📌 কবি শহীদ কাদরীর জীবনের অন্তিম দিনগুলোর প্রতিচ্ছবি নিয়ে রচিত হয়েছে নতুন একটি নাটক। বিশ্বসাহিত্যে কেন্দ্রে রিডিং ক্লাব ট্রাস্টের আয়োজনে আসাদুল ইসলামের লেখা নাটকটি মঞ্চস্থ হতে যাচ্ছে
ঢাকার মঞ্চে এবার জীবন্ত হয়ে উঠছে কবি শহীদ কাদরীর জীবনের শেষ দিনগুলোর গল্প। রিডিং ক্লাব ট্রাস্টের ৫৫২তম পাবলিক লেকচারের অংশ হিসেবে গত এপ্রিলে নাট্যকার আসাদুল ইসলাম তাঁর লেখা নাটকটির পাঠ করেন। নাটকটির কেন্দ্রে রয়েছে শহীদ কাদরীর নিউইয়র্কে প্রবাসজীবনের অন্তিম সময়ের আখ্যান।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 শহীদ কাদরীর জীবনের শেষ দিনগুলোর উপর ভিত্তি করে রচিত হয়েছে নতুন একটি নাটক
- 📌 নাটকটির পাঠ করেন নাট্যকার আসাদুল ইসলাম, যা ছিল রিডিং ক্লাব ট্রাস্টের ৫৫২তম পাবলিক লেকচার
- 📌 নিউইয়র্কে প্রবাসজীবনের শেষ সময়ে শহীদ কাদরীর মানসিক ও শারীরিক যন্ত্রণার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে নাটকে
- 📌 নাটকের শুরুতে শহীদ কাদরীর জন্মদিনের অনুষ্ঠানের দৃশ্য ফুটিয়ে তোলা হয়েছে
- 📌 তাঁর মৃত্যুশয্যার বর্ণনা এবং হাসপাতালে ভর্তির প্রস্তুতির দৃশ্য রয়েছে নাটকে
📰 বিস্তারিত
নাট্যকার আসাদুল ইসলামের লেখা এই নাটকটির মূল উপজীব্য শহীদ কাদরীর জীবনের শেষ দিনগুলোর মানসিক ও শারীরিক যন্ত্রণা। নিউইয়র্কের পারসন্স বুলোভার্ডের এগারো বাই এফ অ্যাপার্টমেন্টে একাকী জীবনের বর্ণনা দিয়ে শুরু হয়েছে নাটকটি। শহীদ কাদরী তাঁর জন্মদিনের অনুষ্ঠানের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, "৭৫তম জন্মদিনে সবাই মিলে আমার বাসায় এসে কেক কাটল। খাওয়াদাওয়া করল। গান গাইল। নীরা তার সাধ্যমতো সবাইকে আপ্যায়ন করেছে।"
তিনি তাঁর শারীরিক অবস্থার বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, "শরীরের যে অবস্থা তাতে মোটামুটি সব খাবারই এখন আমার জন্য নিষিদ্ধ। এই যে কেক, মাল্টিলেয়ার কেক, আমার জন্য বিষ। সেই বিষ চুরি করে খাচ্ছি, খেতে ভালো লাগছে। কিন্তু শরীরটা ভালো যাচ্ছে না। ১০ বছর ধরে শরীর ভালো যাচ্ছে না। ১০০ বছর ধরে শরীর ভালো যাচ্ছে না।" তাঁর বর্ণনা অনুযায়ী, তিনি দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করছেন।
নাটকে শহীদ কাদরীর মানসিক যন্ত্রণার বর্ণনা রয়েছে। তিনি বলেন, "আমার গুনাগার হৃদয়ের মধ্যে ছদ্মবেশী গেরিলারা খনন করছে গর্ত, ফাঁদ, দীর্ঘ কাঁটা বেড়া। মগজের মধ্যে অনবরত বেজে চলেছে সাইরেন। অ্যাম্বুলেন্স, সাইরেনের শব্দ, হুইলচেয়ার, হাসপাতাল, ডায়ালিসিস, ডিপ্রেশন, এগুলো আমার জীবনে অনিবার্য হয়ে গেছে।" তাঁর বর্ণনা অনুযায়ী, তিনি দুই দিন ধরে জ্বরে ভুগছেন এবং আগামীকাল সকালে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হবে।
"হাসপাতালের বদান্যতাতেই বেঁচে আছি। এতবার হাসপাতালে গেছি, এত শতবার হাসপাতালে যেতে হয়েছে, হাসপাতাল এখন আমার কাছে একটা সোনালি কিচেন। সেইখানে, সোনালি কিচেনে তুমি, বসন্তের প্রথম দিনেই হত্যা করেছিলে আমাকে, তোমার নিপুণ নিরিখে।"
নাটকের শেষ দিকে শহীদ কাদরী তাঁর মৃত্যুশয্যার বর্ণনা দেন। তিনি বলেন, "রাতটুকু ফুরালেই সকালে আমাকে বহন করে নিয়ে যাবে একটি অ্যাম্বুলেন্স, সাইরেন বাজাতে বাজাতে। আমাকে ভর্তি করানো হবে হাসপাতালে। নর্থ শোর ইউনিভার্সিটি হাসপাতালের শুভ্র বিছানায় শুয়ে, আমি হয়ে যাব একটি সুন্দর রাজহাঁস। রাজহাঁসটি সাঁতার কাটতে কাটতে চলে যাবে; সাঁতার কাটতে কাটতে, সাঁতার কাটতে কাটতে...ডুবসাঁতার, চিতসাঁতার, উবুসাঁতার... সাঁতার দিতে দিতেই আমার যেন বয়োবৃদ্ধি হলো।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নিউইয়র্ক, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: শহীদ কাদরী, আসাদুল ইসলাম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫৫২, ৭৫, ১০, ১০০
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!