📌 ২০০৩ সালের সাক্ষাৎকারে কবি শামসুর রাহমান বলেছেন, ‘৫০০ বছর বাঁচতে চাই’। তিনি জীবনের প্রতি আস্থা প্রকাশ করে বলেছেন, ‘সুন্দর পৃথিবীতে বেঁচে থাকতে চাই’। ছেলে মতিনের মৃত্যু ও পরিবারের হারানোর কথা উল্লেখ করে তিনি মানবিক দুঃখের কথা তুলে ধরেন
২০০৩ সালের ১৬ অক্টোবর শ্যামলীর বাসভবনে কবি শামসুর রাহমানের এক সাক্ষাৎকারে তিনি জীবনের প্রতি অটল আস্থা ও অস্বাভাবিক মুহূর্তে মানুষের আত্মহত্যার বিষয়ে গভীর চিন্তা প্রকাশ করেন। সাক্ষাৎকারটি প্রথম আলোর সাহিত্য সাময়িকীতে ২০০৭ সালের ১৭ আগস্ট প্রকাশিত হয়েছিল। সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘৫০০ বছর বাঁচতে চাই’—একটি স্বপ্ন যা তার জীবনের প্রতি আস্থার প্রতীক হয়ে দাঁড়ায়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৫০০ বছরের স্বপ্ন: কবি শামসুর রাহমান বলেন, ‘সৃজনশীল মানুষের ৫০০ বছর বাঁচা উচিত’। তিনি স্বীকার করেন, ‘আমি শিশু’—মাত্র ৭৪ বছর বয়সে।
- 📌 আত্মহত্যার অস্বাভাবিক মুহূর্ত: তিনি বলেন, ‘অস্বাভাবিক মুহূর্তে মানুষ আত্মহত্যা করে’। স্বাভাবিক অবস্থায় মানুষ বেঁচে থাকতে চায়।
- 📌 ছেলে মতিনের মৃত্যু: শামসুর রাহমানের ছেলে মতিন গ্রামের বাড়ির পুকুরে ডুবে মারা যান। তিনি বলেন, ‘ওর মৃত মুখ দেখতে চাইনি’—এতে অনেকে তাকে নিষ্ঠুর মনে করেছিল।
- 📌 জীবনের প্রতি আস্থা: তিনি বলেন, ‘আমি বেঁচে থাকতে চাই, যত দিন যত বছর বেঁচে থাকা যায়’। ‘সুন্দর পৃথিবীতে বেঁচে থাকার ইচ্ছা’ তার জীবনের মূল চালিকাশক্তি।
📰 বিস্তারিত
সাক্ষাৎকারে নাসির আলী মামুন শামসুর রাহমানকে প্রশ্ন করেন, ‘১৯৮৫ সালে আপনি বলেছিলেন, একজন সৃজনশীল মানুষ বা কবির কমপক্ষে ৫০০ বছর বাঁচা উচিত। আপনার মাত্র ৭৪ চলছে, তার মানে এখনো আপনি শিশু’। এর উত্তরে কবি হাসতে হাসতে বলেন, ‘হা হা হা...’। তিনি বলেন, ‘৫০০ বছর বাঁচা উচিত’ কথাটি এখনো বলছি। মানুষ তো ৫০০ বছর বাঁচে না, কিন্তু আমি চাই, ‘চট করে মরে যেতে চাই না’।
শামসুর রাহমান আত্মহত্যার বিষয়ে বলেন, ‘অস্বাভাবিক মুহূর্তে মানুষ আত্মহত্যা করে’। তিনি বলেন, ‘স্বাভাবিক অবস্থায় মানুষ মরতে চায় না’। পরিবারের মধ্যে, সমাজের মধ্যে, কাজের ক্ষেত্রে সহকর্মীদের মধ্যে বেঁচে থাকতে চায়। কিন্তু অস্বাভাবিক মুহূর্তে নিজেকে ধ্বংস করে ফেলার ইচ্ছা আসে। তিনি বলেন, ‘আমি বলব না, মরার জন্য আমি খুব ব্যাকুল; বরং বলব, আমি যাদের ভালোবাসি, যারা আমাকে ভালোবাসে তারাও বেঁচে থাক’।
সাক্ষাৎকারে শামসুর রাহমানের ছেলে মতিনের মৃত্যু নিয়ে আলোচনা হয়। তিনি বলেন, ‘আমার ছেলে মতিন আমাদের গ্রামের বাড়ির পুকুরে ডুবে মারা গেল’। তিনি বলেন, ‘ওর মৃত মুখ দেখতে চাইনি’। তিনি স্বীকার করেন, ‘এতে কেউ কেউ আমাকে খুব নিষ্ঠুর মনে করেছে’।
"বন্ধু, খানিক দাঁড়াও এই/ ঝোপের ধারে। পরে নাহয় পা চালিয়ে/ যাওয়া যাবে অন্য পথে,/ যেখান থেকে আখেরে ঠিক পৌঁছে যাব/ অভীষ্ট সেই সাগরতুল্য সভাস্থলে।"
শামসুর রাহমান বলেন, ‘আমি বাধ্য হয়ে করি তা নয় কিন্তু। তবে এক হিসাবে বাধ্যই’। তিনি বলেন, ‘আমার মন, ধারণা, চিন্তা আমাকে বাধ্য করে কবিতা বা যেকোনো একটা কিছু লিখতে’। তিনি বলেন, ‘সুতরাং যদি আমার মগজ সুস্থ থাকে, চিন্তা করার শক্তি থাকে, তাহলে অনেক অনেক বছর লিখতে চাই’।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: শ্যামলীর বাসভবন, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: কবি শামসুর রাহমান, নাসির আলী মামুন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫০০ বছর (বাঁচার স্বপ্ন), ৭৪ বছর (বয়স), ১৬ অক্টোবর ২০০৩ (সাক্ষাৎকারের তারিখ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!