📌 জন কিটসের শরতের কবিতা ‘টু অটাম’ এবং বাংলার শরতের প্রকৃতির সৌন্দর্য ও স্মৃতির গভীর মিল নিয়ে আলোচনা করেছেন প্রথম আলো। কিটসের শরত ফলপ্রাচুর্য ও কৃষিকাজের ঋতু হিসেবে চিত্রিত হয়েছে, যেখানে বাংলার শরত আকাশের নীলতা ও শিউলির ঘ্রাণে স্মৃতির ঋতু হিসেবে পরিচিত
বাংলার শরতের সঙ্গে ইংরেজ কবি জন কিটসের শরতের মধ্যে গভীর একটি মিল রয়েছে, যা প্রকৃতি ও স্মৃতির ভাষায় প্রকাশ পেয়েছে। বাংলার শরতকে আমরা আকাশের নীলতা, সাদা মেঘ, কাশফুল ও শিউলির ঘ্রাণের মাধ্যমে চিনি। কিন্তু কিটসের শরতের চিত্র সম্পূর্ণ আলাদা — সেখানে ফলপ্রাচুর্য, শস্য, মধু ও কৃষিকাজের ঋতুকে কেন্দ্র করে তার কবিতা ‘টু অটাম’ রচিত হয়েছে। দুটিই প্রকৃতির পরিণতির ঋতু, কিন্তু অনুভবের ভাষা ভিন্ন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 জন কিটসের ‘টু অটাম’ কবিতায় শরতের চিত্র ফলপ্রাচুর্য ও কৃষিকাজের ঋতু হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে, যেখানে বাংলার শরত আকাশের নীলতা ও শিউলির ঘ্রাণের মাধ্যমে স্মৃতির ঋতু হিসেবে পরিচিত
- 📌 কিটসের শরতের প্রথম স্তবকে ‘সিজন অব মিস্টস অ্যান্ড মেলো ফ্রুটফুলনেস’ (কুয়াশা ও ফলপ্রাচুর্যের ঋতু) উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে বাংলার শরতের সঙ্গে মিল রয়েছে প্রকৃতির পরিণতির দিক থেকে
- 📌 কিটসের শরতের দ্বিতীয় স্তবকে শরতকে মানুষের শ্রমের ঋতু হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছে, যেখানে শস্য কাটা ও কৃষিকাজের ক্লান্তি প্রকাশ পেয়েছে
- 📌 কবি জন কিটস ১৭৯৫ সালের ৩১ অক্টোবর লন্ডনে জন্মগ্রহণ করেন এবং মাত্র ২৫ বছর বয়সে ১৮২১ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি রোমে মৃত্যুবরণ করেন
- 📌 ‘টু অটাম’ কবিতাটি ১৮১৯ সালের সেপ্টেম্বর উইনচেস্টারে হাঁটার সময় রচনা করেন কিটস, যা তিনটি স্তবকে লেখা
📰 বিস্তারিত
বাংলার শরতের সঙ্গে কিটসের শরতের মিল খুঁজে পেতে হলে প্রথমে জানতে হবে, কীভাবে কিটস প্রকৃতিকে তার কবিতায় জীবিত করেছেন। কিটসের শরতের চিত্রে ফলপ্রাচুর্য, শস্য, মধু ও কৃষিকাজের ঋতুকে কেন্দ্র করে তার কবিতা ‘টু অটাম’ রচিত হয়েছে। কিটসের শরতের প্রথম স্তবকে ‘সিজন অব মিস্টস অ্যান্ড মেলো ফ্রুটফুলনেস’ (কুয়াশা ও ফলপ্রাচুর্যের ঋতু) উল্লেখ করা হয়েছে। গাছের আপেল পেকে উঠছে, লতাগুল্ম ফলের ভারে নুয়ে পড়ছে, বাদামের খোলস ভরে উঠছে এবং মৌমাছির চাক মধুতে পূর্ণ। কিটসের শরতের সঙ্গে বাংলার শরতের মিল এই যে, দুটিই প্রকৃতির পরিণতির ঋতু। বাংলার শরত গ্রীষ্ম ও বর্ষার পরে প্রকৃতির এক পরিণত, নির্মল রূপ নিয়ে আসে। তবে কিটসের শরতের সঙ্গে বাংলার শরতের পার্থক্য হলো, কিটসের শরতের চিত্রে ফল ও শস্যকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে, যেখানে বাংলার শরতের চিত্রে আকাশের নীলতা, সাদা মেঘ, কাশফুল ও শিউলির ঘ্রাণকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে।
কিটসের শরতের দ্বিতীয় স্তবকে শরতকে মানুষের শ্রমের ঋতু হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছে। কিটসের শরতের এই স্তবকে দেখা যায়, কৃষকরা শস্য কাটার কাজে লিপ্ত। শস্যাগারের মেঝেতে বসে থাকা কৃষক, অর্ধেক কাটা জমির পাশে ঘুমিয়ে পড়া কৃষক, শস্য ঝাড়ার বাতাসে চুল উড়ানো কৃষক — সবকিছুই কিটসের কবিতায় জীবিত হয়েছে। এখানে শরত শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্য নয়, মানুষের শ্রমেরও ঋতু। কিটস প্রকৃতি ও মানুষকে আলাদা করেননি। ফলের পাকা ভাব, শস্যের পরিণতি, কৃষকের শ্রম, শরতের ক্লান্তি সব এক হয়ে গেছে। তাই কিটসের শরত কেবল সুন্দর নয়, সে কর্মঠও।
কবিতার তৃতীয় স্তবকে কিটস প্রশ্ন করেন, ‘হয়ার আর দ্য সংস অব স্প্রিং? আই, ওয়্যার আর দে?’ (বসন্তের গান কোথায়? তারা কোথায়?)। এই প্রশ্নের মাধ্যমে কিটস শরতের শেষের দিকে আসা শীতের অনুভূতি প্রকাশ করেছেন। কিন্তু কিটসের শরতের এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পেতে হলে জানতে হবে, কীভাবে কিটস প্রকৃতির সৌন্দর্য ও পরিবর্তনের অনুভূতি তার কবিতায় তুলে ধরেছেন। কিটসের শরতের সঙ্গে বাংলার শরতের মিল এই যে, দুটিই পরিবর্তনের ঋতু। বাংলার শরত শৈশবের স্মৃতি, নদীর ধারে কাশবন, শিউলির ঘ্রাণ ও পূজার আগমনীকে স্মরণ করিয়ে দেয়। কিটসের শরতও প্রকৃতির পরিবর্তনের অনুভূতি তুলে ধরেছে।
"সিজন অব মিস্টস অ্যান্ড মেলো ফ্রুটফুলনেস" — জন কিটসের ‘টু অটাম’ কবিতার প্রথম স্তবকে শরতের চিত্র
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: লন্ডন, উইনচেস্টার, রোম
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: কবি জন কিটস, জন হ্যামিলটন রেনল্ডস
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩১ অক্টোবর (১৭৯৫), ২৩ ফেব্রুয়ারি (১৮২১), ২৫ বছর, ১৯ সেপ্টেম্বর (১৮১৯)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!