📌 যশোরের কেশবপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজে ৪,২৫১ শিক্ষার্থীর ইংরেজি পড়ান ১ শিক্ষক; রসায়নে কেউ নেই; কৃষিশিক্ষা পড়ান ভূগোলের শিক্ষক। অধ্যক্ষ আসাদুজ্জামান ও শিক্ষক এনায়েত হোসেনের বক্তব্য।
যশোরের কেশবপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজে শিক্ষকসংকট এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে কৃষিশিক্ষা পড়াচ্ছেন ভূগোলের শিক্ষক, আর রসায়ন বিভাগে একজনও শিক্ষক নেই — খণ্ডকালীন শিক্ষক দিয়ে কোনোরকমে চলছে। চার হাজার ২৫১ শিক্ষার্থীর ইংরেজি ক্লাস নিচ্ছেন মাত্র একজন শিক্ষক — অথচ ইংরেজিতে শিক্ষক থাকার কথা তিনজন। নামে সরকারি কিন্তু সরকারি কোনো সুবিধার আওতায় আসেনি ঐতিহ্যবাহী এই ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি — যা ২০১৮ সালের আগস্টে সরকারি হয়েছিল।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 কলেজ: কেশবপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজ, যশোর — প্রতিষ্ঠা ১৯৬৮; সরকারি ২০১৮ সালের আগস্ট।
- 📌 শিক্ষার্থী: ৪,২৫১; জমি: ৮ একর ২৭ শতক; ৬৫ জন শিক্ষক, ঘাটতি ১১ জন।
- 📌 কৃষিশিক্ষা: পদ ২, শিক্ষক ০ — ভূগোলের শিক্ষক পড়াচ্ছেন।
- 📌 রসায়ন: পদ ২, শিক্ষক ০ — খণ্ডকালীন ১ জন; ৩০০ শিক্ষার্থী (এইচএসসি + ডিগ্রি)।
- 📌 ইংরেজি: পদ ৩, শিক্ষক ১ + খণ্ডকালীন ১ — ৪,২৫১ শিক্ষার্থীর জন্য।
- 📌 কোর্স: একাদশ-দ্বাদশ (বিজ্ঞান/মানবিক/বাণিজ্য), ডিগ্রি পাস, স্নাতক (অনার্স) ৭ বিষয়ে; স্নাতকোত্তর নেই।
- 📌 অনার্স বিষয়: বাংলা, ইতিহাস, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, অর্থনীতি, হিসাববিজ্ঞান, ব্যবস্থাপনা, ভূগোল।
- 📌 শ্রেণিকক্ষ সংকট: পুরোনো ভবন; ভূগোল বিভাগের ছাদ দিয়ে চুইয়ে পানি পড়ে; বৃষ্টিতে পানি জমে।
- 📌 কর্মচারী: তৃতীয়-চতুর্থ শ্রেণি ৫ জন; মাস্টার রোলে ১৬ জন অস্থায়ী।
- 📌 অধ্যক্ষ: আসাদুজ্জামান; শিক্ষা প্রকৌশলী: ইলিয়াস আলী (৬ তলা ভবন প্রস্তাব)।
📰 বিস্তারিত
কৃষিশিক্ষা বিষয়ে দুজন শিক্ষক থাকার কথা থাকলেও নেই একজনও। তাই কৃষিশিক্ষা পড়ান ভূগোলের শিক্ষক। আর চার হাজার শিক্ষার্থীর ইংরেজি ক্লাস নেওয়ার জন্য আছেন মাত্র একজন শিক্ষক — অথচ ইংরেজি বিষয়ে শিক্ষক থাকার কথা ছিল তিনজন। রসায়ন বিষয়ে শিক্ষকের পদ আছে দুটি, কিন্তু একজনও নেই। এইচএসসি ও স্নাতক (ডিগ্রি) মিলিয়ে রসায়নবিজ্ঞান পড়তে হয় তিন শত শিক্ষার্থীকে। খণ্ডকালীন একজন শিক্ষক দিয়ে কোনোরকমে চলছে রসায়ন বিষয়ে পাঠদান।
যশোরের কেশবপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজে শিক্ষকসংকটের কারণে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় সমস্যা হচ্ছে। এর পাশাপাশি শ্রেণিকক্ষসহ নানা সংকটও আছে। কলেজটিতে বিজ্ঞান, মানবিক ও বাণিজ্য শাখার আওতায় একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ডিগ্রি পাস কোর্স সাতটি বিষয়ে স্নাতক (অনার্স) কোর্স চালু আছে। তবে এখানে স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) নেই। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলেছেন, নামে সরকারি কিন্তু সরকারি কোনো সুবিধার আওতায় আসেনি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি।
🏫 শিক্ষার্থীদের কষ্ট ও শিক্ষকদের চাপ
দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী নাজমুছ সাকিব বলেন, তাদের কৃষিশিক্ষা বিষয়ে ক্লাস নেন ভূগোল বিভাগের শিক্ষক। বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক না থাকায় তাদের খুব অসুবিধা হচ্ছে। কলেজটির ইতিহাস বিভাগের প্রধান আবদুল হান্নান বলেন, প্রতিষ্ঠানটি সরকারি হয়েছে — কিন্তু সরকারি প্রতিষ্ঠানের কোনো সুযোগ-সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে না। কলেজের সবচেয়ে বড় সংকট শ্রেণিকক্ষ — একটি পুরোনো ভবনে শিক্ষার্থীদের ক্লাস নেওয়া হয়। ভূগোল বিভাগের ওপর ছাদ দিয়ে চুইয়ে চুইয়ে পানি পড়ে। একটু বৃষ্টিতেই ভবনে পানি উঠে যায়, তখন শিক্ষার্থীরা ক্লাসে বসতে পারেন না।
পাঠদানের চাপে হিমশিম খাচ্ছেন ইংরেজি বিষয়ের শিক্ষক আবু নাসের বিপ্লব। তিনি বলেন, ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও অনেক ক্লাস নিতে পারেন না — একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর ক্লাস নিলে পাঠদান সঠিকভাবে হয় না। ভূগোল বিভাগের বিভাগীয় প্রধান এনায়েত হোসেন (ছয় মাস পরে অবসর) ভূগোল বিভাগের শিক্ষক হয়েও কৃষিশিক্ষা পড়াতে বাধ্য হচ্ছেন বলে জানান — এখন দুটি বিষয়ে পড়াতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের মতো রাত জেগে নিজেকে পড়তে হচ্ছে।
🏛️ প্রশাসনিক প্রতিক্রিয়া
কলেজ সূত্রে জানা যায়, এ কলেজে ৬৫ জন শিক্ষক আছেন, ঘাটতি ১১ জন। কৃষিশিক্ষা ও রসায়ন বিষয়ে কোনো শিক্ষক না থাকায় পাঠদান ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সরকারি প্রতিষ্ঠানের যে আধুনিক ল্যাব–সুবিধা থাকা দরকার, তার কিছুই নেই এখানে। তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী আছেন পাঁচজন; অস্থায়ী ভিত্তিতে মাস্টার রোলে ১৬ জনকে বেতন দিয়ে প্রশাসনিক কাজ চালাতে হচ্ছে।
কলেজের নতুন ভবন নির্মাণের বিষয়ে যশোরের শিক্ষা প্রকৌশলী ইলিয়াস আলী বলেন, ছয়তলা ভবন নির্মাণের প্রস্তাব শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের কাছে পাঠানো হয়েছে — প্রস্তাবটি পাস হলে নতুন ভবন নির্মাণ করা হবে। কলেজটির অধ্যক্ষ আসাদুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, নানা সংকটের বিষয়ে বারবার মন্ত্রণালয়ে জানিয়েও কোনো প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না — তারপরও টাকা দিয়ে খণ্ডকালীন শিক্ষক দিয়ে পাঠদান চালিয়ে নেওয়া হচ্ছে। নতুন জাতীয়করণ কলেজগুলোয় শিক্ষক নিয়োগের নীতিমালা চূড়ান্ত হয়নি বলে তিনি জানান।
"এখন দুটি বিষয়ে পড়াতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের মতো রাত জেগে নিজেকে পড়তে হচ্ছে। নিজে পড়ে রপ্ত করে তারপর ক্লাসে যেতে হচ্ছে। এতে তাঁর জন্য বাড়তি চাপ হয়ে যাচ্ছে।" — এনায়েত হোসেন, বিভাগীয় প্রধান, ভূগোল
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- কলেজ: কেশবপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজ, যশোর
- প্রতিষ্ঠা: ১৯৬৮; সরকারি: আগস্ট ২০১৮
- শিক্ষার্থী: ৪,২৫১
- জমি: ৮ একর ২৭ শতক
- শিক্ষক: ৬৫; ঘাটতি: ১১
- কৃষিশিক্ষা: পদ ২, শিক্ষক ০ (ভূগোলের শিক্ষক পড়ান)
- রসায়ন: পদ ২, শিক্ষক ০ (খণ্ডকালীন ১); ৩০০ শিক্ষার্থী
- ইংরেজি: পদ ৩, শিক্ষক ১ + খণ্ডকালীন ১; ৪,২৫১ শিক্ষার্থী
- অনার্স বিষয়: ৭ (বাংলা, ইতিহাস, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, অর্থনীতি, হিসাববিজ্ঞান, ব্যবস্থাপনা, ভূগোল)
- তৃতীয়-চতুর্থ শ্রেণি কর্মচারী: ৫; মাস্টার রোল: ১৬
- অধ্যক্ষ: আসাদুজ্জামান
- শিক্ষা প্রকৌশলী: ইলিয়াস আলী (৬ তলা ভবন প্রস্তাব)
- ইতিহাস বিভাগ প্রধান: আবদুল হান্নান; ভূগোল বিভাগ প্রধান: এনায়েত হোসেন
- ইংরেজি শিক্ষক: আবু নাসের বিপ্লব
- শিক্ষার্থী: নাজমুছ সাকিব (দ্বাদশ শ্রেণি)
- সূত্র: প্রথম আলো, জেলা বিভাগ (সরকারি কলেজ সংকট ধারাবাহিক — ২য় পর্ব)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!