📌 বলিউডের প্রখ্যাত অভিনেতা সঞ্জীব কুমার তার জীবনের শুরুতে অভাবের সংসারে মাত্র দুই সেট জামা নিয়ে মুম্বাইয়ে অভিনয় শুরু করেছিলেন। পরবর্তীতে তিনি বন্ধুদের জন্য প্রায় ৯৬ লাখ টাকা ঋণ দিয়েছিলেন, যার বেশিরভাগই ফেরত পাননি। সাংবাদিক হানিফ জাভেরির সাক্ষাৎকারে এই তথ্য উঠে এসেছে
বলিউডের অন্যতম মহানায়ক সঞ্জীব কুমার তার জীবনের শুরুতে অভাবের সংসারে মাত্র দুই সেট জামা নিয়ে মুম্বাইয়ে অভিনয় শুরু করেছিলেন। কিন্তু তারকা হওয়ার পরেও তিনি অর্থের প্রতি তার দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করেননি। সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে চলচ্চিত্র সাংবাদিক হানিফ জাভেরি জানিয়েছেন, সঞ্জীব কুমার বন্ধুদের প্রয়োজনে প্রায় ৯৬ লাখ টাকা ঋণ দিয়েছিলেন, যার বেশিরভাগই ফেরত পাননি। তারপরও তিনি বন্ধুদের সাহায্য করার জন্য নিজের অর্থ জমিয়ে রাখার চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সঞ্জীব কুমার তার জীবনের শুরুতে অভাবের সংসারে মাত্র দুই সেট জামা নিয়ে মুম্বাইয়ে অভিনয় শুরু করেছিলেন।
- 📌 সাংবাদিক হানিফ জাভেরির মতে, সঞ্জীব বন্ধুদের জন্য প্রায় ৯৬ লাখ টাকা ঋণ দিয়েছিলেন, যার বেশিরভাগই ফেরত পাননি।
- 📌 সঞ্জীব শত্রুঘ্ন সিনহাকে ৫ থেকে ৭ লাখ টাকা দিয়েছিলেন এবং তার ক্যারিয়ার তৈরিতেও ভূমিকা রেখেছিলেন।
- 📌 সঞ্জীব কুমার তার জীবনের কঠিন সময়ে ‘সি গ্রেড’ ছবিতে অভিনয় করতেন, কিন্তু তার অভিনয় দক্ষতা তাকে পরবর্তীতে বড় তারকা হিসেবে প্রতিষ্ঠা দিয়েছিল।
- 📌 ‘শোলে’ ও ‘কোশিশ’ ছবিতে তার অভিনয় জাতীয় পুরস্কার পেয়েছিল।
📰 বিস্তারিত
সঞ্জীব কুমার, যিনি বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা, তার আসল নাম ছিল হরিহর জেঠালাল জারিওয়ালা। গুজরাটের একটি পরিবার থেকে উঠে আসা এই অভিনেতার ছোটবেলা থেকেই অভিনয়ের প্রতি আগ্রহ ছিল। কিন্তু অভিনয়কে পেশা হিসেবে নেওয়ার পথটি সহজ ছিল না। পরিবারেও তখন আর্থিক টানাপোড়েন ছিল। মুম্বাইয়ে অভিনয়ের চেষ্টা করার সময় সঞ্জীবের পরিবার চরম অর্থকষ্টের মধ্যে ছিল। তাঁর মা বাবার প্রায় ভেঙে পড়া ব্যবসা সামলানোর চেষ্টা করছিলেন। অন্যদিকে অভিনয়ে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার লড়াইয়ে ব্যস্ত সঞ্জীব। সঞ্জীবের নিজের পরার মতো পোশাকও ছিল অল্প। সাংবাদিক হানিফ জাভেরির মতে, সঞ্জীবের কাছে ছিল মাত্র দুই সেট জামাকাপড়।
শুরুর দিকে সঞ্জীব যে ধরনের ছবিতে অভিনয়ের সুযোগ পেতেন, সেগুলোর অনেকগুলোই ছিল ‘সি গ্রেড’ সিনেমা। কিন্তু তখন ছবির মান বিচার করার মতো অবস্থায় ছিলেন না তিনি। পরিবারের প্রয়োজন ছিল টাকা, আর তাঁর প্রয়োজন ছিল কাজ। সঞ্জীব জানতেন না যে তিনি যে ছবিগুলো করছেন, সেগুলোকে ‘সি গ্রেড’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তিনি শুধু জানতেন, কাজ পাওয়া যাচ্ছে এবং সেই কাজ থেকে টাকা আসছে। এই সময়টিই পরবর্তী তারকা সঞ্জীব কুমারের জীবনের সবচেয়ে কঠিন অধ্যায়গুলোর একটি।
ধীরে ধীরে পরিচালকদের নজরে পড়তে শুরু করেন সঞ্জীব। অভিনয়ের স্বাভাবিক দক্ষতা, সংলাপ বলার ধরন এবং চরিত্রের ভেতরে ঢুকে যাওয়ার ক্ষমতা তাঁকে আলাদা করে তুলেছিল। ষাটের দশকের শেষভাগ থেকে সঞ্জীবের ক্যারিয়ার ঘুরতে শুরু করে। এরপর আর পেছনে তাকাতে হয়নি তাঁকে। ‘খিলোনা’, ‘দস্তক’, ‘কোশিশ’, ‘সীতারাম’, ‘মৌসম’, ‘আঁধি’, ‘ত্রিশূল’, ‘শোলে’—একটির পর একটি গুরুত্বপূর্ণ সিনেমায় নিজের অভিনয়ের ছাপ রাখেন তিনি। ‘শোলে’তে ঠাকুর বলদেব সিং চরিত্রে সঞ্জীবের অভিনয় তাঁকে আরও বড় পরিসরে পরিচিত করে। অন্যদিকে ‘কোশিশ’-এ শ্রবণ ও বাক্প্রতিবন্ধী এক মানুষের চরিত্রে অভিনয় করে তিনি দেখিয়েছিলেন, সংলাপ ছাড়াও কীভাবে অভিনয় দিয়ে দর্শকের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি করা যায়। এ ছবির জন্য জাতীয় পুরস্কারও পেয়েছিলেন সঞ্জীব। ‘দস্তক’ ছবির জন্যও জাতীয় পুরস্কারে সম্মানিত হন তিনি।
"সঞ্জীব অপ্রয়োজনীয় খরচ পছন্দ করতেন না, কিন্তু প্রয়োজনের সময় বন্ধু ও কাছের মানুষদের পাশে দাঁড়াতে কার্পণ্য করতেন না। বন্ধুদের জন্য প্রায় ৯৬ লাখ টাকা ঋণ দিয়েছিলেন তিনি, যার বেশিরভাগই ফেরত পাননি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মুম্বাই, গুজরাট
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সঞ্জীব কুমার (হরিহর জেঠালাল জারিওয়ালা), হানিফ জাভেরি, শত্রুঘ্ন সিনহা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৯৬ লাখ টাকা (ঋণ), ৫-৭ লাখ টাকা (শত্রুঘ্ন সিনহাকে), ২ সেট জামা (শুরুর সময়)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!