📌 ‘দ্য ইউনিভার্সিটি অব চানখাঁরপুল’ চলচ্চিত্রটি ছাত্ররাজনীতির ক্ষমতা, সহিংসতা ও ব্যক্তিসত্তার বিলুপ্তির নির্মম চিত্র তুলে ধরেছে। পরিচালক আকাশের নির্মাণে ক্ষমতার প্রতীক হিসেবে ঘোড়ার উপস্থিতি এবং বারবার ব্যবহৃত ‘ভাই’ শব্দটি রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে প্রতীকায়িত করেছে
ছাত্ররাজনীতির ক্ষমতা ও সহিংসতার নির্মম চিত্র তুলে ধরা চলচ্চিত্র ‘দ্য ইউনিভার্সিটি অব চানখাঁরপুল’। পরিচালক আকাশের নির্মাণে ক্ষমতার প্রতীক হিসেবে ঘোড়ার উপস্থিতি এবং বারবার ব্যবহৃত ‘ভাই’ শব্দটি রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে প্রতীকায়িত করেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 চলচ্চিত্রটির নামকরণ পুরান ঢাকার ঐতিহাসিক চানখাঁরপুল এলাকার সঙ্গে মিল থাকলেও এটি আসলে ছাত্ররাজনীতির নির্মম বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি
- 📌 ছবিতে ক্ষমতা, লোভ, অর্থ, সহিংসতা ও ব্যক্তিসত্তার বিলুপ্তির মতো বিষয়গুলো উঠে এসেছে
- 📌 প্রায় প্রতিটি সংলাপে ব্যবহৃত ‘ভাই’ শব্দটি ক্ষমতার কাঠামো ও আনুগত্যের প্রতীক হিসেবে কাজ করেছে
- 📌 পরিচালক আকাশের সূক্ষ্ম নির্মাণে ফুটে উঠেছে ছাত্রাবাসের আবদ্ধ পরিবেশে মানুষের স্বাধীন চিন্তাশক্তির বন্দিত্ব
- 📌 ছবির অন্যতম প্রধান প্রতীক হিসেবে ঘোড়াটি ক্ষমতার প্রতীক ও পরিবর্তনের পূর্বাভাস হিসেবে কাজ করেছে
📰 বিস্তারিত
‘দ্য ইউনিভার্সিটি অব চানখাঁরপুল’ নামটি শুনে প্রথমেই মনে হয়েছিল পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী চানখাঁরপুল এলাকা বা সেখানকার মানুষদের নিয়ে নির্মিত কোনো চলচ্চিত্র। এমনকি আজম খানের বিখ্যাত গান ‘চানখাঁরপুলে প্যাডেল মেরে পৌঁছে বাড়ি...’-এর স্মৃতিও ভেসে উঠেছিল। কিন্তু চলচ্চিত্রটি দেখতে বসে দর্শক উপলব্ধি করেন, এটি আসলে জুলাই ২০২৪-এর পূর্ববর্তী সময়ের ছাত্ররাজনীতির নির্মম ও ব্যঙ্গাত্মক প্রতিচ্ছবি। পরিচালক আকাশ তাঁর নির্মাণে ক্ষমতা, লোভ, অর্থ, সহিংসতা ও ব্যক্তিসত্তার বিলুপ্তির মতো বিষয়গুলো অত্যন্ত শক্তিশালীভাবে তুলে ধরেছেন।
ছবিটির অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো প্রায় প্রতিটি সংলাপে ব্যবহৃত ‘ভাই’ শব্দটি। প্রায় হাজারের বেশি বার উচ্চারিত এই শব্দটি ক্ষমতার কাঠামো, আনুগত্য ও পরিচয়হীনতার প্রতীক হিসেবে কাজ করেছে। ফলে দর্শক কোনো চরিত্রকে তার নিজস্ব নামে মনে রাখতে পারেন না; সবাই হয়ে যায় শুধুই ‘ভাই’। পরিচালক দেখিয়েছেন কীভাবে ছাত্রাবাসের আবদ্ধ পরিবেশ মানুষের স্বাধীন চিন্তাশক্তিকে বন্দী করে ফেলে। শিক্ষার্থীরাই নয়, শিক্ষকেরাও যেন সেই ক্ষমতার বলয়ের বাইরে দাঁড়াতে পারেন না। ফলে শিক্ষকের সামনেই ছাত্ররা ক্ষমতা প্রদর্শন করে।
চরিত্রগুলোর নৈতিক অবক্ষয় পরিচালক অত্যন্ত নির্দয়ভাবে তুলে ধরেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণেই মাদক গ্রহণ, চাঁদাবাজি কিংবা অসামাজিক কর্মকাণ্ড তাদের কাছে স্বাভাবিক হয়ে ওঠে। বিবেকের কোনো বাধা যেন আর কাজ করে না। ছবিটির সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য প্রতীক হলো একটি ঘোড়ার উপস্থিতি। প্রথম দিকে আকস্মিক মনে হলেও পরবর্তী সময়ে এটি ক্ষমতার প্রতীক, পরিবর্তনের পূর্বাভাস এবং ঘটনার মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার শক্তিশালী রূপক হিসেবে কাজ করেছে।
"ছবিটির নাম ‘ভাই’ বা ‘ইউনিভার্সিটি অব ভাই’ হলেও খুব একটা অযৌক্তিক হতো না। পুরো ছবিতে ‘ভাই’ শব্দটি সম্ভবত হাজারের বেশিবার উচ্চারিত হয়েছে। প্রায় প্রতিটি সংলাপের শুরু বা শেষে এই সম্বোধন ব্যবহৃত হয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: পুরান ঢাকা, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: পরিচালক আকাশ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: প্রায় হাজার বার উচ্চারিত ‘ভাই’ শব্দ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!