📌 ইসরায়েলের সাংসদীয় নির্বাচন ও মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল ইরান যুদ্ধের তীব্রতা ও গতিপথে পরিবর্তন আনতে পারে। নেতানিয়াহু ও ট্রাম্পের নীতির প্রতি জনসমর্থন হ্রাসের কারণে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের ভবিষ্যত অজানা হয়ে পড়েছে
ইসরায়েলের সাংসদীয় নির্বাচন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধের তীব্রতা ও গতিপথে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের প্রতি নেতানিয়াহু ও ট্রাম্পের নীতির প্রতি জনসমর্থন হ্রাসের কারণে যুদ্ধের ভবিষ্যত অজানা হয়ে পড়েছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ১৯৯৬ সাল থেকে ইরানের বিরুদ্ধে তার প্রকাশ্য শত্রুতা অব্যাহত রেখেছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ইসরায়েলের ৯৩% ইহুদি উত্তরদাতা ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরায়েল যৌথ হামলাকে সমর্থন করলেও, ৬৬% মনে করেন ইরান-মার্কিন সমঝোতা ইসরায়েলের স্বার্থে ক্ষতিকর
- 📌 নেতানিয়াহু ও ট্রাম্পের নীতির প্রতি জনসমর্থন হ্রাসের কারণে ইরান যুদ্ধের তীব্রতা ও গতিপথে পরিবর্তন আসতে পারে
- 📌 ২০২৪ সালের অক্টোবরে জো বাইডেন ঘোষণা দেন ইসরায়েলি হামলা সমর্থন করবেন না, কিন্তু নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে ইরানের বিরুদ্ধে যৌথ হামলায় জড়ানোর চেষ্টা চালান
- 📌 মার্কিন কংগ্রেসের ‘ওয়ার পাওয়ারস রেজোল্যুশন’ পাস হলেও হোয়াইট হাউস দাবি করে তা আইনগতভাবে বাধ্যবাধকতা তৈরি করে না
- 📌 নেতানিয়াহুর জোট বা গাদি আইজেনকোটের জোটই সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে ব্যর্থ হলেও উভয় শিবিরই ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক ব্যবস্থার প্রতি সমর্থন প্রকাশ করছে
📰 বিস্তারিত
বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ১৯৯৬ সালে প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগেই ইরানের বিরুদ্ধে তার প্রকাশ্য শত্রুতা শুরু করেছিলেন। তিনি ১৯৯২ সালে নেসেটে ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সম্ভাবনার বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন। ওই বছরই তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও শিল্পোন্নত দেশগুলিকে ইরানকে পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জনের প্রযুক্তি অর্জনে বাধা দেওয়ার আহ্বান জানান। ১৯৯৫ সালে প্রকাশিত ‘ফাইটিং টেররিজম’ বইয়ে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে তার অবস্থান পুনরাবৃত্তি করেন। এর পর থেকে ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের মাধ্যমে সামরিক ও গোপন অভিযান চালিয়ে আসছে।
২০০৮ সালে ইসরায়েল জর্জ ডব্লিউ বুশের কাছে ইরানের ভূগর্ভস্থ শক্ত ঘাঁটি ধ্বংসকারী বোমা ও নাতানজের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রে হামলার জন্য ইরাকি আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি চেয়েছিল। বুশ উভয় অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করলেও গোপন অপারেশনের অনুমোদন দেন। ২০১২ সালে নেতানিয়াহু ওবামাকে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি লাল সীমা অতিক্রম করলে হামলা চালানোর জন্য বোঝানোর চেষ্টা করেন। ২০১৫ সালে ইরান পারমাণবিক চুক্তি স্বাক্ষর ঠেকাতে নেতানিয়াহু মার্কিন কংগ্রেসে বক্তব্য দেন।
২০১৮ সালে ট্রাম্প ইরান পারমাণবিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সরে আসার ঘোষণা দিলে তিনি ইসরায়েলের গোয়েন্দা তথ্যের কথা উল্লেখ করেন। ২০২০ সালে নেতানিয়াহুর প্রভাবে ট্রাম্প ইরানের একটি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার কথা বিবেচনা করেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা বাতিল করেন। ২০২৪ সালের অক্টোবরে জো বাইডেন ঘোষণা দেন যে তিনি ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় ইসরায়েলি হামলা সমর্থন করবেন না। তবে পরের বছর নিউইয়র্ক টাইমসের তদন্তে উঠে আসে যে নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে ইরানের বিরুদ্ধে যৌথ হামলায় জড়ানোর চেষ্টা করেছিলেন।
ইসরায়েল ডেমোক্রেসি ইনস্টিটিউটের জরিপে দেখা যায়, মার্চের শুরুতে ইসরায়েলের ৯৩ শতাংশ ইহুদি উত্তরদাতা ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরায়েল যৌথ হামলাকে সমর্থন করলেও, জুন মাসে ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্টাডিজের জরিপে ৬৬ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন ইরান-মার্কিন সমঝোতা ইসরায়েলের স্বার্থে ক্ষতিকর।
"নেতানিয়াহুর তুলে ধরা উপস্থাপনাটি ফেব্রুয়ারি মাসে ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের সরাসরি যুদ্ধে জড়ানোর সিদ্ধান্ত গঠনে বড় ভূমিকা রেখেছিল"
নেতানিয়াহুর জোট বা গাদি আইজেনকোটের জোটই সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে ব্যর্থ হলেও উভয় শিবিরের নেতাদের মধ্যেই ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক ব্যবস্থার প্রতি সমর্থন রয়েছে। নাফতালি বেনেট ওইয়াইর লাপিদ সরাসরি ইরানি সরকারের পতন সমর্থন করেন, আর অ্যাভিগডোর লিবারম্যান ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগুলোয় আঘাত হানার দাবি জানান।
২০২৪ সালের জুন মাসে মার্কিন কংগ্রেসের উভয় কক্ষ ‘ওয়ার পাওয়ারস রেজোল্যুশন’ পাস করে, যেখানে কংগ্রেসের অনুমতি না থাকা পর্যন্ত ইরানের বিরুদ্ধে সহিংসতা থেকে মার্কিন বাহিনীকে প্রত্যাহার করার আহ্বান জানানো হয়। তবে হোয়াইট হাউস দাবি করে যে এ প্রস্তাব আইনগতভাবে বাধ্যবাধকতা তৈরি করে না। পেন্টাগন যুদ্ধের আগে কংগ্রেসের অনুমোদিত বিদ্যমান প্রতিরক্ষা বরাদ্দ থেকেই এ সামরিক অভিযানের অর্থায়ন করেছে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ইসরায়েল, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইরান
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, ডোনাল্ড ট্রাম্প, জো বাইডেন, জর্জ ডব্লিউ বুশ, গাদি আইজেনকোট, নাফতালি বেনেট, ওইয়াইর লাপিদ, অ্যাভিগডোর লিবারম্যান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৯৩%, ৬৬%, ৬১টি আসন, ৬১%
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!