📌 পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির বলেছেন, সরকারের অনুমতি পেলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ক্রসফায়ারও করতেই পিছপা হবে না। তিনি মাদক দমনে জিরো টলারেন্স নীতির কথা জোর দিয়েছেন এবং অতীতের অনিয়মের কথা উল্লেখ করে বর্তমান ব্যবস্থাপনার নৈতিকতা ও স্বচ্ছতার উপর জোর দিয়েছেন
পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ও কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির চেয়ারম্যান আলী হোসেন ফকির বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ দমনে সরকারের অনুমতি পেলে পুলিশ ক্রসফায়ারও করতেই পিছপা হবে না। তিনি সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাজধানীর চকবাজারের শাহজাহান ইমাম টাওয়ারে অনুষ্ঠিত কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির ইসলামিক ব্যাংকিং সেবা ‘কমিউনিটি ইসলামিক’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 আইজিপি আলী হোসেন ফকির: সরকারের অনুমতি পেলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ক্রসফায়ারও করতেই পিছপা হবে না পুলিশ
- 📌 মাদক দমনে জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে পুলিশ, গত দুই মাসে ২৭ জন পুলিশ কর্মকর্তাকে জেলে পাঠানো হয়েছে
- 📌 ইসলামিক ব্যাংকিং সেবা ‘কমিউনিটি ইসলামিক’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে আইজিপি বলেন, সুদ ও ঘুষ সম্পূর্ণ হারাম, ব্যাংকিং খাতে নৈতিকতা ও স্বচ্ছতা প্রয়োজন
- 📌 পুলিশের সমালোচনা করে দেওয়া নাগরিক সমাজের ১০১ জনের বিবৃতির জবাবে আইজিপি বলেন, আইনের আওতায় থাকতে হবে, স্বাধীনতা আইনের বাইরে কাজের অধিকার নয়
- 📌 পুলিশের যোগ্যতা নিয়ে সমালোচনার জবাবে আইজিপি বলেন, পুলিশকে সবচেয়ে বেশি শিক্ষিত লোকের প্রয়োজন, কারণ তাদের সমাজের সব শ্রেণির মানুষ নিয়ন্ত্রণ করতে হয়
📰 বিস্তারিত
আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ দমনে সরকারের অনুমতি পেলে পুলিশ ক্রসফায়ারও করতেই পিছপা হবে না — এ কথা বলেছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ দমনে সরকার যদি অনুমতি দেয় এবং প্রয়োজন হয়, তবে পুলিশ ক্রসফায়ারও করবেনা পিছপা হবে না। তিনি বলেন, পুলিশকে এমপাওয়ার না করলে এবং আইন প্রয়োগের সুযোগ না দিলে সমাজে শান্তি ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়।
আইজিপি বলেন, ‘আমাদেরও চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স রয়েছে। কিন্তু কথায় কথায় পুলিশের ওপর চড়াও হওয়া বা পুলিশকে অকার্যকর করার চেষ্টা করা হলে সমাজব্যবস্থা টিকিয়ে রাখা কঠিন হবে।’ তিনি মাদক দমনে জিরো টলারেন্স নীতির কথা জোর দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘পাড়া-মহল্লায় মাদকের বিস্তার রোধে পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে। পুলিশ সদস্যদের কেউ অপরাধ করলে ছাড় দেওয়া হচ্ছে না।’
গত ১৭ বছর ধরে যারা নেতৃত্ব দিয়ে দেশকে অকার্যকর করেছে, তাদের আমলেই পাড়ায়-মহল্লায় মাদকের বিস্তার ঘটেছে — এ কথা উল্লেখ করে আইজিপি বলেন, ‘তৎকালীন সরকারি দলের নেতারা মাদক থেকে মাসোহারা পেতেন এবং পুলিশেরও কিছু সদস্য এতে জড়িত ছিলেন। তবে আমরা আগে নিজেদের ঘর পরিষ্কার করছি। গত দুই মাসে ২৭ জন পুলিশ কর্মকর্তাকে জেলে পাঠানো হয়েছে।’
ইসলামিক ব্যাংকিং সেবা ‘কমিউনিটি ইসলামিক’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে আইজিপি বলেন, ইসলামে সুদ ও ঘুষ সম্পূর্ণ হারাম। তিনি বলেন, প্রকৃত ইসলামিক ব্যাংকিং হতে হবে সম্পূর্ণ সুদুমুক্ত, যেখানে থাকবে অংশীদারিত্ব (পার্টনারশিপ), নৈতিকতা এবং ফেয়ার বিজনেস বা স্বচ্ছ জবাবদিহিতা। তিনি অতীতে ব্যাংকিং খাতে বিভিন্ন অনিয়ম, ব্যাংক দখল এবং উচ্চ মুনাফার লোভ দেখিয়ে সাধারণ গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণার তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের সুপারভিশন ও মনিটরিং ঠিক না থাকলে যতই আইন থাকুক না কেন, তা কার্যকর হবে না। গ্রাহক ও বাস্তবায়নকারী উভয় পক্ষকেই নৈতিকতার জায়গায় থাকতে হবে।’
নাগরিক সমাজের এক বিবৃতিতে পুলিশের সমালোচনা করা হয়েছিল। এ প্রসঙ্গে আইজিপি বলেন, ‘১০১ জন নাগরিক বলছেন গোপনীয়তার কথা। আপনি কি পুলিশ হাউজিংয়ের ভেতরে গোপনে গিয়ে মদ খাবেন, মাতলামি করবেন, কোকেন-হিরোইন গ্রহণ করবেন? সংবিধানের কোথায় লেখা আছে যে এসব আপনার অধিকার? স্বাধীনতা আছে বলে যা ইচ্ছা তা করতে পারবেন না, আইনের আওতায় থাকতে হবে।’
পুলিশের যোগ্যতা নিয়ে সমালোচনার জবাবে আইজিপি বলেন, ‘আপনারা বলেন অশিক্ষিত পুলিশ নিয়োগ দেন, কনস্টেবলের আবার কি জ্ঞান লাগে? অথচ এই কনস্টেবলই তৃণমূল পর্যায়ে আপনাকে সেবা দিচ্ছে। ওর সঙ্গে ঝামেলা হলেই বলেন পুলিশ খারাপ। আবার নিয়োগের সময় বলেন শিক্ষিত লোকের প্রয়োজন নেই। কিন্তু পুলিশেই সবথেকে বেশি শিক্ষিত লোক দরকার, কারণ তাকে সমাজের সব শ্রেনির মানুষকে কন্ট্রোল করতে হবে।’ তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ফেল করলে রাস্তায় পুলিশের সঙ্গে ছাত্রদের মারামারি হয়, ইন্ডাস্ট্রিতে বেতন না দিলে শ্রমিকের মারামারি হয় পুলিশের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘পুলিশকে অকার্যকর করে সব দায় পুলিশের ওপর চাপানো যাবে না। সংবিধানে পুলিশের কাজের চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স রয়েছে। জুলাই অভ্যুত্থানের পর পুলিশের ডিউটি করতে ভয় পাওয়ার যে পরিস্থিতি ছিল, সেখান থেকে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি সুখী-সমৃদ্ধময় বাংলাদেশ গঠনের জন্য পুলিশ দিন-রাত কাজ করছে।’
"আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ দমনে সরকার যদি অনুমতি দেয় এবং প্রয়োজন হয়, তবে আমরা ক্রসফায়ারও করবো। পুলিশকে এমপাওয়ার না করলে এবং আইন প্রয়োগের সুযোগ না দিলে সমাজে শান্তি ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রাজধানীর চকবাজার, শাহজাহান ইমাম টাওয়ার
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আলী হোসেন ফকির (আইজিপি)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৬ অক্টোবর, ২০২৬; ২৭ জন পুলিশ কর্মকর্তা; ১০১ জন নাগরিক; ১৭ বছর; ৪৭ মিনিট
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!