📌 বলিউড অভিনেতা শ্রেয়স তলপড়ে তার নতুন ছবি 'দ্য ইন্ডিয়া স্টোরি'-তে অভিনয়ের পর খাদ্যে সতর্কতা নিয়ে কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন, খাবার খেতে বসলেই প্রশ্ন জাগে যে এটি কি আসল বা ভেজাল। পরিবারের সদস্যদের অস্বস্তি এড়াতে তিনি ওটিটিতে সতর্কতা প্রকাশ করেছেন
বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা শ্রেয়স তলপড়ে তার নতুন চলচ্চিত্র ‘দ্য ইন্ডিয়া স্টোরি’-তে অভিনয়ের পর খাদ্যে নিরাপত্তা নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, খাবার খেতে বসলেই প্রশ্ন জাগে যে আসলে আমরা কী খাচ্ছি। খাদ্যে ভেজাল ও কৃষিকাজে কীটনাশকের ব্যবহার নিয়ে নির্মিত এই চলচ্চিত্রে তিনি গম্ভীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন, যা তার অভিনয় জীবনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ‘দ্য ইন্ডিয়া স্টোরি’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের পর শ্রেয়স তলপড়ে খাবারের নিরাপত্তা নিয়ে সতর্ক হয়ে উঠেছেন। তিনি বলেছেন, “খেতে বসলেই ভাবি, আসলে কী খাচ্ছি”।
- 📌 অভিনেতা দুধ ও পনির খাওয়ার পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছেন এবং নির্ভরযোগ্য জায়গা থেকে খাবার কেনার চেষ্টা করছেন।
- 📌 চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি খাদ্যে ভেজাল নিয়ে সচেতনতা তৈরির আহ্বান জানিয়েছেন, কিন্তু দর্শকদের নিজস্ব সচেতনতা বৃদ্ধির উপরও জোর দিয়েছেন।
- 📌 ‘দ্য ইন্ডিয়া স্টোরি’র চরিত্রটি তার বাস্তব জীবনের সাথে মিলিয়ে দেখেছেন শ্রেয়স। ডাবিংয়ের সময় আবেগের কারণে তিনি কিছু দৃশ্যে চোখে জল আসার কথা উল্লেখ করেছেন।
- 📌 তিনি বলেছেন, অভিনয়শিল্পীরা কাজের মাধ্যমে সচেতনতা তৈরি করতে পারেন, কিন্তু দর্শকদের সেটি গ্রহণের দায়িত্বও তাদের নিজস্ব।
- 📌 শ্রেয়স ওটিটির প্রসারের সুযোগকে অভিনয়শিল্পীদের জন্য নতুন পরীক্ষা-নিরীক্ষার ক্ষেত্র হিসেবে দেখছেন, কিন্তু দায়িত্বশীলতা ও সতর্কতার উপর জোর দিয়েছেন।
📰 বিস্তারিত
মুম্বাইয়ের রেহেজা ক্লাবে প্রথম আলোর প্রতিনিধি দেবারতি ভট্টাচার্যের সাথে আড্ডা দিতে গিয়ে শ্রেয়স তলপড়ে তার নতুন চলচ্চিত্র ‘দ্য ইন্ডিয়া স্টোরি’-তে অভিনয়ের পর খাদ্যে সতর্কতার কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন, “এখন খাবার সামনে এলেই মনে প্রশ্ন জাগে—এটি কোথা থেকে এসেছে, কতটা নিরাপদ? এমনকি দুধ খাওয়া বন্ধ করেছি, পনিরও অনেক কমিয়ে দিয়েছি। কোনটি আসল আর কোনটি ভেজাল, বোঝা কঠিন। তাই যতটা সম্ভব নির্ভরযোগ্য জায়গা থেকে খাবার কেনার চেষ্টা করি।”
শ্রেয়স বলেছেন, এই চলচ্চিত্রের প্রস্তুতির সময় তিনি অনেক গবেষণা করেছেন। তিনি মনে করেন, খাদ্যে ভেজাল নিয়ে সচেতনতা তৈরির জন্য শুধু সিনেমা বানানো যথেষ্ট নয়। দর্শকদেরও প্রশ্ন তুলতে হবে। তিনি বলেন, “অভিনয়শিল্পীরা কাজের মাধ্যমে একটি বক্তব্য তুলে ধরতে পারেন। কিন্তু দর্শক সেটি কীভাবে গ্রহণ করবেন, সেই সিদ্ধান্ত তাঁদেরই। সচেতনতা তৈরির জন্য মানুষের নিজের আগ্রহও প্রয়োজন।”
‘দ্য ইন্ডিয়া স্টোরি’তে শ্রেয়স এক কন্যাসন্তানের বাবার চরিত্রে অভিনয় করেছেন। বাস্তব জীবনে বাবা হওয়ায় এই চরিত্রটি তার কাছে ব্যক্তিগত হয়ে উঠেছে। তিনি বলেছেন, “ছবির অনেক দৃশ্যকে নিজের জীবনের সঙ্গে মিলিয়ে দেখেছি। কয়েকটি দৃশ্য এতটাই আবেগপ্রবণ ছিল যে ডাবিংয়ের সময়ও নিজেকে সামলাতে পারিনি। এমনও হয়েছে, আবেগ সামলাতে না পেরে সেদিন আর ডাবিং করতে পারিনি। কাজটি পরের দিনের জন্য রেখে দিতে হয়েছে।”
শ্রেয়স বলেছেন, তিনি অভিনয়শিল্পী হিসেবে শুধু একটি ঘরানায় আটকে থাকতে চান না। তিনি মনে করেন, প্রতিদিন একই ধরনের চরিত্রে অভিনয় করলে একসময় একঘেয়েমি চলে আসে। তিনি বলেন, “আমি এই ইন্ডাস্ট্রিতে এসেছি নানা ধরনের চরিত্রে অভিনয় করতে। নতুন চরিত্রের মধ্য দিয়ে নিজেকে আবিষ্কার করতেই সবচেয়ে বেশি আনন্দ পাই।”
ওটিটির প্রসারের সুযোগ নিয়ে তিনি বলেছেন, “প্রেক্ষাগৃহ ও টেলিভিশনের পাশাপাশি মুঠোফোনের মাধ্যমে এখন দর্শকের কাছে গল্প পৌঁছে দেওয়া সম্ভব। নতুন বিষয় ও ভিন্নধর্মী গল্প নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ ওটিটিতে বেশি। তবে এই স্বাধীনতার সঙ্গে দায়িত্বশীলতাও জরুরি। গল্পের প্রয়োজন না থাকলে অকারণে গালিগালাজ কিংবা অস্বস্তিকর দৃশ্য রাখা উচিত নয়।”
শ্রেয়স বলেছেন, তিনি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নিজের ছবি দেখতে পছন্দ করেন। তিনি চান না, ছবি দেখতে গিয়ে তাঁরা অস্বস্তিতে পড়েন। তিনি বলেন, “মেয়েকে নিয়ে ওটিটিতে কিছু দেখার সময়ও ভয় হয়—কখন গালিগালাজ বা অস্বস্তিকর দৃশ্য চলে আসে। সত্যি বলতে, পরিবারের সবাই একসঙ্গে বসে দেখতে পারেন, এমন কাজের সংখ্যা কমে যাচ্ছে।”
"অভিনয়শিল্পীরা কাজের মাধ্যমে একটি বক্তব্য তুলে ধরতে পারেন। কিন্তু দর্শক সেটি কীভাবে গ্রহণ করবেন, সেই সিদ্ধান্ত তাঁদেরই। সচেতনতা তৈরির জন্য মানুষের নিজের আগ্রহও প্রয়োজন।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মুম্বাই, ভারত
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: শ্রেয়স তলপড়ে
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১ (চলচ্চিত্র ‘দ্য ইন্ডিয়া স্টোরি’)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!