📌 স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত বলেছেন, রাজনৈতিক চাপের বশে কোনো মানহীন মেডিকেল কলেজের অনুমোদন দেওয়া হবে না। তিনি আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের ওপর জোর দিয়েছেন এবং বিদেশ থেকে ডিগ্রি নিয়ে আসা চিকিৎসকদের রেজিস্ট্রেশন পরীক্ষায় মাত্র ৩০% উত্তীর্ণ হওয়ার উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত বুধবার (৪ নভেম্বর) মহাখালীতে অনুষ্ঠিত ‘অ্যাসেসর ট্রেনিং’ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বলেছেন, সরকার মানহীন মেডিকেল কলেজের অনুমোদন বন্ধ রাখবে। তিনি রাজনৈতিক প্রভাব বা চাপের বশে কোনো প্রতিষ্ঠানকে মেডিকেল কলেজ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত বলেছেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে কোনো নতুন বেসরকারি মেডিকেল কলেজের অনুমোদন দেওয়া হয়নি।
- 📌 প্রভাবশালী মহলের চাপ সত্ত্বেও সরকার মান ও নির্ধারিত শর্ত পূরণ না করলে কোনো প্রতিষ্ঠানকে মেডিকেল কলেজ হিসেবে অনুমোদন দেওয়া হবে না।
- 📌 ৫০% মেডিকেল কলেজ ঢাকায় পুঞ্জীভূত থাকা সত্ত্বেও দেশের অন্যান্য বিভাগে ভারসাম্যহীনতা দূর করতে সরকার পরিকল্পিত স্বাস্থ্য কাঠামো গড়ে তুলতে চায়।
- 📌 বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন ফর মেডিকেল এডুকেশনের মানদণ্ড মেনে না চললে চিকিৎসকদের বৈশ্বিক কর্মক্ষেত্র সংকুচিত হবে।
- 📌 বিদেশ থেকে ডিগ্রি নিয়ে আসা চিকিৎসকদের রেজিস্ট্রেশন পরীক্ষায় মাত্র ৩০% উত্তীর্ণ হয়েছে।
- 📌 অভিভাবকদের সন্তানদের বিদেশে পাঠানোর আগে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মান যাচাই করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
📰 বিস্তারিত
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত বলেছেন, “দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত আমরা নতুন কোনো বেসরকারি মেডিকেল কলেজের অনুমোদন দিইনি। এতে প্রভাবশালী বিভিন্ন মহলের পক্ষ থেকে তীব্র চাপ আসছে। কিন্তু মান ও নির্ধারিত শর্ত পূরণ না করে কাউকে মেডিকেল কলেজ করতে দেওয়া হবে না। হাসপাতাল ছাড়া মেডিকেল কলেজ হবে আর রোগী না দেখে কেউ চিকিৎসক হয়ে যাবে—এমন পরিস্থিতি চলতে পারে না।”
তিনি দেশের মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজের বৈষম্য ও ভৌগোলিক অসম বণ্টনকে সমালোচনা করে বলেন, “দেশের প্রায় ৫০ শতাংশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজই ঢাকা বিভাগে পুঞ্জীভূত। অথচ বাকি সাতটি বিভাগে ভারসাম্যহীনতা স্পষ্ট। সংসদ বা রাজনৈতিক বক্তৃতায় নিজ জেলা বা উপজেলায় মেডিকেল কলেজ চাওয়ার প্রবণতা পরিহার করে পরিকল্পিতভাবে স্বাস্থ্য কাঠামো গড়ে তুলতে হবে।”
আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, “বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদিত ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন ফর মেডিকেল এডুকেশনের নিয়ম মেনে অ্যাক্রিডিটেশন অর্জন না করলে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের চিকিৎসকদের বৈশ্বিক কর্মক্ষেত্র সংকুচিত হয়ে পড়বে। চিকিৎসকদের পেশাগত মর্যাদা ও আস্থা ফেরাতে আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখা এখন বাধ্যতামূলক।”
বিদেশ থেকে ডিগ্রি নিয়ে আসা শিক্ষার্থীদের প্রসঙ্গে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি জানান, “সম্প্রতি বিদেশ থেকে পাস করে আসা চিকিৎসকদের রেজিস্ট্রেশন পরীক্ষায় মাত্র ৩০ শতাংশ উত্তীর্ণ হয়েছেন। সন্তানদের কষ্টার্জিত অর্থ ব্যয় করে বিদেশে পাঠানোর আগে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মান যাচাই করতে অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।”
"দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত আমরা নতুন কোনো বেসরকারি মেডিকেল কলেজের অনুমোদন দিইনি। এতে প্রভাবশালী বিভিন্ন মহলের পক্ষ থেকে তীব্র চাপ আসছে। কিন্তু মান ও নির্ধারিত শর্ত পূরণ না করে কাউকে মেডিকেল কলেজ করতে দেওয়া হবে না।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মহাখালী, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫০ শতাংশ (ঢাকায় মেডিকেল কলেজ), ৩০ শতাংশ (বিদেশি ডিগ্রিধারী চিকিৎসকদের রেজিস্ট্রেশন উত্তীর্ণ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!