বাণিজ্যচুক্তির প্রতি ইঙ্গিত করে—যা মুক্তি কাউন্সিলের মতে দেশের শিল্প ও কৃষি বিকাশের স্বার্থে ক্ষতিকর। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অবস্থান—যা বৈশ্বিক পুঁজিবাদী ব্যবস্থার সঙ্গে দেশের স্বাধীন অর্থনৈতিক নীতির দ্বন্দ্বকে তুলে ধরে।

দীপা মল্লিক: ২০২০-এ ২৫ পাটকল + ৬ চিনিকল বন্ধ

জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের আরেক নেতা দীপা মল্লিক বলেছেন, ২০২০ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ২৫টি পাটকল ও ৬টি চিনিকল বন্ধ করে লাখো শ্রমিককে বেকার করেছিল। লোকসানের কারণ অনুসন্ধানে কোনো সরকারই নিরপেক্ষ তদন্ত কমিশন গঠন করেনি। দুর্নীতি, শিল্প আধুনিকায়নে বিনিয়োগের অভাব এবং আমলা-ব্যবসায়ী যোগসাজশের কারণেই রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পগুলো দুর্বল হয়েছে।

দীপা মল্লিকের এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, মুক্তি কাউন্সিল রাষ্ট্রীয় শিল্পের লোকসানকে স্বাভাবিক ব্যবসায়িক সমস্যা হিসেবে নয়, বরং দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার ফল হিসেবে দেখে। তাঁদের যুক্তি হল—যেসব শিল্প দুর্নীতি ও বিনিয়োগের অভাবে লোকসানে গেছে, সেগুলো বেসরকারি খাতে দেওয়া সমাধান নয়—বরং দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া ও আধুনিকায়নে বিনিয়োগ করাই প্রকৃত সমাধান।

সাইফুর রুদ্র: ২০০২-এ আদমজী জুট মিল বন্ধ, আওয়ামী লীগ নীরব ছিল

সমাবেশে জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের নেতা সাইফুর রুদ্র বলেছেন, ২০০২ সালে বিএনপি সরকার গোল্ডেন হ্যান্ডশেক কর্মসূচির মাধ্যমে আদমজী জুট মিল বন্ধ করেছিল—আর তখন আওয়ামী লীগও সেই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেনি। তাঁর দাবি, বর্তমানে ৪৪টি রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প ব্যক্তিমালিকানায় ইজারা বা বিক্রির উদ্যোগেও বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো কার্যত নীরব সমর্থন দিচ্ছে। এই বিষয়ে শ্রমিক-কৃষকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

সাইফুর রুদ্রের এই মন্তব্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পর্যবেক্ষণ—তিনি দেখাচ্ছেন যে বাংলাদেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো (বিএনপি ও আওয়ামী লীগ) ঐতিহাসিকভাবে রাষ্ট্রীয় শিল্প বন্ধের ক্ষেত্রে নীরব বা সমর্থক ছিল। এই ক্ষেত্রে মুক্তি কাউন্সিল নিজেকে একটি বিকল্প রাজনৈতিক অবস্থান হিসেবে তুলে ধরছে—যা রাষ্ট্রীয় শিল্পের পক্ষে এবং বেসরকারিকরণের বিরুদ্ধে।

'জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার সরকারের পতন হলেও দেশ এখনো লুণ্ঠনভিত্তিক ব্যবসায়ী শ্রেণির শোষণ থেকে মুক্ত হয়নি। সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের কারণে বাজারব্যবস্থা বিপর্যস্ত এবং কর্মসংস্থানের অভাবে তরুণদের ভবিষ্যৎ সংকটের মুখে পড়েছে।'—ফয়জুল হাকিম, কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী, জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল
যাচাই অবস্থা: ✓ যাচাইকৃত (নির্ভরতা স্কোর: 80%)

📡 মূল নিউজ সোর্সসমূহ

এই প্রতিবেদনটি নিচের সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে। মূল সংবাদ পড়তে নিচের লিংকে ক্লিক করুন:

📤 শেয়ার করুন: 📘 Facebook 💬 WhatsApp 𝕏 Twitter 💼 LinkedIn ✈️ Telegram

💬 মন্তব্য (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!

মন্তব্য অনুমোদনের পর প্রকাশ করা হবে। ইমেইল প্রকাশিত হবে না।
🤖