📌 সাবিনা ইয়াসমিনের ৭২তম জন্মবার্ষিকী আজ। বাংলাদেশের সঙ্গীত জগতের জীবন্ত কিংবদন্তি এই কণ্ঠশিল্পী ১৯৫৪ সালের এই দিনে সাতক্ষীরায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১০ হাজারাধিক গান গেয়েছেন এবং ১৪ বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ অসংখ্য সম্মাননা পেয়েছেন
সঙ্গীত জগতের অমর কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী সাবিনা ইয়াসমিনের ৭২তম জন্মবার্ষিকী আজ। বাংলাদেশের সঙ্গীতের ইতিহাসে তার অবদান অমর হয়ে আছে। তিনি ১৯৫৪ সালের এই দিনে সাতক্ষীরায় জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা লুতফর রহমান ব্রিটিশ রাজের অধীনে সরকারি কর্মকর্তা ছিলেন এবং মা বেগম মৌলুদা খাতুন ছিলেন একজন কণ্ঠশিল্পী। তার মা সঙ্গীতজ্ঞ ওস্তাদ কাদের বকশের কাছে গানের তালিম নিয়েছিলেন। পাঁচ বোনের মধ্যে ছোট সাবিনার চার বোনই সঙ্গীতের সাথে যুক্ত ছিলেন — ফরিদা ইয়াসমিন, ফৌজিয়া ইয়াসমিন, নীলুফার ইয়াসমিন এবং নাজমা ইয়াসমিন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সাবিনা ইয়াসমিনের জন্মদিন আজ — ৭২তম বার্ষিকী
- 📌 ১৯৫৪ সালের এই দিনে সাতক্ষীরায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি
- 📌 পিতা ছিলেন ব্রিটিশ রাজের সরকারি কর্মকর্তা, মা ছিলেন কণ্ঠশিল্পী
- 📌 মাত্র ৭ বছর বয়সে স্টেজে গান গাওয়ার শুরু
- 📌 ১৩ বছর বয়সে ওস্তাদ পি সি গোমেজের কাছে শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের তালিম শুরু
- 📌 ১৯৬২ সালে 'নতুন সুর' চলচ্চিত্রে শিশুশিল্পী হিসেবে গান গান
- 📌 ১৯৬৭ সালে 'আগুন নিয়ে খেলা' চলচ্চিত্রে পূর্ণাঙ্গ নেপথ্য কণ্ঠশিল্পী হিসেবে আত্মপ্রকাশ
- 📌 ১০ হাজারাধিক গান গেয়েছেন, যার মধ্যে দেশাত্মবোধক গানও রয়েছে
- 📌 ১৪ বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ একুশে পদক ও স্বাধীনতা পুরস্কারসহ সম্মাননা পেয়েছেন
- 📌 বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল আই'য়ে 'শুধু গান গেয়ে পরিচয়' অনুষ্ঠান প্রচারিত হবে
📰 বিস্তারিত
সাবিনা ইয়াসমিনের সঙ্গীত জীবনের শুরু ছিল অতি শৈশবে। মাত্র সাত বছর বয়সে তিনি স্টেজে উঠে গান গেয়েছিলেন। তার বড় বোন ফরিদা ইয়াসমিন ওস্তাদ দুর্গাপ্রসাদ রায়ের কাছে গানের তালিম নিতেন, সাবিনাও বোনের পাশে বসে সেই গানগুলো শিখতেন। প্রতিবেশী সঙ্গীতজ্ঞ আলতাফ মাহমুদ প্রথম তার গায়কী প্রতিভা আবিষ্কার করেন। বাড়িতে বসে হারমোনিয়ামে তিনি প্রথম গানটি শিখেছিলেন 'খোকন মণি সোনা'।
১৯৬২ সালে পরিচালক এহতেশামের উদ্যোগে 'নতুন সুর' চলচ্চিত্রে শিশুশিল্পী হিসেবে গান গাওয়ার সুযোগ পান সাবিনা। এরপর ১৯৬৭ সালে খ্যাতনামা পরিচালক আমজাদ হোসেন ও নুরুল হক বাচ্চু পরিচালিত 'আগুন নিয়ে খেলা' চলচ্চিত্রে তিনি প্লেব্যাক সিঙ্গার হিসেবে সুযোগ পান। তার দীর্ঘ পথচলায় তিনি অসংখ্য দেশাত্মবোধক গান ও চলচ্চিত্রে প্লেব্যাক করেছেন। শুধু চলচ্চিত্রের গানে নয়, তিনি উচ্চাঙ্গ, ধ্রুপদী, লোকসঙ্গীত ও আধুনিক বাংলা গানসহ বিভিন্ন ঘরানার গানে কণ্ঠ দিয়েছেন।
সাবিনা ইয়াসমিনের গাওয়া উল্লেখযোগ্য দেশাত্মবোধক গানগুলোর মধ্যে রয়েছে 'সব কটা জানালা খুলে দাও না', 'ও আমার বাংলা মা', 'জন্ম আমার ধন্য হলো মা গো, মাঝি নাও ছাড়িয়া দে', 'সুন্দর সুবর্ণ তারুণ্য' ও 'একটি বাংলাদেশ তুমি জাগ্রত জনতার'। তিনি প্রখ্যাত ভারতীয় বাঙালি সুরকার আর. ডি. বর্মণের সুরে 'শত্রু' চলচ্চিত্রের গানে কণ্ঠ দিয়েছেন। অন্যদিকে, ইন্দো-বাংলা যৌথ প্রযোজনার 'অন্যায় অবিচার' চলচ্চিত্রে 'ছেড়ো না ছেড়ো না হাত' গানে কণ্ঠ দিয়েছেন।
সাবিনা ইয়াসমিনের গানগুলো তার উচ্চমাত্রায় আসীন করেছে। তিনি জনপ্রিয় গায়ক শ্যামল মিত্রের সাথে ডুয়েটে 'পথের সাথী নামো গো পথে আজ'-গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন। এছাড়া ভূপেন হাজারিকা সুরে ও মাসুদ করিমের গীতে দুটি গান করেছেন। তার গাওয়া উল্লেখযোগ্য গানগুলোর মধ্যে রয়েছে 'ও আমার রসিয়া বন্ধুরে' এবং 'চিঠি দিও প্রতিদিন'।
"সাবিনা ইয়াসমিনের গাওয়া গানগুলো বাংলাদেশের সঙ্গীত জগতে অমর হয়ে আছে। তার প্রতিটি গানই একটি স্মৃতি, একটি অনুপ্রেরণা।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সাতক্ষীরা (জন্মস্থান)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সাবিনা ইয়াসমিন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭২ (বয়স), ১০ হাজার (গান), ১৪ (জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!