📌 গাইবান্ধার দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শরিফুল ইসলাম পরিবেশবান্ধব কাগজের কলম ও খাতা তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন এবং বর্তমানে দৈনিক ৫০টি কলম ও ১০০টি খাতা তৈরি করে বিক্রি করেন। বাণিজ্যমেলায় তার স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে
গাইবান্ধা সদর উপজেলার উত্তর ফলিয়া গ্রামের একটি টিনের ঘরে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শরিফুল ইসলাম (২৯) পরিবেশবান্ধব কলম ও খাতা তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। জন্মগত দৃষ্টিহীনতা সত্ত্বেও তিনি উচ্চশিক্ষা অর্জন করেছেন এবং নিজের উদ্যোগের মাধ্যমে পরিবেশের ক্ষতির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি অর্থনৈতিক স্বাবলম্বী হতে চেষ্টা করছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 শরিফুল ইসলাম (২৯) গাইবান্ধা সদর উপজেলার উত্তর ফলিয়া গ্রামের বাসিন্দা, জন্মগত দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হলেও তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন।
- 📌 তিনি কাগজের কলম ("গ্রিন ইকোনমি") ও খাতা তৈরি করে বিক্রি করেন, যেখানে একটি কলম তৈরিতে খরচ হয় ৬ টাকা, বিক্রি করেন ১০ টাকায়।
- 📌 দৈনিক তিনি ৫০টি কলম ও ১০০টি খাতা তৈরি করেন, প্রতিটি খাতার খরচ ১৫ টাকা, বিক্রি ২০ টাকায়। মাসে ৯ থেকে ১০ হাজার টাকা আয় হয়, কিন্তু বাবার দোকানের আয়ের উপর নির্ভরশীল সংসার।
- 📌 ২০২৩ সালের মার্চে খাতা তৈরির কাজ শুরু করেন শরিফুল। এক বছর পর তিনি কলম তৈরির পদ্ধতি শিখেন এবং নিজের ব্র্যান্ড "গ্রিন ইকোনমি" চালু করেন।
- 📌 ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া গাইবান্ধা বাণিজ্যমেলায় তার স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
📰 বিস্তারিত
শরিফুল ইসলামের পড়াশোনার পথ ছিল অনন্য। দশম শ্রেণি পর্যন্ত ব্রেইল পদ্ধতিতে পড়াশোনা করার পর তিনি অডিও শুনে ও শ্রুতলেখকের সহযোগিতায় এসএসসি থেকে স্নাতকোত্তর পর্যন্ত পড়াশোনা সম্পন্ন করেন। অর্থসংকটে পড়াশোনা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হলে তিনি খাতা ও কলম তৈরির কাজ শুরু করেন। ২০১৫ সালে এসএসসি এবং ২০১৭ সালে এইচএসসি পাস করার পর তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন এবং ২০২১ সালে স্নাতক (সম্মান) ও ২০২৫ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন।
শরিফুলের পরিবারও তার পথে সহায়তা করছে। তার বাবা রফিকুল ইসলাম (৭৬) মুদিদোকানি এবং মা মনোয়ারা বেগম গৃহিণী। পাঁচ ভাই-বোনের মধ্যে তিনি চতুর্থ। তার দুই বোন রাশেদা ও ফরিদা বিয়ে করেছেন, আর দুই ভাই শহিদুল ও মোস্তফা ঢাকায় পোশাকশ্রমিকের কাজ করেন।
শরিফুলের স্ত্রী তানিয়া আকতার তার উদ্যোগকে সমর্থন করেন। তিনি বলেন, “স্বামী দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হলেও তিনি নিজের মেধা ও ইচ্ছাশক্তি কাজে লাগিয়ে নিজের পায়ে দাঁড়িয়েছেন। আমি সব সময় তাঁকে উৎসাহ দিই।” শরিফুলের দোকান “শরিফুল পেপার হাউস” নামের, যেখানে তিনি দৈনিক ৫০টি কলম ও ১০০টি খাতা তৈরি করেন। দোকানের মাসিক ভাড়া ৫০০ টাকা।
শরিফুলের কলম ও খাতা বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও দোকানে বিক্রি হয়। তিনি দাবি করেন, “কাগজের কলম ব্যবহারের পর ফেলে দিলে শুধু শিষ ও নিব ছাড়া বাকি অংশ সহজেই পচে যায়। প্লাস্টিকের কলমের চেয়ে পরিবেশের ক্ষতি কম হয়। ভবিষ্যতে বড় পরিসরে এই কাজ করতে চাই, কিন্তু মূলধনের অভাবে চাহিদা অনুযায়ী কলম ও খাতা তৈরি করতে পারছি না।”
"কাগজের কলম ব্যবহারের পর ফেলে দিলে শুধু শিষ ও নিব ছাড়া বাকি অংশ সহজেই পচে যায়। প্লাস্টিকের অন্যান্য কলমের চেয়ে এতে পরিবেশের ক্ষতি কম হয়।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: উত্তর ফলিয়া গ্রাম, গাইবান্ধা সদর উপজেলা, গাইবান্ধা; পুলবন্দি বাজার, গাইবান্ধা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: শরিফুল ইসলাম (২৯), তানিয়া আকতার, রফিকুল ইসলাম (৭৬), মনোয়ারা বেগম, জাহিদুল ইসলাম (স্কুলশিক্ষক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৯ বছর (শরিফুল), ৭৬ বছর (রফিকুল ইসলাম), ১০০টি কলম, ৬ টাকা (কলম তৈরির খরচ), ১০ টাকা (কলম বিক্রয়), ৫০টি কলম (দৈনিক), ১৫ টাকা (খাতা তৈরির খরচ), ২০ টাকা (খাতা বিক্রয়), ১০০টি খাতা (দৈনিক), ৫০০ টাকা (দোকান ভাড়া), ৯-১০ হাজার টাকা (মাসিক আয়)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!