📌 নওগাঁর সাপাহার উপজেলায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক শামসুর রহমান নিজের পেনশন ও জমির টাকা দিয়ে বাড়ির আঙিনায় ‘প্রকৃতির পাঠশালা’ গড়ে তুলেছেন। এখনো বিনামূল্যে উন্মুক্ত এই বিনোদনকেন্দ্র শিশুদের পাশাপাশি বড়দেরও আকর্ষণ করে চলেছে।
নওগাঁর সাপাহার উপজেলার তিলনা গ্রামে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক শামসুর রহমানের বাড়ি এখনো শিশুদের জন্য একটি স্বর্গ। পেনশনের টাকা এবং নিজের ৯০ শতাংশ জমি বিক্রি করে তিনি বাড়ির আঙিনায় ‘প্রকৃতির পাঠশালা’ গড়ে তুলেছেন, যা স্থানীয়ভাবে ‘বিনোদনকেন্দ্র’ নামে পরিচিত। এখানে শিশুদের জন্য নানা ধরনের খেলনা, ফুল-ফলের গাছ এবং পশু-পাখির প্রতিকৃতি রয়েছে। প্রতিদিন বিকেলে শিশুরা এখানে ভিড় করে, তাদের সঙ্গে আসেন অভিভাবকরা।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 শামসুর রহমান নিজের পেনশন ও জমির টাকা দিয়ে বাড়ির আঙিনায় ‘প্রকৃতির পাঠশালা’ গড়ে তুলেছেন, যা বিনামূল্যে উন্মুক্ত
- 📌 ৫০ লাখ টাকা খরচ করে গড়ে তোলা এই বিনোদনকেন্দ্রে শিশুদের জন্য স্লিপার, দোলনা, খেলনার সামগ্রী এবং ফুল-ফলের গাছ রয়েছে
- 📌 ৯০ শতাংশ জমি বিক্রি করে এবং ধান-আম বিক্রির টাকা দিয়ে এই প্রকল্পে বিনিয়োগ করেছেন শিক্ষক
- 📌 সাপাহার উপজেলা সদর থেকে ৯ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই ‘প্রকৃতির পাঠশালা’ শিশুদের মানসিক বিকাশের জন্য একটি অনন্য উদ্যোগ
- 📌 তিলনা ইউনিয়ন পরিষদ এই প্রকল্পকে প্রশংসা করে পুরস্কার বিতরণের অনুষ্ঠান আয়োজন করেছে
📰 বিস্তারিত
শামসুর রহমানের বাড়ি নওগাঁর সাপাহার উপজেলার তিলনা গ্রামের ধন্টিপাড়ায় অবস্থিত। তিনি চাঁচাহার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন। অবসর নেওয়ার পর তিনি নিজের পেনশনের টাকা দিয়ে বাড়ির আঙিনায় একটি শিশুপার্কের মতো বিনোদনকেন্দ্র গড়ে তুলেছেন। স্থানীয়রা এটি ‘প্রকৃতির পাঠশালা’ নামে পরিচিত। তিনি বলেন, ‘আমাদের উপজেলায় শিশুদের মানসিক বিকাশ বা চিত্তবিনোদনের কোনো ব্যবস্থা নেই। আমি সারা জীবন শিশুদের জন্য কাজ করেছি। বাকি জীবনটাও শিশুদের কল্যাণে কাটিয়ে দিতে চাই।’
এই বিনোদনকেন্দ্রে শিশুদের জন্য স্লিপার, দোলনা, খেলনার বিভিন্ন সামগ্রী এবং ফুল-ফলের গাছ রয়েছে। শিশুদের পাশাপাশি বড়দেরও এখানে আকর্ষণ করে চলেছে। শামসুর রহমানের বাড়ির আঙিনায় ঢোকার পথে একটি বিশাল তোরণ রয়েছে, যেখানে লেখা ‘শামসুর রহমান ভবন’। বাড়ির পাশে একটি পুকুরঘাট এবং বিনোদনকেন্দ্রের প্রবেশপথে একটি সাইনবোর্ড রয়েছে, যেখানে লেখা ‘ফুল না তোলার জন্য ধন্যবাদ’। প্রতিদিন সকালে তিনি নিজেই পুরো পার্ক পরিষ্কার করেন এবং ফুল গাছে পানি দেন।
তিলনা ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য দেলোয়ার হোসেন চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ‘এটি শিক্ষক শামসুর রহমানের এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। এটি শুধু শিশুদের জন্য নয়; বড়দেরও কাজে লাগছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘কয়েক দিন আগে আমরা ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে সেখানে একটি পুরস্কার বিতরণীর অনুষ্ঠান করেছিলেন।’
"আমাদের উপজেলায় শিশুদের মানসিক বিকাশ বা চিত্তবিনোদনের কোনো ব্যবস্থা নেই। গ্রামে কেউ একটুকরো ফাঁকা জায়গা ফেলে রাখে না। সব বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়। আমি সারা জীবন শিশুদের জন্য কাজ করেছি। বাকি জীবনটাও শিশুদের কল্যাণে কাটিয়ে দিতে চাই।"
শামসুর রহমানের তিন মেয়ে। সবার বিয়ে হয়ে গেছে। বড় মেয়ের স্বামী এনআরবি ব্যাংকের রাজশাহীর কাশিয়াডাঙ্গা উপশাখার ব্যবস্থাপক খোরশেদ আলম বলেন, ‘আমার শ্বশুর সারা জীবনই মানুষের জন্য কিছু না কিছু করার চেষ্টা করেছেন। এখনো স্কুলের বাচ্চাদের জন্য টিফিন ক্যারিয়ার, কলম, খাতা—এসব নিয়ে প্রতি সপ্তাহে কোনো না কোনো স্কুলে হাজির যান। তাঁর কাছ থেকে সবার শেখার আছে।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নওগাঁর সাপাহার উপজেলা, তিলনা গ্রাম, ধন্টিপাড়া
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: শামসুর রহমান (অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫০ লাখ টাকা (খরচ), ৯০ শতাংশ জমি, ৯ কিলোমিটার (সাপাহার থেকে দূরত্ব)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!