📌 বলিউডের প্রভাবশালী গোষ্ঠীর বিরোধে ফেলে দিয়েছে বিবেক ওবেরয়ের ক্যারিয়ার। সালমান খানের ৪১টি হুমকির ফোনকলের পর থেকে তিনি বাদ পড়েন সিনেমা থেকে, আন্ডারওয়ার্ল্ডের হুমকি পান তার সমর্থকরা। একসময় নতুন সেনসেশন বিবেকের কীভাবে ধ্বংস হলো বলিউডের লবিবাজির শিকার হয়ে?
বলিউডের এক সময়ের সম্ভাবনাময় তারকা বিবেক ওবেরয়ের ক্যারিয়ারের পতন ঘটে একটি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে। সালমান খানের বিরুদ্ধে ৪১টি ফোনকলের অভিযোগ তুলে তিনি নিজের পেশাগত জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলেন। এ ঘটনার পর থেকে তিনি বাদ পড়েন সিনেমা থেকে, ব্যবসায়িক উদ্যোগে মনোনিবেশ করতে বাধ্য হন। বিবেকের অভিযোগ, বলিউডের ক্ষমতাশালী গোষ্ঠী তাঁকে একঘরে করে দিয়েছিল এবং তাঁর সমর্থকদেরও হুমকি দেওয়া হয়েছিল।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৪১টি হুমকির ফোনকল: ২০০৩ সালের ১ এপ্রিল বিবেক ওবেরয় সালমান খানের বিরুদ্ধে ৪১টি ফোনকলের অভিযোগ তুলেন, যেখানে গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।
- 📌 বিরোধের সূত্রপাত: সালমান খান ও ঐশ্বরিয়া রাইয়ের সম্পর্কের জটিলতা থেকেই এই বিরোধের সূত্রপাত হয়েছিল। বিবেকের সঙ্গে ঐশ্বরিয়ার ঘনিষ্ঠতার খবর প্রকাশিত হলে সংবাদমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়।
- 📌 ক্যারিয়ার ধ্বংস: সংবাদ সম্মেলনের পর থেকে বিবেকের জন্য কাজ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। ২০০৭ সালে ব্যবসাসফল ‘শুটআউট অ্যাট লোখান্ডওয়ালা’ ছবির পরও তিনি ১৪ থেকে ১৫ মাস বাড়িতে বসে থাকতে বাধ্য হন।
- 📌 আন্ডারওয়ার্ল্ডের হুমকি: বিবেকের দাবি, তাঁর পাশে দাঁড়াতে চেয়েছিলেন এমন ব্যক্তিদেরও হুমকি দেওয়া হয়েছিল। তাঁদের বলা হয়েছিল, বিবেকের সঙ্গে কাজ করলে তাদের নিজেদের ও পরিবারের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
- 📌 ব্যবসায়িক উদ্যোগ: অভিনয়ের পাশাপাশি রিয়েল এস্টেট ও অন্যান্য ব্যবসায়িক উদ্যোগে মনোনিবেশ করেন বিবেক। তিনি নিজের জীবিকার নিয়ন্ত্রণ অন্য কারও হাতে রাখতে চাননি বলে জানান।
📰 বিস্তারিত
২০০২ সালে রাম গোপাল ভার্মার কোম্পানি দিয়ে বলিউডে অভিষেক ঘটে বিবেক ওবেরয়ের। প্রথম ছবি ‘সাথিয়া’-তে রোমান্টিক নায়ক হিসেবে এবং ‘রোড’, ‘দম’, ‘যুবা’, ‘মাস্তি’-তে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি দর্শকের কাছে পরিচিতি পান। ২০০৭ সালে মুক্তি পাওয়া ‘শুটআউট অ্যাট লোখান্ডওয়ালা’ ছবিতে মায়া ডোলাসের চরিত্রে অভিনয় করে তিনি আবারও আলোচনায় আসেন। ছবিটি সমালোচকদের প্রশংসা পেয়েছিল এবং বাণিজ্যিক সাফল্য লাভ করেছিল। কিন্তু সেই সাফল্যের পরেও বিবেকের পেশাগত জীবনে বড় ধাক্কা আসে।
২০০৩ সালের ১ এপ্রিল মুম্বাইয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিবেক সালমান খানের বিরুদ্ধে ৪১টি ফোনকলের অভিযোগ তুলেন। তিনি দাবি করেন, সালমান তাঁকে রাতে ৪১ বার ফোন করেছিলেন এবং ফোনে গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছিল। এই ঘটনার পটভূমিতে ছিল সালমান খান ও ঐশ্বরিয়া রাইয়ের সম্পর্কের জটিলতা। বিবেকের সঙ্গে ঐশ্বরিয়ার ঘনিষ্ঠতার খবর প্রকাশিত হলে সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। সালমান খান এই অভিযোগ অস্বীকার করেন, ফলে ঘটনাটি দুই অভিনেতার বক্তব্য ও পাল্টা বক্তব্যের বিষয় হয়ে ওঠে।
বিবেকের দাবি, সংবাদ সম্মেলনের পর থেকেই বলিউডে তাঁর জন্য কাজ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। তিনি বলেন, ইন্ডাস্ট্রির ক্ষমতাশালী মহল থেকে তাঁর বিরুদ্ধে অলিখিত নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছিল। ২০০৭ সালে ‘শুটআউট অ্যাট লোখান্ডওয়ালা’ ব্যবসাসফল হওয়ার পরও তিনি প্রায় ১৪ থেকে ১৫ মাস বাড়িতে বসে থাকতে বাধ্য হন। তিনি জানান, এই সময়ে তিনি শুধু অভিনয়ের ওপর নির্ভর করে জীবিকা নির্বাহ করবেন না বলে সিদ্ধান্ত নেন এবং ব্যবসায়িক উদ্যোগে মনোনিবেশ করেন।
২০২৬ সালের নতুন সাক্ষাৎকারে বিবেক আরও একটি গুরুতর অভিযোগ তুলেন। তিনি দাবি করেন, তাঁকে নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী কয়েকজন পরিচিত ব্যক্তিও আন্ডারওয়ার্ল্ডের হুমকি পেয়েছিলেন। তাঁদের বলা হয়েছিল, বিবেকের সঙ্গে কাজ করলে তাঁদের নিজেদের ও পরিবারের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। এই বক্তব্য বলিউডের সঙ্গে আন্ডারওয়ার্ল্ডের পুরোনো সম্পর্কের বিতর্ককেও নতুন করে সামনে এনেছে।
"ইন্ডাস্ট্রির ক্ষমতাশালী মহল থেকে যেন আমার বিরুদ্ধে অলিখিত নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছিল। পরিস্থিতি এমন হয়েছিল যে আমি হয়ে উঠেছিলাম এমন একজন অভিনেতা, যার সঙ্গে কাজ করতে অনেকেই চাইতেন না।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মুম্বাই
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: বিবেক ওবেরয়, সালমান খান, ঐশ্বরিয়া রাই, রাম গোপাল ভার্মা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪১টি ফোনকল, ১ এপ্রিল, ১৪-১৫ মাস
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!