📌 জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধুসভার পাঠচক্রে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'মহেশ' গল্পের মানবিক ও সমাজতাত্ত্বিক দিক নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনায় গফুর ও মহেশের আত্মিক বন্ধন, সামন্ততান্ত্রিক শোষণ এবং বর্তমান সমাজের প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে গভীর আলোচনা হয়
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধুসভার পাঠচক্রে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কালজয়ী গল্প ‘মহেশ’ নিয়ে গত ৩১ আগস্ট বিকেলে গভীর আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এই আলোচনায় গ্রামবাংলার শোষিত মানুষের জীবনযাত্রা, সামন্ততান্ত্রিক সমাজের নির্মম শোষণ এবং এক হতদরিদ্র কৃষক গফুর ও তার পোষা বলদ মহেশের আত্মিক বন্ধনের মানবিক গভীরতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৩১ আগস্ট বিকেলে জাবি বন্ধুসভার পাঠচক্রে শরৎচন্দ্রের ‘মহেশ’ গল্পের আলোচনা অনুষ্ঠিত হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০ নম্বর কক্ষে।
- 📌 আলোচক মারিয়া মুরাদ গল্পের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন, যেখানে দরিদ্র কৃষক গফুরের জীবনের নিঃস্বতা এবং তার পোষা বলদ মহেশের সাথে অকৃত্রিম বন্ধনকে কেন্দ্র করে আলোচনা হয়।
- 📌 মাইনুদ্দিন হাওলাদার বলেন, ‘মহেশ’ গল্পে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় তৎকালীন সমাজব্যবস্থা ও ধর্মীয় গোঁড়ামির প্রান্তিক মানুষের উপর পড়া প্রভাব তুলে ধরেছেন। গফুরের আর্তনাদ “মহেশ আমার ছেলে, ও যে কথা কইতে পারে না” আজও সমাজের অসংগতির বিরুদ্ধে নীরব প্রতিবাদ হিসেবে প্রাসঙ্গিক।
- 📌 আলোচনায় উপস্থিত বন্ধুরা গল্পের চরিত্র বিশ্লেষণ, সমাজকাঠামো এবং মানবিক সম্পর্কের দিকগুলো নিয়ে নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেন।
- 📌 পাঠচক্রের উদ্দেশ্য হিসেবে পারভেজ মোশাররফ বলেন, তরুণদের মধ্যে পাঠাভ্যাস গড়ে তোলা এবং সাহিত্যের মাধ্যমে মানবিক সমাজ গঠনের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া বন্ধুসভার মূল লক্ষ্য।
📰 বিস্তারিত
গ্রন্থআশ্রমের সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত এই পাঠচক্রে মূল আলোচক ছিলেন পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক মারিয়া মুরাদ। তিনি গল্পের প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করে বলেন, ‘মহেশ’ গল্পে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় তৎকালীন জমিদার ও সমাজপতিদের শোষণ-নিপীড়নের চিত্র তুলে ধরেছেন। গফুরের জীবনযাত্রায় তীব্র অনাহার, সামাজিক বৈষম্য এবং ধর্মীয় গোঁড়ামির প্রভাব স্পষ্টভাবে দেখা যায়। গফুরের পোষা বলদ মহেশের সাথে তার অকৃত্রিম বন্ধন বাংলা সাহিত্যের একটি অবিস্মরণীয় সৃষ্টি।’
যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাইনুদ্দিন হাওলাদার বলেন, ‘শরৎচন্দ্র “মহেশ” গল্পের মধ্য দিয়ে কেবল এক দরিদ্র কৃষকের হাহাকার দেখাননি; বরং দেখিয়েছেন কীভাবে তৎকালীন সমাজব্যবস্থা, জাতপাত ও ধর্মের ভণ্ডামি প্রান্তিক মানুষকে ভেতর থেকে ভেঙে ফেলে। গফুরের সেই আর্তনাদ—“মহেশ আমার ছেলে, ও যে কথা কইতে পারে না”—আজও সমাজের অসংগতি ও নির্মম বাস্তবতার বিরুদ্ধে এক নীরব প্রতিবাদ।’
আলোচনায় উপস্থিত বন্ধুরা গল্পের চরিত্র বিশ্লেষণ, সমাজকাঠামো এবং সম্পর্কের মানবিক দিকগুলো নিয়ে নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি ও পাঠ-অনুভূতি প্রকাশ করেন। তারা বলেন, গল্পে প্রান্তিক মানুষের বঞ্চনা ও ধর্মের অনুশাসনকে ব্যবহার করে দুর্বলকে কোণঠাসা করার চিত্র বর্তমান সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে কতটা প্রাসঙ্গিক তা নিয়ে প্রাণবন্ত মতবিনিময় হয়।
পাঠচক্রে উপস্থিত ছিলেন সভাপতি সৈয়দ সালমান হাসান, সাংগঠনিক সম্পাদক সিফাত আরেফিন, অর্থ সম্পাদক পারভেজ মোশাররফ এবং বন্ধু সাকিব আহমেদসহ বন্ধুসভার অন্যান্য সদস্যরা।
"গল্পের মধ্য দিয়ে কেবল এক দরিদ্র কৃষকের হাহাকার দেখাননি; বরং দেখিয়েছেন কীভাবে তৎকালীন সমাজব্যবস্থা, জাতপাত ও ধর্মের ভণ্ডামি প্রান্তিক মানুষকে ভেতর থেকে ভেঙে ফেলে। গফুরের সেই আর্তনাদ—‘মহেশ আমার ছেলে, ও যে কথা কইতে পারে না’—আজও সমাজের অসংগতি ও নির্মম বাস্তবতার বিরুদ্ধে এক নীরব প্রতিবাদ।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, টিএসসি ১০ নম্বর কক্ষ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মারিয়া মুরাদ, মাইনুদ্দিন হাওলাদার, পারভেজ মোশাররফ, সৈয়দ সালমান হাসান, সিফাত আরেফিন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩১ (আগস্ট), ১০ (কক্ষ নম্বর)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!