📌 পটুয়াখালীর কলাপাড়ার ঐতিহাসিক ছয়ানিপাড়া গ্রামটি উচ্ছেদের নয় বছর পর সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। সরকারি অধিগ্রহণের পর স্থানান্তরিত রাখাইন পরিবারগুলো এখনও স্থায়ী পুনর্বাসন পায়নি
পটুয়াখালীর কলাপাড়ার ঐতিহাসিক রাখাইন গ্রাম ছয়ানিপাড়া সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। উচ্ছেদের নয় বছর পরও স্থানান্তরিত পরিবারগুলো স্থায়ী পুনর্বাসন পায়নি।
🔴 মূল তথ্য
- 📌 ২০১৭ সালে ছয়ানিপাড়ায় ছিল মাত্র ১০টি রাখাইন পরিবার, যেখানে ১৭৬০ সালে ছিল ৬৫টি পরিবার
- 📌 ২০১৯ সালে সরকারি সার্ভেয়াররা জমি অধিগ্রহণের উদ্দেশ্যে মাপামাপি শুরু করেন
- 📌 ২০২১ সালে ছয় পরিবারকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে মোট ৯৬ লাখ টাকা দেওয়া হয়
- 📌 উচ্ছেদ হওয়া পরিবারগুলো এখন প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে নতুন স্থানে মানবেতর জীবনযাপন করছে
📰 বিস্তারিত
পটুয়াখালীর কলাপাড়ার টিয়াখালী ইউনিয়নের প্রাচীন রাখাইন গ্রাম ছয়ানিপাড়া। রাখাইন ভাষায় এর নাম খ্রাওরাদান, যার অর্থ ছয় শতক। ১৭৬০ সালে ফ্রুওয়ান ও পৌম মাতবর এই গ্রাম প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁদের সময় গ্রামটিতে ৬৫টি রাখাইন পরিবার বসবাস করত।
২০১৭ সালে গিয়ে দেখা যায়, গ্রামটিতে মাত্র ১০টি পরিবার রয়ে গেছে। পায়রা বন্দরের জমি অধিগ্রহণের কারণে গ্রামবাসীরা উচ্ছেদের আতঙ্কে ছিলেন। ২০১৯ সালে সরকারি কর্মকর্তারা হঠাৎ করেই গ্রামে প্রবেশ করে জমির মাপামাপি শুরু করেন। তাঁরা জানান, বন্দরের জন্য গ্রামটির জমি অধিগ্রহণ করা হবে।
গ্রামবাসীরা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সরকারের কাছে গ্রামটি রক্ষার দাবি জানান। তবে অধিগ্রহণ সংক্রান্ত কোনো কাগজপত্র কারও কাছে ছিল না। উদ্বাস্তু চিংদামো রাখাইন জানান, প্রশাসন থেকে ছয়টি পরিবারকে ঘরভাড়া হিসেবে প্রতি মাসে পাঁচ হাজার টাকা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ছয় মাস পর তা বন্ধ হয়ে যায়।
২০২১ সালের নভেম্বরে করোনা মহামারির মধ্যে তীব্র শীতের দিনে গ্রামবাসীদের ছয়ানিপাড়া ছাড়তে বাধ্য করা হয়। তাঁরা প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে বালিয়াতুলী ইউনিয়নের নতুন একটি রাখাইনপাড়ায় যাত্রা করেন। হাঁস-মুরগি, গরু-ছাগল বিক্রি করে তাঁরা নতুন স্থানে পৌঁছান।
📊 ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন
২০২১ সালে স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও হুকুমদখল আইনের ৮ নম্বর ধারা অনুযায়ী ছয় পরিবারকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে মোট ৯৬ লাখ টাকা দেওয়া হয়। তবে স্থায়ী পুনর্বাসনের ব্যবস্থা হয়নি। নতুন স্থানে তাঁরা জলে ডোবা কৃষিজমিতে ঘর তৈরির পরিবেশ না পেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
উচ্ছেদ হওয়া পরিবারগুলোর মধ্যে চিংদামো, লাচিঅং, মংচো, নেশাই মং, ইয়াংসি ও ভাই-বোন লাচিমং ও চিংদাউ রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে অনেকেই কলাপাড়ায় ঘর ভাড়া করে থাকছেন।
"স্থায়ী পুনর্বাসনের আগপর্যন্ত প্রশাসন থেকে ছয়টি পরিবারকে ঘরভাড়া হিসেবে প্রতি মাসে পাঁচ হাজার টাকা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ছয় মাস দেওয়ার পর তা বন্ধ হয়ে যায়।"
📅 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: পটুয়াখালীর কলাপাড়া, টিয়াখালী ইউনিয়ন, বালিয়াতুলী ইউনিয়ন
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ফ্রুওয়ান মাতবর, পৌম মাতবর, চিংদামো রাখাইন, লাচিমং, চিংদাউ, নেশাই মং
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬৫টি পরিবার (১৭৬০), ১০টি পরিবার (২০১৭), ৬টি পরিবার (ক্ষতিপূরণ), ৯৬ লাখ টাকা (ক্ষতিপূরণ), ২৫ কিলোমিটার (দূরত্ব)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!