📌 আইপিডি ও নগর পরিকল্পনাবিদরা বাংলাদেশের নগরায়ণে দেশীয় সংস্কৃতি ও সামাজিক মূল্যবোধকে কেন্দ্র করে জনবান্ধব নগর গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন। তারা ৬টি সুপারিশ পেশ করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে পুকুর-উঠান-পাড়াভিত্তিক নগর পরিকল্পনা ও শ্রেণিভিত্তিক বৈষম্য দূরীকরণ
বাংলাদেশের নগরায়ণে মানবিক মূল্যবোধ ও স্থানীয় সংস্কৃতিকে পুনরুজ্জীবিত করার আহ্বান জানিয়েছে ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইপিডি)। বিশ্ব শহর দিবস উপলক্ষে আজ শুক্রবার ‘বাংলাদেশের নগরায়ণের উন্নয়ন দর্শন’ শীর্ষক ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় এই দাবি উত্থাপিত হয়। সভায় অংশগ্রহণকারী নগর পরিকল্পনাবিদ ও বিশেষজ্ঞরা নগর উন্নয়নে অবকাঠামো নির্মাণের পাশাপাশি মানুষের সামাজিক ও মানবিক চাহিদাকে গুরুত্ব দেওয়ার দাবি জানান।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 আইপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেছেন, ‘পুকুর, উঠান, পাড়া-মহল্লা ও খেলার মাঠ’ ছিল আমাদের সামাজিক যোগাযোগের মূল কেন্দ্র, যা অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও দখলদারিত্বের কারণে আজ সংকুচিত হয়েছে।
- 📌 বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি) সভাপতি ড. মুহাম্মদ আরিফুল ইসলাম আক্ষেপ করেন, বর্তমান নগর পরিকল্পনা ব্যবসায়িক ও গোষ্ঠী স্বার্থে পরিচালিত হচ্ছে, মানবিক দর্শন থেকে দূরে সরে গেছে।
- 📌 আইপিডির উপদেষ্টা অধ্যাপক আকতার মাহমুদ জোর দেন ঢাকাকেন্দ্রিক উন্নয়ন বিকেন্দ্রীকরণে অর্থনৈতিক করিডোরভিত্তিক উন্নয়নের ওপর।
- 📌 জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মুহাম্মদ উল্লাহ নগর পরিকল্পনায় পুঁজিনির্ভরতার সমালোচনা করে সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।
- 📌 আইপিডি ৬টি সুপারিশ পেশ করে, যার মধ্যে রয়েছে পুকুর-উঠান-পাড়াভিত্তিক নগরায়ণ, শ্রেণিভিত্তিক বৈষম্য দূরীকরণ ও নিরাপদ খেলার মাঠের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা।
📰 বিস্তারিত
বাংলাদেশের নগরায়ণে মানবিক মূল্যবোধ ফিরিয়ে আনার জন্য আইপিডি ‘পুকুর-উঠান-পাড়াভিত্তিক নগরায়ণ’ ধারণাকে আধুনিক নগর পরিকল্পনায় ফিরিয়ে আনার প্রস্তাব দিয়েছে। আইপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, ‘উন্নয়ন মানে কেবল অবকাঠামো নির্মাণ নয়, উন্নয়ন মানে মানুষের জন্য সুস্থ ও মানবিক জীবন নিশ্চিত করা।’ তিনি উল্লেখ করেন, অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও দখলদারিত্বের কারণে পুকুর, উঠান ও খেলার মাঠের মতো সামাজিক যোগাযোগের কেন্দ্রগুলি আজ সংকুচিত হয়েছে।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি) সভাপতি ড. মুহাম্মদ আরিফুল ইসলাম আক্ষেপ করেন, বর্তমান নগর পরিকল্পনা ব্যবসায়িক ও গোষ্ঠী স্বার্থে পরিচালিত হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমরা আর মানবিক দর্শনে নগর পরিকল্পনা করছি না, বরং তা ব্যবসায়িক ও গোষ্ঠী স্বার্থে পরিচালিত হচ্ছে।’ অন্যদিকে, আইপিডির উপদেষ্টা অধ্যাপক আকতার মাহমুদ ঢাকাকেন্দ্রিক উন্নয়ন বিকেন্দ্রীকরণে অর্থনৈতিক করিডোরভিত্তিক উন্নয়নের ওপর জোর দেন।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মুহাম্মদ উল্লাহ নগর পরিকল্পনায় পুঁজিনির্ভরতার সমালোচনা করে সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান। তিনি বলেন, ‘নগর পরিকল্পনায় পুঁজির প্রভাব বেশি থাকায় শ্রেণিভিত্তিক বৈষম্য বৃদ্ধি পাচ্ছে। সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে।’
"পুকুর, উঠান, পাড়া-মহল্লা ও খেলার মাঠ একসময় আমাদের সামাজিক যোগাযোগের মূল কেন্দ্র ছিল। অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও দখলদারিত্বের কারণে তা আজ সংকুচিত। উন্নয়ন মানে কেবল অবকাঠামো নির্মাণ নয়, উন্নয়ন মানে মানুষের জন্য সুস্থ ও মানবিক জীবন নিশ্চিত করা।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশের নগর (ঢাকা কেন্দ্রিক আলোচনা)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ড. আদিল মুহাম্মদ খান (আইপিডি), ড. মুহাম্মদ আরিফুল ইসলাম (বিআইপি), অধ্যাপক আকতার মাহমুদ (আইপিডি উপদেষ্টা), মুহাম্মদ উল্লাহ (জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬টি সুপারিশ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!